Feedback

গল্পসল্প

পত্রিকা পড়ার গল্প ------শেখ হাসিনা (৩য় অংশ)

পত্রিকা পড়ার গল্প ------শেখ হাসিনা (৩য় অংশ)
October 14
05:05pm
2020
Sk Shakil Ahmed
Tala, Satkhira:
Eye News BD App PlayStore

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের নির্মম বুলেটে আমার আব্বা, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্মমভাবে নিহত হন। সেই সঙ্গে আমার মা, তিন ভাইসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়।

আমি ও আমার ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে ছিলাম। সব হারিয়ে রিক্ত-নিঃস্ব হয়ে রিফিউজি হিসেবে যখন পরাশ্রয়ে জীবযাপন করি, তখনও পত্রিকা জোগাড় করেছি এবং নিয়মিত পত্রিকা পড়েছি।

১৯৮০ সালে দিল্লি থেকে লন্ডন গিয়েছিলাম। রেহানার সঙ্গে ছিলাম বেশ কিছুদিন। তখন যে পাড়ায় আমরা থাকতাম, ওই পাড়ার ৮-১০ জন ছেলেমেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতাম। ছুটি হলে সবাইকে নিয়ে আবার ঘরে পৌঁছে দিতাম।

বাচ্চা প্রতি এক পাউন্ড করে মজুরি পেতাম। ওই টাকা থেকে সর্বপ্রথম যে খরচটা আমি প্রতিদিন করতাম তা হল কর্নারশপ থেকে একটি পত্রিকা কেনা। বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ঘরে ফেরার সময় পত্রিকা, রুটি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বাসায় ফিরতাম। তখন একটি পত্রিকা হাতে না নিলে মনে হতো সব দিনটাই যেন ‘পানসে’ হয়ে গেছে।

সবসময়ই আব্বা ও মায়ের কথা চিন্তা করি। তারা দেশ ও দেশের মানুষের কথা ভাবতে শিখিয়েছেন। মানুষের প্রতি কর্তব্যবোধ জাগ্রত করেছেন। সাদাসিধে জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে উন্নততর সুচিন্তা করতে শিখিয়েছেন।

মানবপ্রেম ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন করেছেন। সে আদর্শ নিয়ে বড় হয়েছিলাম বলেই আজ দেশসেবার মতো কঠিন দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হচ্ছি। প্রতিদিনের রাষ্ট্র পরিচালনায় মানবকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা নিতে পারছি এবং তা বাস্তবায়ন করছি। যার সুফল বাংলাদেশের মানুষ ভোগ করছে।

সমালোচনা-আলোচনা রাজনৈতিক জীবনে থাকবেই। কিন্তু সততা-নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করলে, নিজের আত্মবিশ্বাস থেকে সিদ্ধান্ত নিলে, সে কাজের শুভ ফলটা মানুষের কাছে পৌঁছবেই।

গণমাধ্যম সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে। আমি সরকার গঠন করার পর সব সরকারি পত্রিকা ব্যক্তি খাতে ছেড়ে দেই। যদিও সরকারিকরণের বিরুদ্ধে যারা ছিলেন এবং সরকারিকরণ নিয়ে যারা খুবই সমালোচনা করতেন, তারাই আবার যখন বেসরকারিকরণ করলাম, তখন আমার বিরুদ্ধে সমালোচনা করতেন। আন্দোলন, অনশনও হয়েছে।

আমি মাঝেমধ্যে চিন্তা করি, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যে কয়টি পত্রিকা ছিল তা সরকারিকরণ করে সব সাংবাদিকের চাকরি সরকারিভাবে দেয়া হল, বেতনও সরকারিভাবে পেতে শুরু করলেন তারা, আবার তারাই সব সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আব্বার বিরুদ্ধে সমালোচনা করা শুরু করলেন। কেন?

আবার আমি যখন সব ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দিলাম, সরকারি পত্রিকা তখন কেন বেসরকারি করছি তা নিয়ে সমালোচনা, আন্দোলন, অনশন সবই হল। কেন? এর উত্তর কেউ দেবেন না, আমি জানি।

১৯৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে, তখন বাংলাদেশে হাতেগোনা কয়েকটি পত্রিকা ছিল। সেগুলোরও নিয়ন্ত্রণ হতো বিশেষ জায়গা থেকে। সরকারি মালিকানায় রেডিও, টেলিভিশন। বেসরকারি খাতে কোনো টেলিভিশন, রেডিও চ্যানেল ছিল না।

আমি উদ্যোগ নিয়ে বেসরকারি খাত উন্মুক্ত করে দিলাম। এ ক্ষেত্রে আমার দুটি লক্ষ্য ছিল- একটি হল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, আরেকটি হল আমাদের সংস্কৃতির বিকাশ- বর্তমান যুগের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কৃতি-শিল্পের সম্মিলন ঘটানো। যাতে আধুনিকতা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়, তৃণমূলের মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে।

২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলাম। ডিজিটাল ডিভাইস আমাদের কর্মজীবনে বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে সহায়তা করছে। সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার সুযোগ পাচ্ছি।

১৯৯৬ সালেই মোবাইল ফোন বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আজ সবার হাতে মোবাইল ফোন।

বাংলাদেশে সিনেমা শিল্পের শুরু হয়েছিল আব্বার হাত ধরে। এ শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন করে বাংলাদেশের মানুষের চিত্তবিনোদনের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। আবার সার্বিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্যবিমোচনেও ভূমিকা রাখতে পারে এ শিল্প।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের কারণে আমরা এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যে দিন যাপন করছি। আমি আশাবাদী এ কালোমেঘ শিগগিরই কেটে যাবে, উদয় হবে আলোকোজ্জ্বল নতুন সূর্যের। সবার জীবন সফল হোক, সুন্দর হোক। সবাই সুস্থ থাকুন, এ কামনা করি।

লেখকঃ প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

All News Report

Add Rating:

0

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

স্পিডবোট ডুবে নিখোঁজ, কনস্টেবলসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

স্পিডবোট ডুবে নিখোঁজ, কনস্টেবলসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

ইতালি সিজনাল ভিসার সচেতনার দিকসমূহ, নইলে আপনিও হতে পারেন প্রতারণার শিকার: পর্ব-০৫

ইতালি সিজনাল ভিসার সচেতনার দিকসমূহ, নইলে আপনিও হতে পারেন প্রতারণার শিকার: পর্ব-০৫

মুরগির সাথে যৌনতা, ধরা খেয়ে সাজা খাটছেন যুবক!

মুরগির সাথে যৌনতা, ধরা খেয়ে সাজা খাটছেন যুবক!

প্রধান শিক্ষকদের বকেয়া টাইমস্কেল প্রদান ও সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত সহ ১০ দফা দাবীতে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন।

প্রধান শিক্ষকদের বকেয়া টাইমস্কেল প্রদান ও সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত সহ ১০ দফা দাবীতে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা পুতুল

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা পুতুল

বগুড়ায় লম্পটকে কুপিয়ে ধর্ষণ থেকে রক্ষা পেলেন গৃহবধূ

বগুড়ায় লম্পটকে কুপিয়ে ধর্ষণ থেকে রক্ষা পেলেন গৃহবধূ

ফ্রান্সে মহানবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ কার্টুন প্রদর্শন, নবীপ্রেমিকদের ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক

ফ্রান্সে মহানবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ কার্টুন প্রদর্শন, নবীপ্রেমিকদের ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক

টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে ঘুরছে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে!

টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে ঘুরছে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে!

জয়পুরহাটে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা

জয়পুরহাটে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা

দামি ওষুধ-তেল বা চর্বি লোভে জ্যান্ত ডলফিন কেটে টুকছে গ্রামবাসী

দামি ওষুধ-তেল বা চর্বি লোভে জ্যান্ত ডলফিন কেটে টুকছে গ্রামবাসী

জামালপুরে ট্রেনে কাটাপড়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু

জামালপুরে ট্রেনে কাটাপড়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু

মারা গেলেন ব্যারিস্টার রফিকুল হক

মারা গেলেন ব্যারিস্টার রফিকুল হক

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা, আবারও পূর্ণ হতে যাচ্ছে হাসপাতাল!

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা, আবারও পূর্ণ হতে যাচ্ছে হাসপাতাল!

পী‌রের আস্তানায় খাদেমের মে‌য়ের রহস্যজনক মৃত্যু

পী‌রের আস্তানায় খাদেমের মে‌য়ের রহস্যজনক মৃত্যু

ভৈরবে দুই বিদেশি আটক

ভৈরবে দুই বিদেশি আটক

সর্বশেষ

অচল ৯টি বিমান বিক্রি করবে সিভিল অ্যাভিয়েশন

অচল ৯টি বিমান বিক্রি করবে সিভিল অ্যাভিয়েশন

বে-নামাজির শাস্তি

বে-নামাজির শাস্তি

মুহাম্মদ সা.কে অবমাননা করে বিশ্বমুসলিমের কলিজায় ছুরিকাঘাত করেছে ফ্রান্স’-হেফাজত মহাসচিব

মুহাম্মদ সা.কে অবমাননা করে বিশ্বমুসলিমের কলিজায় ছুরিকাঘাত করেছে ফ্রান্স’-হেফাজত মহাসচিব

আজ নবমী, মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে চলেছে বিদায়ের সুর

আজ নবমী, মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে চলেছে বিদায়ের সুর

মেঘের আড়ালে উজ্জ্বল তারকা "রাজকুমার জয়"

মেঘের আড়ালে উজ্জ্বল তারকা "রাজকুমার জয়"

পাথরঘাটায় পুকুরে কীটনাশক দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ

পাথরঘাটায় পুকুরে কীটনাশক দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ

উত্তরণের কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক

উত্তরণের কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক

ফ্রান্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ফ্রান্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

চলন্ত পাথরের রহস্য উন্মোচন হলো শত বছর পর

চলন্ত পাথরের রহস্য উন্মোচন হলো শত বছর পর

চুরির অপবাদে এক কিশোরকে বেধরক মার

চুরির অপবাদে এক কিশোরকে বেধরক মার

প্রেমিকার লাশ ফেলে পালানোর সময় প্রেমিক আটক

প্রেমিকার লাশ ফেলে পালানোর সময় প্রেমিক আটক

মিঠাপুকুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা একরামুল হক রাজু আর নেই

মিঠাপুকুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা একরামুল হক রাজু আর নেই

ভোলা-চরফ্যাশনে কোষ্টগার্ডের অভিযানে তিন জেলেকে এক বছর করে কারাদণ্ড

ভোলা-চরফ্যাশনে কোষ্টগার্ডের অভিযানে তিন জেলেকে এক বছর করে কারাদণ্ড

প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

ফ্রান্সে নবীকে নিয়ে কটুক্তি, যা বললেন আজহারী

ফ্রান্সে নবীকে নিয়ে কটুক্তি, যা বললেন আজহারী