Feedback

জেলার খবর, গাইবান্ধা

হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বর্বর সময় কাটছে শিশু নীরবের

হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বর্বর সময় কাটছে শিশু নীরবের
October 18
08:48am
2020
Mamunur Rashid
Bagha, Rajshahi:
Eye News BD App PlayStore

শিশুটিকে বেঁধে রাখার দৃশ্য দেখে যে কারও মনে হবে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এর পেছনে রয়েছে আট বছরের কষ্টের গল্প। সে যেন মানুষের ক্ষতি করতে না পারে এজন্য সবসময় তাকে বেঁধে রাখা হয়। কয়েক বছর ধরে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতলামারী গ্রামের শরিফুল ইসলাম ও নাছরিন বেগম দম্পতির শিশুসন্তান নীরবের (১০) এমনই বন্দি জীবন কাটছে। বিনা চিকিৎসায় ঝরে যাচ্ছে একটি প্রাণ।

জানা গেছে, বেশি মানুষ দেখলেই নীরবের চোখে-মুখে হিংস্রতা দেখা দেয়। কখনও কামড় দিতে আসে আবার কখনও মাথা দিয়ে আঘাত করতে আসে। সুযোগ পেলেই প্রতিবেশীর ক্ষতি করে। পরিবারের পক্ষ থেকে নীরবের চিকিৎসায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করা হলেও মেলেনি সুস্থতা। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে এখন ছেলের মৃত্যু কামনা করছেন মা নাছরিন বেগম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৮ সালে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতলামারী গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে নাছরিন বেগমের সঙ্গে কুড়িগ্রাম শহরের বাসিন্দা মন্ছুর আলীর ছেলে শরিফুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি নানা বাড়ি নীরবের জন্ম হয়। জন্মের দুদিন পরই অসুস্থ হয়ে পড়ে নীরব। পায়খানার সঙ্গে রক্ত দেখা যায়। প্রথমে তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। এ অবস্থায় নীরবের বাবা ছেলে ও স্ত্রীকে আর নিজ বাড়িতে নিয়ে যাননি। সেই থেকে নীরব নানার বাড়িতেই থাকে।

পরে এক বছর বয়সেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না নীরব। অন্য দশটি শিশুর থেকে আলাদা এক বছরের শিশুকে নিয়ে মা নাছরিন বেগম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে জানতে পারেন বিভিন্ন সমস্যার কথা। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত চিকিৎসা শুরু করেন।

এক বছর পর মাটি খুঁড়ে গর্ত করে নীরবকে সারাদিন গর্তে রাখতে শুরু করে পরিবার। যাতে সে হেলে না পড়ে। এভাবে বছর খানেক রাখার পর হাঁটতে শুরু করলেও কথা বলতে পারে না নীরব। ধীরে ধীরে কথা বলতে পারলেও ভালোমন্দ বুঝতে পারে না। যখন যা মন চায় তাই করতে থাকে। শক্ত বস্তুতে নিজের মাথা ঠুকতে থাকে। এভাবে বছর দুই যেতে না যেতেই মানুষের ক্ষতি করা শুরু করে। তখন তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখতে শুরু করে পরিবারের লোকজন। কিন্তু গাছের সঙ্গে এক হাত বা এক পা বেঁধে রাখলে নিজের মাথা গাছের সঙ্গে ঠুকতে থাকে সে। তাই দুই হাত টানা দিয়ে বেঁধে রাখতে হয়।

ঘুমের ওষুধ ছাড়া কখনও রাতে ঘুমায় না নীরব। প্রতিদিন বিকেলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর রাতে বিছানায় দুই হাত ও দুই পা বেঁধে রাখা হয়। কারণ ঘুম থেকে উঠে সে যেন কারও ওপর আঘাত করতে না পারে।

শিশু নীরবের মা নাছরিন বেগম বলেন, একজন মা কখনও সন্তানের মৃত্যু কামনা করে না। আমি মা হয়ে সন্তানের মৃত্যু কামনা করি। কারণ ছেলেকে সুস্থ করার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। খেয়ে না খেয়ে চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন আর চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। সংসার চলে না। অভাবের কারণে কখনও কখনও ঠিক মতো পেটে খাবার জোটে না। কীভাবে ছেলের চিকিৎসা খরচ চালাব। ১০ বছর বয়সেও সে বিছানায় পায়খানা-প্রস্রাব করে। আল্লাহর কাছে বলি, হয় আমার মরন দাও, না হয় ছেলের মরন দাও। ছেলের কষ্ট আর সহ্য হয় না।

নীরবের নানা নজরুল ইসলাম বলেন, নীরবকে প্রতিদিন সকালে দুই হাত দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখতে হয়। কারণ সে যেন গাছের সঙ্গে মাথা ঠুকতে না পারে। এর আগে অনেক বার গাছের সঙ্গে মাথা আঘাত করায় তার মাথা ফেটে রক্ত বের হয়েছে। বেঁধে না রাখলে তার সমবয়সী শিশুদের মাথা দিয়ে আঘাত করে সে। অনেক সময় মাথা ব্যথার কারণে সে নিজের মাথায় ইট, পাথর অথবা গাছের সঙ্গে আঘাত করে। আমরা এখন কী করবো ভেবে পাচ্ছি না।

নীরবের নানি সুফিয়া বেগম বলেন, আমাদের সহায়সম্বল যা ছিল সব বিক্রি করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে নীরবের চিকিৎসা করেছি। এখন কীভাবে চিকিৎসা করাবো জানি না। বিনা চিকিৎসায় শিশুটি মারা যেতে পারে অথবা এই শিশুর হাতে কেউ মরতে পারে। তাকে নিয়ে আমরা সবসময় টেনশনে থাকি।

স্থানীয় বাসিন্দা ছালমা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট লাগে যখন দেখি শিশু নীরব চিৎকার করে বলছে, আমাকে ছেড়ে দাও খেলতে যাব। প্রতিদিন বেঁধে রাখতে হয় নীরবকে। কারণ সে ভালোমন্দ বোঝে না। কখন কী করতে হয়, কীভাবে খেলাধুলা করতে হয় তাও জানে না। আমাদের দেশে অনেক বিত্তবান লোক আছে। তারা কেউ নীরবের পাশে দাঁড়ালে হয়তো তার জীবন আশার আলো দেখতো।

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সোলায়মান আলী জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নীরবের জন্য তেমন কিছু করার নেই। তবু আমরা চেষ্টা করবো সহায়তা করার। সরকার বা বিভিন্ন সংস্থা যদি নীরবের পাশে দাঁড়াতো তাহলে শিশুটি প্রাণ ফিরে পেত। তাকে আর ধুঁকে ধুঁকে মরতে হতো না।

গাইবান্ধা সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক মো. এমদাদুল হক প্রামাণিক বলেন, জেলায় অনেক প্রতিবন্ধী আছে। যারা অন্যদের থেকে আলাদা তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে আমরা সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।

All News Report

Add Rating:

0

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

বাতিল হতে যাচ্ছে ‘কাফালা বা কপিল প্রথা’: ২০২১ সালের প্রথম ৬ মাসেই বিলুপ্তি কার্যকর হবে

বাতিল হতে যাচ্ছে ‘কাফালা বা কপিল প্রথা’: ২০২১ সালের প্রথম ৬ মাসেই বিলুপ্তি কার্যকর হবে

ফ্রান্সে আরও ৩৫টি ওয়েবসাইট হ্যাক করল Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force

ফ্রান্সে আরও ৩৫টি ওয়েবসাইট হ্যাক করল Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force

কিশোরগঞ্জে জুয়ার আসরে র‌্যাবের হানা, আটক ১০

কিশোরগঞ্জে জুয়ার আসরে র‌্যাবের হানা, আটক ১০

মাত্রাতিরিক্ত ক্রেডিট ফির যাঁতাকলে পিষ্ট হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা"

মাত্রাতিরিক্ত ক্রেডিট ফির যাঁতাকলে পিষ্ট হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা"

ধর্ষণের কারন ও উৎস্য মোবাইলে পর্ণো ছবি ও যৌন উত্তেজক ঔষধ

ধর্ষণের কারন ও উৎস্য মোবাইলে পর্ণো ছবি ও যৌন উত্তেজক ঔষধ

‘হু আর ইউ ' অ্যাম আই এ ক্রিমিনাল? র‍্যাবকে মদ্যপ হাজীপুত্র

‘হু আর ইউ ' অ্যাম আই এ ক্রিমিনাল? র‍্যাবকে মদ্যপ হাজীপুত্র

সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্ত্রীকে ঋণদাতার হাতে তুলে দিলেন স্বামী

সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্ত্রীকে ঋণদাতার হাতে তুলে দিলেন স্বামী

আবারো দুঃসংবাদ দিলো আবহওয়া অধিদপ্তর

আবারো দুঃসংবাদ দিলো আবহওয়া অধিদপ্তর

দুই বিদেশি কুকুর ও ১০ দেহরক্ষী নিয়ে এলাকায় চক্কর দিতেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান!

দুই বিদেশি কুকুর ও ১০ দেহরক্ষী নিয়ে এলাকায় চক্কর দিতেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান!

বাংলা সিনেমার ফিল্ম স্টাইলে দেহরক্ষী নিয়ে চলতেন ইরফান !

বাংলা সিনেমার ফিল্ম স্টাইলে দেহরক্ষী নিয়ে চলতেন ইরফান !

ভয়ে ফরাসি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহবান ফ্রান্সের

ভয়ে ফরাসি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহবান ফ্রান্সের

পাকুন্দিয়া পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনে ঋন জালিয়াতি ও দুর্নীতি

পাকুন্দিয়া পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনে ঋন জালিয়াতি ও দুর্নীতি

মোরগের আক্রমণে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

মোরগের আক্রমণে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force এর একত্র আক্রমণ এ ফ্রান্সের আরো ৩০ ওয়েব সাইট দখল

Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force এর একত্র আক্রমণ এ ফ্রান্সের আরো ৩০ ওয়েব সাইট দখল

রিফাত হত্যা: অপ্রাপ্তবয়স্ক ৬ আসামিকে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ

রিফাত হত্যা: অপ্রাপ্তবয়স্ক ৬ আসামিকে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ

সর্বশেষ

কালজয়ী মাইজভাণ্ডারী মরমী গানের কণ্ঠ শিল্পী "সজল বাবু"

কালজয়ী মাইজভাণ্ডারী মরমী গানের কণ্ঠ শিল্পী "সজল বাবু"

মধুপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যান চালক নিহত

মধুপুরে বাসের ধাক্কায় ভ্যান চালক নিহত

টাঙ্গাইলে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

টাঙ্গাইলে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

বানারীপাড়ায় ক্ষুদে ইঞ্জিনিয়ার মহসিন সরদারের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত

বানারীপাড়ায় ক্ষুদে ইঞ্জিনিয়ার মহসিন সরদারের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত

ব্লকচেইন আগামী প্রযুক্তির নিরাপদ ভিত্তি: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

ব্লকচেইন আগামী প্রযুক্তির নিরাপদ ভিত্তি: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

হবিগঞ্জের দিনারপুরে সরকারি গাছ কর্তন নিয়ে ধ্রুমজাল

হবিগঞ্জের দিনারপুরে সরকারি গাছ কর্তন নিয়ে ধ্রুমজাল

এফপিএবি নোয়াখালীতে যুব মিনি সংসদ নির্বাচন-২০২০ অনুষ্ঠিত

এফপিএবি নোয়াখালীতে যুব মিনি সংসদ নির্বাচন-২০২০ অনুষ্ঠিত

ভিয়েতনামে শক্তিশালী টাইফুন, নিখোঁজ ২৬ জেলে

ভিয়েতনামে শক্তিশালী টাইফুন, নিখোঁজ ২৬ জেলে

সিনহা হত্যা: আবারো ৫ দিনের রিমান্ডে কনস্টেবল রুবেল শর্মা

সিনহা হত্যা: আবারো ৫ দিনের রিমান্ডে কনস্টেবল রুবেল শর্মা

রাজীবপুরে হাত ধোয়া দিবস উদযাপন

রাজীবপুরে হাত ধোয়া দিবস উদযাপন

ঢাবির লাইব্রেরির পেছনে পাওয়া গেল নবজাতকের লাশ

ঢাবির লাইব্রেরির পেছনে পাওয়া গেল নবজাতকের লাশ

মহানবী( সঃ ) কে অবমাননা করায় কলাপাড়ায় বিক্ষোপ সমাবেশ

মহানবী( সঃ ) কে অবমাননা করায় কলাপাড়ায় বিক্ষোপ সমাবেশ

জয়পুরহাটে এমপি'র নামফলক ভাংচুরের অভিযোগ

জয়পুরহাটে এমপি'র নামফলক ভাংচুরের অভিযোগ

আকবরের পলায়ন: কী আছে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে?

আকবরের পলায়ন: কী আছে পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে?

অস্ট্রেলিয়ায় সম্মাননা পেলেন সিলেটের চমন

অস্ট্রেলিয়ায় সম্মাননা পেলেন সিলেটের চমন