Feedback

খোলা কলাম

যৌতুকের অপমৃত্যু! গল্পে গল্পেে বাস্তবতা।

যৌতুকের অপমৃত্যু!  গল্পে গল্পেে বাস্তবতা।
October 17
09:38pm
2020
Md Atik
Fatulla, Narayanganj:
Eye News BD App PlayStore

ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে দাঁত মুখ ব্রাশ করলাম, ওযু করে ফরজ সালাত পরতে মসজিদে চলে যাই । নামাজ শেষে সুস্থ এক আবহাওয়ার সতেজতা মনটাকে উৎফুল্ল করে তুলছে । বাসায় ফিরে কিছুখন বাগানের গাছ গুলোকে পানি দিয়ে, নতুন কিছু গাছের চারা রোপনে মনযোগী হই। কেননা, নবীজি (সাঃ) বলেছেন- তুমি যদি শুনতে পাও কেয়ামত হচ্ছে, আর তখন যদি তোমার সামনে একটি চারা গাছ থাকে সেটাকেও রোপন করো।

তারপর বাগানের একপাশে - চা হাতে নিয়ে পত্রিকা পড়ায় মননিবেশ করি । যেহেতু আমি মুসলিম, তাই অতিআধুনিক ব্যক্তিদের মতো দাঁত বাঁশ না করেই নাস্তা করা আমার পক্ষে শোভা পায় না । আর ইসলাম আমাকে এটা শিক্ষা দেয় না।

যাইহোক পত্রিকার একপ্রান্তে ছোট করে একটি আর্টিকেল এ লেখা আছে - যৌতুকের অপমৃত্যু। পড়ে বুঝলাম, যৌতুক দেওয়ার পরও অতিরিক্ত যৌতুক না দেওয়ায় মেয়েটার নির্মম মৃত্যু  হয়েছে। যেহেতু আমি সাংবাদিক - ক্ষুদ্র পরিসরে এই লেখা দেখে - নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারলাম না ।

আমি মনে মনে ভাবলাম - পুরোটা বিষয় ভালো ভাবে তদন্ত করে জাতির সামনে বড় করে তুলে ধরবো । সেই দিনই যাএা শুরু - ইনভেস্টিগেটিগেশন করার জন্য,  তবে সাংবাদিকতার পরিচয়ে নয়, ছদ্মবেশে । আগেই ঘটনার স্থান, ঠিকানা সব সংগ্রহ করে , সাথে আরো দুইজন কে নিয়ে রওনা হলাম সেই প্রত্যন্ত এলাকার উদ্দেশ্য।

একদিন পর গিয়ে পৌঁছলাম। গাড়িটা নিয়ে গ্রামের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে, গ্রামের অপরুপ সৌন্দর্যকে দুচোখে উপভোগ করা শুরু করলাম । কত বড় গ্রাম!  দেখলে মনে হয় শান্তির নীড় । এখানে কোন মারা-মারি, কাটা-কাটি, খুন, ধর্ষন এগুলা হয় না। যাইহোক সামনে আগানোর পালা। যে বাড়িতে খুনটা হয়েছে সে বাড়ির খোঁজ নিয়ে লাশের ব্যাপারে কথা বলতে গেলাম ।

সে বাড়ির লোকদের জিজ্ঞেস করলাম - কিভাবে খুন হয়েছে, কে খুন করেছে ? এক ভদ্র মহিলা নির্ভয়ে উত্তর দিলো- আমার ছেলে । চোখ দুটো উপরে উঠে গেলো । একটি খুন অথচ তাদের কোন ভয় বা মাথা ব্যাথা নেই । বুঝতে পারলাম এই মহিলা - মেয়েটার শাশুড়ী ছিলো ।

তো তাকে জিজ্ঞেস করলাম - আপনার ছেলে কোথায়? তাকে পুলিশ নিশ্চয়ই গ্রেফতার? মহিলা কাচুমাচু করে বলে - আমার ছেলে তার মামার বাড়ি চলে গেছে । পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এখানে আবার ফিরে আসবে । সাথে সাথে আরেক্টু চমকে গেলাম । বুঝলাম - এখানে তেলের দাম আর ঘি এর দাম সমান । তাই নায্য বিচার এখানে হয়না সম্ভবত । মহিলা হটাৎ করে - অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কিন্তু আপনারা কারা??  আমাকে এত প্রশ্ন করছেন কেনো?? আমরা ঢাকা থেকে এসেছি - ডি বি পুলিশের লোক (পরিচয় গোপন করে মিথ্যা বললাম, যাতে ভয়ে আমাদের কাছে সত্য কথা গুলা বলে)।

ঐ বাড়ি থেকে বের হয়ে, আশেপাশের বাড়ি গুলার খোঁজ খবর নিয়ে জানলাম। এখানে প্রায়ই যৌতুকের জন্য - বাড়ির বউদের কে নির্যাতন, নিপীড়ন করা হয় । প্রশাসনকে কিছু পরিমাণ ঘুষ দিলেই তারা চুপ করে থাকে । এমনকি তারা খুনের মতো সিরিয়াস বিষয়েরও ভালোভাবে তদন্ত করে না। এই খুনটির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে । পুলিশ এসে লাশটিকে দেখে চুপেচুপে কিছু পরিমাণ ঘুষ নিয়ে চলে গিয়েছে । লাশটিকে পোস্ট মর্টাম না করেই মাটি দেওয়া হয়েছে ।   

পাশের বাড়ির এক বৃদ্ধকে গিয়ে খুনটার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম।  উনি বল্লেন - প্রথমে মেয়েটাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে । তারপর বিয়ের কথাবার্তার সময় ছেলের বাবা - মা বলে, আমাদের কিছুর প্রয়োজন নেই আপনাদের মেয়েকে পেলেই আমরা খুশি । বিয়ের দিন তারিখ ঘনাতে থাকলে, ছেলের বাবা - মা আস্তে আস্তে একেকটা যৌতুকের বায়না করে । মেয়ের বাবা মাও মেয়ের ভালোর জন্য হ্যা সম্মতি জানায় । যাই হোক,  সম্পূর্ণ যৌতুক দিয়েই বিয়েটা হয়। ৬ মাস যাওয়ার পরই আবার যৌতুকের জন্য বিভিন্নভাবে মেয়েটাকে তার শাশুড়ী ও ছেলে মেয়েটাকে চাপ প্রয়োগ করে । মেয়েটা তাদের বায়না মতো যৌতুক তার বাবার বাসা থেকে না আনতে পারায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাকে কয়দিন পর পরই । খুনের কিছুক্ষন আগেও যৌতুক নিয়ে মেয়েটাকে অনেক প্রেসার দেওয়া হয়েছিলো । কিন্তু মেয়েটা কোনভাবেই রাজি ইচ্ছিল না ।

তাই মেয়েটাকে ক্রোধের বশবর্তী হয়ে প্রথমে দড়ি দিয়ে খুন করে, তারপর গলাটাকে ছুরি দিয়ে কেটে ফেলে। খুনের সম্পূর্ণ বিবরণ শুনে মানবাধিকার ও যৌতুক নিধন কমিটির কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালাম (যেহেতু পুলিশকে বলে লাভ নেই - ছেলের পক্ষ আবার কিছু পরিমাণ ঘুষ দিলে পুলিশ আবার মুখ বন্ধ করে ফেলবে) । তারা বিষয়টিকে নিয়ে জেলাপ্রশাসকের সাহায্য চাইলো এবং এর সুষ্ঠু বিচারের জন্য আবেদন করলো।

জেলা প্রশাসক নিজ দায়িত্ব সেই এলাকায় এসে বিষয় টা আরো ভালোভাবে জেনে এই মামলাটা উনি নিজ হাতে হ্যান্ডেল করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করলেন । দুইদিনের মধ্যেই ছেলেটাকে আটক করা হয়েছিলো তার মামার বাসা থেকে । তারপর তার বিচার হয়েছিলো - যাবৎ জীবন কারাদণ্ড। তার কেইসটা তো সল্ভ হলো।

কিন্তু হাজারো মেয়ে যৌতুকের কারণে প্রতিদিন নির্যাতিত আর  নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। কত মেয়ে খুন হচ্ছে এই যৌতুকের জন্য। একটা মেয়েকে বড় করতে বাবা - মায়ের কত পরিশ্রম করতে হয় । কত ভালোবেসে একটা মেয়েকে তার বাবা মা বড় করে । সেই মেয়েটাকে আপনার হাতে তুলে দিলো এটাইতো অনেক কিছু । আবার যৌতুক চান কিসের জন্য। আপনি কি কুকুরের থেকেও নিকৃষ্ট হয়ে গেছেন? মাথায় বিবেক বোধ বলতে কিছু নেই?

ইসলাম আমাদের বলেছে- নারীদের দেন মোহর দিতে আর আমরা সেই পদ্ধতিকে উল্টো করে সমাজে যৌতুকের প্রথা চালু করেছি । পশ্চিমা দেশের কালচারকে আমরা জড়িয়ে ধরেছি । ইসলামের রীতি নীতিকে ভুলে যাচ্ছি দিন দিন । আমরা যদি ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী দেন মোহর প্রথাকে প্রাধান্য দিয়ে যৌতুক কে না বলি তাহলে আমাদের নারীরা প্রতিনিয়ত যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হবে না ।

বর্তমানে যৌতুক এক মহামারী আকার ধারণ করতেছে । এটা থেকে যুগ কে বাঁচাতে হলে - স্লোগান দিতে হবে - যৌতুক কে না বলি ।

All News Report

Add Rating:

0

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

শিক্ষক সংকট : করোনা পরবর্তি সময়ে হাবিপ্রবিতে তীব্র সেশনজটের আশঙ্কা

শিক্ষক সংকট : করোনা পরবর্তি সময়ে হাবিপ্রবিতে তীব্র সেশনজটের আশঙ্কা

বীমা শিল্পে নারী জাগরণের পথিকৃৎ রাবেয়া বেগম রুনা

বীমা শিল্পে নারী জাগরণের পথিকৃৎ রাবেয়া বেগম রুনা

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর: ভিডিও ভাইরাল সেলিমের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর: ভিডিও ভাইরাল সেলিমের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

জেনে নিন, দালাল ছাড়াই পাসপোর্ট করার সহজ উপায় !

জেনে নিন, দালাল ছাড়াই পাসপোর্ট করার সহজ উপায় !

হাজী সেলিমের ছেলে ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইরফান সেলিমের এক বছরের কারাদণ্ড

হাজী সেলিমের ছেলে ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইরফান সেলিমের এক বছরের কারাদণ্ড

যে কারণে হাজী সেলিমের ছেলে কে এক বছরের কারাদন্ড

যে কারণে হাজী সেলিমের ছেলে কে এক বছরের কারাদন্ড

ফ্রান্সের আরও ওয়েবসাইট৩৫টি হ্যাক করল Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force ।

ফ্রান্সের আরও ওয়েবসাইট৩৫টি হ্যাক করল Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force ।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে ৩৩ দিন ধরে কলেজ ছাত্রীর অনশন

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে ৩৩ দিন ধরে কলেজ ছাত্রীর অনশন

এসআই আকবর কে পালাতে সহায়তাকারী কে কে  আজ জানা যাবে

এসআই আকবর কে পালাতে সহায়তাকারী কে কে আজ জানা যাবে

১লা নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক শ্রেণির সিলেবাস বাস্তবায়ন কার্যক্রম

১লা নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক শ্রেণির সিলেবাস বাস্তবায়ন কার্যক্রম

মিন্নির মতো এই ১৪ জনেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান রিফাতের বোন

মিন্নির মতো এই ১৪ জনেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান রিফাতের বোন

কাঠালিয়ায় নদীর পাড় থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার

কাঠালিয়ায় নদীর পাড় থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার

সমাবেশেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ

সমাবেশেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ

এসএসসি পরীক্ষার হবে না হবে জানুন

এসএসসি পরীক্ষার হবে না হবে জানুন

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি: জবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি: জবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

সর্বশেষ

ব্লগার ওয়াশিকুর হত্যা মামলায় রায় হয়নি, পুনরায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ৪ নভেম্বর

ব্লগার ওয়াশিকুর হত্যা মামলায় রায় হয়নি, পুনরায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ৪ নভেম্বর

গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি অর্ধশতাধিক ডেঙ্গু রোগী

গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি অর্ধশতাধিক ডেঙ্গু রোগী

মঙ্গলবারই বরখাস্ত পেয়ে যাবেন ইরফান: তাজুল ইসলাম

মঙ্গলবারই বরখাস্ত পেয়ে যাবেন ইরফান: তাজুল ইসলাম

পছন্দের ছেলে রেখে অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা, ঢাবি ছাত্রীর আত্মহত্যা

পছন্দের ছেলে রেখে অন্য ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা, ঢাবি ছাত্রীর আত্মহত্যা

সপরিবারে করোনামুক্ত হলেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র অতিকুল

সপরিবারে করোনামুক্ত হলেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র অতিকুল

মেলান্দহ পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

মেলান্দহ পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিটা শুধু মাত্র জনগণের: নজরুল ইসলাম

মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিটা শুধু মাত্র জনগণের: নজরুল ইসলাম

ইরফান সেলিমের নামে অস্ত্রসহ অন্যান্য মামলা হবে: র‌্যাব ডিজি

ইরফান সেলিমের নামে অস্ত্রসহ অন্যান্য মামলা হবে: র‌্যাব ডিজি

আইনমন্ত্রীর ‘অনেক কাছের লোক’ ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার

আইনমন্ত্রীর ‘অনেক কাছের লোক’ ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার

১ ঘণ্টার উপজেলা চেয়ারম্যান স্কুলছাত্রী পঞ্চগড়ে

১ ঘণ্টার উপজেলা চেয়ারম্যান স্কুলছাত্রী পঞ্চগড়ে

Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force এর একত্র আক্রমণ এ ফ্রান্সের আরো ৩০ ওয়েব সাইট দখল

Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force এর একত্র আক্রমণ এ ফ্রান্সের আরো ৩০ ওয়েব সাইট দখল

আলুর দামে সবচেয়ে বেশি পার্থক্য হয়েছে খুচরা ও পাইকারি বাজারে

আলুর দামে সবচেয়ে বেশি পার্থক্য হয়েছে খুচরা ও পাইকারি বাজারে

নেত্রকোনার সদরে ট্রাকচাপায় অটোরিকশাচালকসহ নিহত ২

নেত্রকোনার সদরে ট্রাকচাপায় অটোরিকশাচালকসহ নিহত ২

ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা!

ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা!

চুনারুঘাটে ৩জন শিকারীকে  ৩ মাসের কারাদন্ড প্রদান

চুনারুঘাটে ৩জন শিকারীকে ৩ মাসের কারাদন্ড প্রদান