Feedback

জেলার খবর, নোয়াখালী

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি হচ্ছে নোয়াখালির এই দ্বীপে

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি হচ্ছে নোয়াখালির এই দ্বীপে
September 24
09:22pm
2020
Abdul hannan
Chandraganj, Lakshmipur:
Eye News BD App PlayStore

নোয়াখালীর জাহাইজ্যার, চর এক সময়ের ডাকাত এবং চরমপন্থীদের অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিতি ছিল। সেই চর আজ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। ১৯৯২-৯৬ সালের দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম চলাচলকারী জাহাজ সমূহ নোয়াখালীর সুবর্ণ চর হয়ে বঙ্গোপসাগরে চলাচল করতো। সেই সময়ে নোয়াখালির মোহনায় কোন এক চড়ে আটকে পরে একটি বিশাল জাহাজ। পরবর্তীতে জাহাজ আটকে পড়া সেই চরকে নামকরণ করা হয় জাহাইজ্যার চর।

এক সময় মানুষ আতঙ্কে সেই চরের নাম পর্যন্ত নিতো না। এই চরের বিস্তৃত বনভূমি আর গভীর জঙ্গলে গড়ে উঠে বিভিন্ন ডাকাত আর চরমপন্থী দলের আস্তানা৷ কিন্তু বেশিদিন টিকতে পারেনি তারা।  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ২০১৩ সালে সেই চরকে ডাকাত মুক্ত করে। পরে সেনাবাহিনীকে এই অনুমতি দেয় বর্তমান সরকার। পরে সেনাবাহিনী এর নতুন নামকরণ করে। যা আজকের স্বর্ণদ্বীপ হিসাবে পরিচিত ৷ এদিকে ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ায় ৩৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল একখণ্ড ভূমি পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। মুল ভূখণ্ড থেকে আলাদা এই ভূমিকে মানুষের বসবাসযোগ্য করে তোলার কাজে নামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই বনভূমি পরিষ্কার করে সেখানে ৬০ হাজার ঝাউ গাছ এবং ভিয়েতনাম এর ১৫০০ উচ্চ ফলনশীল নারিকেল গাছ রোপণ করে। সেই সাথে বছরের ৮ মাস পানির নিচে তলিয়ে থাকা এই বিস্তৃত জলাভূমিকে উদ্ধার এর প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ধীরে ধীরে উদ্ধার করা হয়েছে মোট জলাভূমির দুই তৃতীয়াংশ জমি। দিনে দিনে ক্রমেই বৃদ্ধি করা হচ্ছে এর আয়তন। সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে সেখানে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন নতুন অবকাঠামো।  ইতিমধ্যে সেখানে একটি ৩১ সজ্জা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করেছে সেনাবাহিনী। দ্বীপ এর আয়তনকে লাজে লাগিয়ে সেখানে গবাদিপশু খামার স্থাপন করেছে সেনাবাহিনী। যা সেনাবাহিনীর নিজস্ব চাহিদা পূরণে বিশেষ অবদান রেখে চলেছে।

সেখানে স্থাপন করা ২০ টি খামারে ১৩ হাজার মহিষ, ১৬ হাজার ভেড়া এবং ৮ হাজার গরু পালন করা হচ্ছে। সেই সাথে এসব গবাদি পশু থেকে প্রাপ্ত দুধ এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে এই দ্বীপে। দ্বীপে বিভিন্ন ফলের চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে। উৎপন্ন করা হচ্ছে বিভিন্ন শাক সবজি। সামাজিক এইসব উদ্যোগ এর পাশাপাশি দ্বীপ কে ঘিরে রয়েছে সেনাবাহিনীর বৃহৎ সামরিক পরিকল্পনা।  সেনাবাহিনীর সামরিক পরিকল্পনা অনুসারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় এবং উন্নত সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হচ্ছে এই অঞ্চলকে। যেখানে ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে সামরিক বাহিনীর বসবাস এর জন্য বিশেষ আবাসিক ব্যবস্থা যেখানে একসাথে থাকতে পারবে ৫০০০ সৈন্য।

রয়েছে সামরিক মহড়া চালানোর জন্য বিশাল অঞ্চল যা সেনাবাহিনীর ভারি সাজোয়া যান, ট্যাংক এবং আর্মাড ক্যারিয়ার বহনে সক্ষম করে গড়ে তোলা হয়েছে। এই অঞ্চলের ভূমি যেখানে বছরের ৮ মাস পানির নিচে থাকতো, সেই ভূমি রক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে কনক্রিট ড্যাম সেই সাথে ভূমির উচ্চতা বৃদ্ধির কাজ করছে সেনাবাহিনী। ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে থাকা এই বিশাল দ্বীপ টিতে স্থাপন করা হয়েছে টেলিফোন টাওয়ার যা সার্বক্ষণিক মুল ভূখণ্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে সাহায্য করে। রয়েছে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা যেখানে সোলারভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় দ্বীপ টিতে ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি তেল ভিত্তিক জেনারেটর স্থাপন করা হয়েছে। ঘূর্নিঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাস এর মত দুর্যোগে স্থানীয় দের রক্ষা করতে এখানে স্থাপন করা হয়েছে ৩ টি বড় সাইক্লোন সেন্টার। এছাড়াও দ্বীপ টিতে উন্নত ইন্টারনেট সেবা প্রদানে ব্যবহার করা হচ্ছে স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট সুবিধা। সেনা সদস্য দের জন্য রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব। 

সামরিক প্রশিক্ষণ হিসাবে গড়ে তুল তে ইতিমধ্যে এই দ্বীপ ঘিরে বাজেট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সেনাবাহিনী। যার অধীনে দ্বীপটির বিভিন্ন অংশে হেলিপ্যাড নির্মাণ, হেলিকপ্টার এর জন্য হ্যাংগার স্থাপন, ট্যাংক প্রশিক্ষণ ট্রাক নির্মাণ, নদী তীরবর্তী এলাকা জুড়ে বনভূমি স্থাপন, ভারি যানবাহন তথা, সেনা পরিবহনে ব্যবহার করা জাহাজ এবং নৌযান জন্য পোর্ট এরিয়া স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনী ভারি যানবাহন এর রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা সম্বলিত একটি ওয়ারশপ এখানে স্থাপন করা হবে। বর্তমানে৷ ৩ টি নৌযান এবং ৬ টি ল্যান্ডিং ক্রাফট এর মাধ্যমে এখানে যাতাযায় ব্যবস্থা স্থাপন করেছে সেনাবাহিনী।    দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ভবিষ্যতে এই দ্বীপে সামরিক বিমান ওঠানামার সুবিধার জন্য এয়ারস্টীপ নির্মাণের পরিকল্পনা যুক্ত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সরকারও এই দ্বীপ নিয়ে কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে বিশাল এই ভূমি এর এক অংশকে সিংগাপুর এর আদলে একটি উপশহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রাক যাচাই বাছাই শুরু হয়েছে । এছাড়া এখানে নৌবাহিনীর জাহাজ সমূহের জন্য একটি ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সেনাবাহিনীর তথ্য মতে, এই দ্বীপে প্রতিবছর ১০ হাজার সেনা সদস্য তাদের মহড়া চালাতে সক্ষম। বছরে দুই বার এখানে বর্তমানে বিভিন্ন সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হচ্ছে যেখানে দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন ডিভিশন থেকে সেনা সদস্যরা যোগ দিচ্ছে। ট্যাংক এবং আর্টিলারি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পাশাপাশি বিমানবাহিনী ছোট পরিসরে বিভিন্ন যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে এই দ্বীপ টি হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাটি যেখানে এক সাথে ১০ হাজার এর বেশী সৈন্য মহড়ায় অংশ নিতে পারবে।

All News Report

Add Rating:

0

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর: ভিডিও ভাইরাল সেলিমের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর: ভিডিও ভাইরাল সেলিমের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

শিক্ষক সংকট করোনা পরবর্তি সময়ে হাবিপ্রবিতে তীব্র সেশনজটের আশঙ্কা

শিক্ষক সংকট করোনা পরবর্তি সময়ে হাবিপ্রবিতে তীব্র সেশনজটের আশঙ্কা

হাজী সেলিমের ছেলে ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইরফান সেলিমের এক বছরের কারাদণ্ড

হাজী সেলিমের ছেলে ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইরফান সেলিমের এক বছরের কারাদণ্ড

জেনে নিন, দালাল ছাড়াই পাসপোর্ট করার সহজ উপায় !

জেনে নিন, দালাল ছাড়াই পাসপোর্ট করার সহজ উপায় !

বীমা শিল্পে নারী জাগরণের পথিকৃৎ রাবেয়া বেগম রুনা

বীমা শিল্পে নারী জাগরণের পথিকৃৎ রাবেয়া বেগম রুনা

যে কারণে হাজী সেলিমের ছেলে কে এক বছরের কারাদন্ড

যে কারণে হাজী সেলিমের ছেলে কে এক বছরের কারাদন্ড

এসআই আকবর কে পালাতে সহায়তাকারী কে কে  আজ জানা যাবে

এসআই আকবর কে পালাতে সহায়তাকারী কে কে আজ জানা যাবে

১লা নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক শ্রেণির সিলেবাস বাস্তবায়ন কার্যক্রম

১লা নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক শ্রেণির সিলেবাস বাস্তবায়ন কার্যক্রম

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে ৩৩ দিন ধরে কলেজ ছাত্রীর অনশন

ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ের দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে ৩৩ দিন ধরে কলেজ ছাত্রীর অনশন

সমাবেশেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ

সমাবেশেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ

এসএসসি পরীক্ষার হবে না হবে জানুন

এসএসসি পরীক্ষার হবে না হবে জানুন

কাঠালিয়ায় নদীর পাড় থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার

কাঠালিয়ায় নদীর পাড় থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার

স্কুল-কলেজেও সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন হচ্ছে!

স্কুল-কলেজেও সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন হচ্ছে!

সঙ্গীত অঙ্গনে বিস্ময়কর বালক "ভাবের মামুন"

সঙ্গীত অঙ্গনে বিস্ময়কর বালক "ভাবের মামুন"

মিন্নির মতো এই ১৪ জনেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান রিফাতের বোন

মিন্নির মতো এই ১৪ জনেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান রিফাতের বোন

সর্বশেষ

শিশুর বিকাশ বাড়বে সুষম খাদ্য আর খেলাধুলাতেই

শিশুর বিকাশ বাড়বে সুষম খাদ্য আর খেলাধুলাতেই

বরগুনায় প্রতিমা বানাতে ব্যবহার করা হয়েছে পবিত্র কালিমা খচিত বইয়ের পৃষ্ঠা

বরগুনায় প্রতিমা বানাতে ব্যবহার করা হয়েছে পবিত্র কালিমা খচিত বইয়ের পৃষ্ঠা

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি: জবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি: জবি শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

বানারীপাড়ায় দলিল উদ্দিন মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আনোয়ারের ইন্তেকাল

বানারীপাড়ায় দলিল উদ্দিন মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আনোয়ারের ইন্তেকাল

হলোনা বাংলাদেশ-ভারতের মিলনমেলা, ইছামতিতে অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবী দূর্গাকে বিসর্জন দিল সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

হলোনা বাংলাদেশ-ভারতের মিলনমেলা, ইছামতিতে অশ্রুসিক্ত নয়নে দেবী দূর্গাকে বিসর্জন দিল সনাতন ধর্মাবলম্বীরা

রংপুরে ৩০ সেকেন্ডে উধাও সাড়ে ১২ লাখ টাকা, গ্রেফতার

রংপুরে ৩০ সেকেন্ডে উধাও সাড়ে ১২ লাখ টাকা, গ্রেফতার

বাঘারপাড়ায় কৃতি শিক্ষার্থীদর সংবর্ধনা ও ক্রেষ্ট বিতরণ

বাঘারপাড়ায় কৃতি শিক্ষার্থীদর সংবর্ধনা ও ক্রেষ্ট বিতরণ

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আশাশুনির অতিদরিদ্র ১৭’শ পরিবারের মাঝে অর্থ সহায়তা

কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আশাশুনির অতিদরিদ্র ১৭’শ পরিবারের মাঝে অর্থ সহায়তা

আশাশুনিতে চেয়ারম্যান ডালিমের বিরুদ্ধে মামলা, মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন

আশাশুনিতে চেয়ারম্যান ডালিমের বিরুদ্ধে মামলা, মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন

গৌরনদীতে পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

গৌরনদীতে পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

মিন্নির মতো এই ১৪ জনেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান রিফাতের বোন

মিন্নির মতো এই ১৪ জনেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান রিফাতের বোন

কাপড়ের মাস্ক ব্যবহারে যেসব নিয়ম মানা জরুরি

কাপড়ের মাস্ক ব্যবহারে যেসব নিয়ম মানা জরুরি

ভ্রমণ করার সময় বমি ও মাথা ঘোরা দূর করতে যা করবেন

ভ্রমণ করার সময় বমি ও মাথা ঘোরা দূর করতে যা করবেন

ফুটবল টুর্নামেন্ট: হাজিরহাট চ্যাম্পিয়ন

ফুটবল টুর্নামেন্ট: হাজিরহাট চ্যাম্পিয়ন

যে কারণে হাজী সেলিমের ছেলে কে এক বছরের কারাদন্ড

যে কারণে হাজী সেলিমের ছেলে কে এক বছরের কারাদন্ড