Feedback

সাতক্ষীরা, কৃষি-অর্থ ও বাণিজ্য, জেলার খবর

কামরুজ্জামান লিলু এখন সফল ফল চাষী

কামরুজ্জামান লিলু এখন সফল ফল চাষী
October 14
07:11pm
2020
জাহাঙ্গীর আলম কবীর
Satkhira, Satkhira:
Eye News BD App PlayStore

লিলু এখন একজন বহুমুখি ফল চাষে সফল উদ্যোক্তা। কুল ও পেয়ারা চাষের পর এখন মালটা, নাগপুরী কমলা ও চাইনিজ কমলা লেবুর চায় চাষ করছেন। তার বাগানগুলো দেখলে যে কেউ মুগ্ধ না হয়ে পারেন না। এখন বাগানে কুল নেই, আছে মালটা আর কমলা। ফল ধরেছে থোকায় থোকায়। পেয়ারাও আছে সব গাছেই্। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আর আম্পানের ধকল কাটিয়ে টিকে আছে তার দু’দুটো ফলের বাগান। লিলুর বাগান দেখতে আসেন বিভিন্ন এলাকার প্রকৃতি প্রেমিক মানুষজন। তার কাছে পরামর্শ নিতে আসেন দূরদূরান্তের ফল চাষিরাও।   

লিলুর পুরো নাম কামরুজ্জামান লিলু। বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বলাডাঙ্গা গ্রামে। পিতার নাম মাহবুবার রহমান, মাতা সুফিয়া খাতুন। এক সময় বেকারত্বের অভিশাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে কামরুজ্জামান লিলু ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু কোথাও নিজের ইচ্ছা মতো স্বাধীন ভাবে কাজ করার সুযোগ হয়নি। তাই বেছে নেন ফল চাষ। লিলু ২০১৫ সালে পরিবহনের চাকুরি ছেড়ে দেন। তার পুরো সময়টা বিনিয়োগ করেন এই ফল বাগানে। লিলু বলেন, ঈশ্বরদী ও চৌগাছায় পেয়ারা ও কুল বাগান দেখে মনে মনে পরিকল্পনা করেন এই ফলের বাগান করার। তার পরিকল্পনা এখন বাস্তবতার মুখ দেখেছে। তার ঋণ পরিশোধ করে এই মূহুর্তে আয় ব্যয় সমান সমান। বললেন, এবছর মোটা অংকের লাভের মুখ দেখবেন। লিলুর পেয়ারা ও কুল বাগানে গিয়ে দেখা যায়, এখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। তারা সকাল ৭টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কাজ করে। ৫ ঘন্টা কাজ করে পুরুষ শ্রমিকরা পায় ২শ’ টাকা। আর নারী শ্রমিকরা পায় ১শ’ ৫০ টাকা। এভাবে লিলুর ফল বাগানে এসব শ্রমিকরা নিয়মিত কাজ করছে। এরা বাগান পরিচর্যা, ফল তোলা, স্প্রে করা প্রভৃতি কাজ করে থাকে। লিলু জানান, ভরা মওসুমে আরও অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। তিনি নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী, তুজলপুর জিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ২০০৩ সালে কলারোয়া আমনুল্লাহ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। লেখাপড়া বলতে এখানেই শেষ। তারপর বেকার। ২০০৭ সালে চাকুরি নেন একটি ওষুধ কোম্পানীতে, এমপিও পদে।

২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত চাকুরি করেন চিটাগাং ইপিজেড-এ স্টোর কিপার হিসেবে। সর্বশেষ চাকুরি করেন সাতক্ষীরা ঢাকা চলাচলকারী এসপি গোল্ডেন লাইন পরিবহনে। পরিবহনে চাকুরি করার পাশাপাশি শুরু করেন পেয়ারা ও কুল চাষ। ২০১৩ সালে মাত্র তিন বিঘা জমিতে পেয়ারা ও কুল গাছ লাগান তার বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে নেহা গ্রামের মাঠে। বাগান লাগান জমি লিজ বা হারি নিয়ে। দেখতে পান আশাল আলো। চাকুরি ও ফলের চাষ চলতে থাকে দু’টোই এক সাথে। পরের বছরে ১৪ বিঘা জমিতে শুধু পেয়ারা বাগান লাগান। নিজের টাকা ছিল না। তাই ঋণ দিয়ে তাকে ব্যাপক সহযোগিতা করেন তার মামাতো তৌহিদুর রহমান। তৌহিদের বাড়ি কলারোয় উপজেলার হেলাতলা গ্রামে।

লিলু জানান, তাকে মামাতো ভাই শুধু ঋণই দেননি। চারাও সংগ্রহ করে দেন। চারা এনে দেন একই উপজেলার ব্রজবক্স গ্রামের আব্দুল মাজেদের কাছ থেকে। ২০১৬ সালে লিলুর পেয়ারা বাগানের আয়তন দাঁড়ায় ১৬ বিঘা জমিতে। একই বছর কুল বাগান লাগান ১০ বিঘা জমিতে। প্রতি বছর প্রতি বিঘা জমি ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা হারির মূল্য ধার্য করে এই ২৬ বিঘা জমি লিজ নেন। সবটাই দশ বছর মেয়াদী। এরপর পরিকল্পনা নেন মাল্টা ও কমলা লেবু চাষ করার। এবার নেহার পাশে রামেরডাঙ্গা গ্রামে সাড়ে ১৪ বিঘা জমি লিজ নেন। লিজের হারির মূল্য প্রতিবিঘা ১৮ হাজার টাকা।

২০১৮ সালে জমি সংগ্রহ করে লাগান নাগপুরী কমলা, চাইনিজ কমলা ও মাল্টা লেবু। সাথী ফসল হিসেবে লাগান পেয়ারা ও কাগুজি লেবু। বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য মাসে পেয়ারার দাম বেশী পাওয়া যায়। তখন লিলু প্রতি কেজি পেয়ারা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারেন। তখন আবার ফলন কম হয়। বর্তমানে এই শ্রাবণ মাসে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে পেয়ারা বিক্রি করছেন। আষাঢ় শ্রাবণ মাসে পেয়ারা পচে যায়। তারপর দাম কম হওয়ায় পেয়ারা গাছ থেকে কেটে ফেলে দেন। কারণ তখন প্রতি কেজি পেয়ারা ১০ থেকে ১৫ টাকার বেশী দাম পাওয়া যায় না। এ সময় উৎপাদন খরচও বেশী থাকে। তার বাগানের পেয়ারা চলে যায় সাতক্ষীরার পাকা পোলের দোকানগুলোতে। এখানকার চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত পেয়ারা বিক্রি হয় ঢাকার কাওরান বাজারে কিংবা বরিশালে। প্রতি বিঘা জমির পেয়ারা ও কুল বিক্রি করতে পারেন ৮০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকায়। নাগপুরী কমলা, চাইনিজ কমলা ও মাল্টা লেবু পাকার পর এবারই প্রথম বাজারে আসবে। থোকায় থোকায় কমলা ও মাল্টা দেখে লিলুর মনটা ভরে যায়।

ফল বাগানে তিনি নিজে খাটেন, আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে খাটান। তিনি নিজে চিন্তাহীন ভাবে কাজ করেন। কামরুজ্জামান লিলুর ক্ষোভ, তার বাগানে রোগ বালাই দেখা দিলেও তিনি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কোনও সাহায্য কিংবা পরামর্শ এ পর্যন্ত পাননি। এই অফিসের কারো কোনদিন দেখাও মেলেনি। তাই তিনি বিভিন্ন চাষীদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। কীটনাশক কোম্পানী সিনজেন্টা ও গ্লোবাল ইনভেফা কোম্পানীর লোকেরাই ক্ষেতে গিয়ে পরামর্শ দিয়ে আসেন। কুলের পোকা মেলিবাগ এবং পেয়ারার বোস্টন রোগ ও সাদা মাছি দমনে তারা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। লিলুর বাগানে সাথী ফসল হিসেবে আরও চাষ করেন চাষ করা হয় বেগুন, ঝিঙে, উচ্ছে, করলা, লাউ, কুমড়ো, চাল কুমড়ো, বরবটি, পুঁইশাক সহ বিভিন্ন ধরণের সবজি। এতে করে তার বাজার থেকে সবজি কিনে খেতে হয় না। বরং অন্যদেরকেও বিনা মূল্যে দেন। বেশী হলে মাঝে মাঝে বাজারেও বিক্রি করেন।

All News Report

Add Rating:

0

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

বাতিল হতে যাচ্ছে ‘কাফালা বা কপিল প্রথা’: ২০২১ সালের প্রথম ৬ মাসেই বিলুপ্তি কার্যকর হবে

বাতিল হতে যাচ্ছে ‘কাফালা বা কপিল প্রথা’: ২০২১ সালের প্রথম ৬ মাসেই বিলুপ্তি কার্যকর হবে

ফ্রান্সে আরও ৩৫টি ওয়েবসাইট হ্যাক করল Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force

ফ্রান্সে আরও ৩৫টি ওয়েবসাইট হ্যাক করল Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force

কিশোরগঞ্জে জুয়ার আসরে র‌্যাবের হানা, আটক ১০

কিশোরগঞ্জে জুয়ার আসরে র‌্যাবের হানা, আটক ১০

মাত্রাতিরিক্ত ক্রেডিট ফির যাঁতাকলে পিষ্ট হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা"

মাত্রাতিরিক্ত ক্রেডিট ফির যাঁতাকলে পিষ্ট হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা"

ধর্ষণের কারন ও উৎস্য মোবাইলে পর্ণো ছবি ও যৌন উত্তেজক ঔষধ

ধর্ষণের কারন ও উৎস্য মোবাইলে পর্ণো ছবি ও যৌন উত্তেজক ঔষধ

‘হু আর ইউ ' অ্যাম আই এ ক্রিমিনাল? র‍্যাবকে মদ্যপ হাজীপুত্র

‘হু আর ইউ ' অ্যাম আই এ ক্রিমিনাল? র‍্যাবকে মদ্যপ হাজীপুত্র

সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্ত্রীকে ঋণদাতার হাতে তুলে দিলেন স্বামী

সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্ত্রীকে ঋণদাতার হাতে তুলে দিলেন স্বামী

মোরগের আক্রমণে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

মোরগের আক্রমণে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

বাংলা সিনেমার ফিল্ম স্টাইলে দেহরক্ষী নিয়ে চলতেন ইরফান !

বাংলা সিনেমার ফিল্ম স্টাইলে দেহরক্ষী নিয়ে চলতেন ইরফান !

ভয়ে ফরাসি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহবান ফ্রান্সের

ভয়ে ফরাসি নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহবান ফ্রান্সের

দুই বিদেশি কুকুর ও ১০ দেহরক্ষী নিয়ে এলাকায় চক্কর দিতেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান!

দুই বিদেশি কুকুর ও ১০ দেহরক্ষী নিয়ে এলাকায় চক্কর দিতেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান!

আবারো দুঃসংবাদ দিলো আবহওয়া অধিদপ্তর

আবারো দুঃসংবাদ দিলো আবহওয়া অধিদপ্তর

পাকুন্দিয়া পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনে ঋন জালিয়াতি ও দুর্নীতি

পাকুন্দিয়া পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনে ঋন জালিয়াতি ও দুর্নীতি

Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force এর একত্র আক্রমণ এ ফ্রান্সের আরো ৩০ ওয়েব সাইট দখল

Royal Battler BD এবং Bangladesh Civilian Force এর একত্র আক্রমণ এ ফ্রান্সের আরো ৩০ ওয়েব সাইট দখল

রিফাত হত্যা: অপ্রাপ্তবয়স্ক ৬ আসামিকে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ

রিফাত হত্যা: অপ্রাপ্তবয়স্ক ৬ আসামিকে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ

সর্বশেষ

বালিয়াডাঙ্গীতে বসতভিটার জমি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩

বালিয়াডাঙ্গীতে বসতভিটার জমি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত-৩

শার্লি হেবদোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করলেন এরদোয়ান

শার্লি হেবদোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করলেন এরদোয়ান

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ

সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতে একই পরিবারের ৮ জন আহত

সুনামগঞ্জে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতে একই পরিবারের ৮ জন আহত

ধর্ষণ এমনকি খুনও হতে পারতামঃ অভিনেত্রী আমিশা

ধর্ষণ এমনকি খুনও হতে পারতামঃ অভিনেত্রী আমিশা

জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালানীদের প্রতি কঠোর বার্তা মন্ত্রী ইমরানের

জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালানীদের প্রতি কঠোর বার্তা মন্ত্রী ইমরানের

তাজিনা আখতার রাকা স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

তাজিনা আখতার রাকা স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

তোমাদের স্বামীদের কাজে ফেরাবঃ ট্রাম্প

তোমাদের স্বামীদের কাজে ফেরাবঃ ট্রাম্প

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটালো উত্তরবঙ্গ ফেসবুক গ্রুপ

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটালো উত্তরবঙ্গ ফেসবুক গ্রুপ

ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে চলছিল হাজী সেলিমের সেই গাড়ি

ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে চলছিল হাজী সেলিমের সেই গাড়ি

নওয়াপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা :১২দিন পর মারা গেলেন গৃহবধূ শাওন

নওয়াপাড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা :১২দিন পর মারা গেলেন গৃহবধূ শাওন

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, ধর্ষক আটক

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, ধর্ষক আটক

শহীদ রাসেলের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে : সৈয়দ আমিরুজ্জামান

শহীদ রাসেলের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে : সৈয়দ আমিরুজ্জামান

এবার নিজ কর্মীকে দামি গাড়ি উপহার দিলেন অভিনেত্রী জ্যাকুলিন

এবার নিজ কর্মীকে দামি গাড়ি উপহার দিলেন অভিনেত্রী জ্যাকুলিন

শিক্ষাবৃত্তি পেলো কালীগঞ্জের ৫৫ হতদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী

শিক্ষাবৃত্তি পেলো কালীগঞ্জের ৫৫ হতদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী