Feedback

ভারত

কলকাতার এক সাহসী নারীর গল্প।

কলকাতার এক সাহসী নারীর গল্প।
September 14
10:56am
2020
Sapna Akter
Rampal, Bagerhat:
Eye News BD App PlayStore

এক সাহসিনীর গল্প। যিনি নারীপাচার রোখা থেকে শুরু করে দাঙ্গার ভয়াবহ ক্ষেত্রেও অনবদ্য ভাবে সামলেছিলেন। সম্প্রতি প্রয়াত সেই সাহসিনীকে সেলাম।চলুন, আজ আপনাদের একটি মেয়ের গল্প বলি। মেয়ে, তবে খুব সাধারণ নয়। বলতে পারেন সেই ফিল্মের ভাষায় মর্দানি। তো, যে কথা বলছিলাম। সেটা ৯৬ সাল। মহরমের দিন। একবালপুর এলাকায় গোষ্ঠীসংঘর্ষ চরম আকার নিচ্ছে। একটা সময় সেই মেয়ে দেখলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাতে তুলে নিতে হবে তাঁর সার্ভিস রিভলভার। মর্দানি চালালেন গুলি। তাঁরই বিচক্ষণতায় সে যাত্রায় বড় ক্ষতি এড়ানো গেল। ঠিক যাঁর কথা শুরু থেকেই বলছিলাম, তিনি দেবশ্রী চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা পুলিশের ডাকাবুকো পুলিশ আধিকারিক।


দেবশ্রী তখন একবালপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর। তার ঠিক আগে ওই এলাকায় বেআইনি নির্মাণের একটা ঢেউ এসেছিল। বাবরি ভাঙার ঘটনার পর থেকেই তখন কলকাতার সংখ্যালঘুদের একটা বড় অংশ বন্দর এলাকা মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে বেছে নেন। ফলে এক জায়গায় একান্নবর্তী হতে গিয়ে অনুমতি পাওয়া দোতলা বাড়ি রাতারাতি নিয়ম ভেঙে গড়ে ওঠে তিনতলায়। এই কাজের রাশ টানতে গেলে থানার তৎকালীন ওসি শশাঙ্ক দে-র সঙ্গে সমস্যা শুরু হয় স্থানীয় প্রমোটরদের। এই প্রমোটরদের মধ্যে কেউ ছিলেন কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ, তো কেউ আবার ফরোয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে। মূলত তাঁদের পরিকল্পনায় ওসিকে অপদস্থ করতে গিয়ে বড়সড় ঝামেলা পাকানোর ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়। দিন হিসেবে বেছে নেওয়া হয় মহরমকেই। একবালপুর থানা এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ময়ূরভঞ্জ রোড আড়াআড়ি ভাবে ডায়মন্ডহারবার রোড থেকে ভূকৈলাশ রোডে গিয়ে পড়েছে। প্রশাসনের ঠিক করা রুট অনুযায়ী, বাবুবাজার থেকে তাজিয়া নিয়ে ভূকৈলাশ রোড হয়ে মোমিনপুর দিয়ে ডায়মন্ডহারবার রোডে পড়ার কথা। কিন্তু তা হল না। ঝামেলা পাকানোর জন্য আয়োজকরা সেই মিছিল ময়ূরভঞ্জ রোড দিয়ে ঢোকাতেই শুরু হয়ে গেল দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ। প্রায় দু’দিন ধরে চলল তা।


রাতের অন্ধকারে বন্দর এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ল দ্রুত। পুলিশকে লক্ষ করে শুরু হল হামলা। উত্তেজিত দু’পক্ষের পাথরের ঘায়ে গুরুতর জখম হলেন বেশ কয়েকজন পুলিশ। পাল্টা লাঠিচার্জ করা হল। গোটা একবালপুর থানার পুলিশ কর্মীরা সেই অশান্তি থামাতে নেমে এলেন পথে। দ্বিতীয়দিন থানায় তখন মাত্র দু’জন পুলিশ কর্মী। একজন দেবশ্রী চট্টোপাধ্যায়। অন্যজন এক কনস্টেবল। দুপুর দেড়টার সময় ৪০-৫০ জনের একটি দুষ্কৃতী দল কার্যত ফাঁকা থানা আক্রমণ করে।



শুরু হয় আশেপাশের বাড়ির ছাদ থেকে থানা লক্ষ করে ব্যাপক বোমাবাজি। ওই দলটির উদ্দেশ্য ছিল পুলিশ স্টেশন জ্বালিয়ে দেওয়া। কোনওক্রমে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দেবশ্রী থানার মূল গেটটি বন্ধ করতে সক্ষম হন। আটকে দেন চারিদিকের জানলা-দরজা। ভিতর থেকে যোগাযোগ করেন লালবাজার কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে। সেই খবরের ভিত্তিতে বিরাট পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয় ওখানে। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতীর। লালবাজারের কর্তারা ওই একটা ঘটনা থেকে বুঝতে পারেন জুনিয়র হলেও দেবশ্রী মাথা দিয়ে পুলিশিংটা করেন। এবং তা সাহসের সঙ্গে। তার অকাট্য প্রমাণ মেলে পরের দিন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাস্তায় নেমে হুসেন শাহ রোডের কাছে রিভলভার নিয়ে ছুটে যাওয়া এবং মহিলা সাব ইন্সপেক্টরের গুলি করার ছবি ছাপা হয় পরের দিন রাজ্যের বিভিন্ন কাগজের প্রথম পাতায়। কলকাতা পুলিশ জানতে পারে এক মহিলা দাবাং অফিসারের নাম।


দীর্ঘদিন সাদা উর্দিতে চাকরি করার পর দেবশ্রীকে আনা হয় ইম-মরাল ট্রাফিকিং বিভাগের ওসি পদে। লালবাজারে আসার পরই ফের নিজের কর্মদক্ষতায় তিনি নজরে পড়ে যান বড়কর্তাদের। তাঁর করা পর পর কয়েকটি অপারেশনে উদ্ধার হয় প্রায় ১৫ জন নাবালিকা-কিশোরী। যাদের নেপাল থেকে কলকাতার সোনাগাছিতে এনে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। একদিন সকালে ওই এলাকার এক এজেন্টের মাধ্যমে খবর পেয়ে রাতের অন্ধকারে তিনি টিম নিয়ে সাধারণ পোশাকে পৌঁছে যান ওখানে। তল্লাশি শুরু হতেই পুলিশের টিমকে ঘিরে ধরেন আগ্রাওয়ালিরা (মূলত যাঁরা ওই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন)। এঁরা শুধু স্থানীয় থানার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখাই নয়, নিয়মিত মাসোহারাও দিতেন স্থানীয় থানাকে। ফলে সোর্স মারফত খবর পেয়ে বড়তলা থানার পুলিশও সেখানে পৌঁছে যায়।তবে লালবাজারের আক্রান্ত মহিলা টিমকে বাঁচানোর পরিবর্তে নিজেদের ভূমিকা পাল্টে ফেলেন থানার পুলিশ কর্মীরা। উদ্ধার করা মেয়েগুলিকে ফের সেই এজেন্টদের হাতেই তুলে দিতে উদ্যোগ নেন তাঁরা।


চারদিক থেকে ঘেরাও থাকা অবস্থাতেও থানার পুলিশ কর্মীদের মনোভাব বুঝতে পেরে নিজের দক্ষতা প্রয়োগ করেন দেবশ্রী। অন্য একটি ঘরে লুকিয়ে রাখেন প্রায় ১২ জন নাবালিকাকে। তারপর কন্ট্রোলরুমের সঙ্গে যোগাযোগ করে সকলকে ফিরিয়ে আনেন লালবাজারে। এই অপারেশন নিয়ে স্থানীয় থানা এবং গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে চরম বিতর্ক দেখা দেয়। তবে পুলিশ কর্তারা দেবশ্রীর যুক্তি মেনে নেন। ফলে একাধিক কিশোরীকেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় ওই নরক যন্ত্রণা থেকে।দেবশ্রী শেষবার বিতর্কে জড়ান গত বিধানসভা নির্বাচনে। ততদিনে তিনি ডেপুটি কমিশনার হয়ে গিয়েছেন। ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁকে ডিউটি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোন কেন্দ্র, কার কেন্দ্র সে মনে রাখেননি তিনি। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ করতে নিজের অভিজ্ঞতা এবং কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগান প্রবলভাবে। যা অপছন্দ ছিল কোনও পক্ষের। ফলস্বরূপ ফলাফল প্রকাশিত হতেই উত্তরবঙ্গে বদলি করে দেওয়া হয় দেবশ্রীকে। প্রায় চার বছর ধরে সেখানেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

All News Report

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে তরুণীকে ধর্ষণ করলেন চেয়ারম্যান

ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে তরুণীকে ধর্ষণ করলেন চেয়ারম্যান

বৃদ্ধার জালে ধরা পড়লো তিন লাখ টাকার ভেটকি মাছ

বৃদ্ধার জালে ধরা পড়লো তিন লাখ টাকার ভেটকি মাছ

আইরাকে নিয়ে জলকেলিতে মিথিলা

আইরাকে নিয়ে জলকেলিতে মিথিলা

বেড়াতে এসেও ধর্ষণ এর শিকার গ্রেপ্তার ৩

বেড়াতে এসেও ধর্ষণ এর শিকার গ্রেপ্তার ৩

সন্তান জন্ম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো: তসলিমা নাসরিন

সন্তান জন্ম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো: তসলিমা নাসরিন

নুরদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

নুরদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

রিফাত হত্যা: মিন্নিসহ প্রাপ্ত ১০ আসামির রায় কাল

রিফাত হত্যা: মিন্নিসহ প্রাপ্ত ১০ আসামির রায় কাল

কণ্ঠশিল্পী আকবরের জন্য আজীবন হাসপাতাল ফ্রি করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কণ্ঠশিল্পী আকবরের জন্য আজীবন হাসপাতাল ফ্রি করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সাবেক ছাত্রলীগ নেতার দ্বারাই ফাঁস হয় সিলেটের ধর্ষণের ঘটনা

সাবেক ছাত্রলীগ নেতার দ্বারাই ফাঁস হয় সিলেটের ধর্ষণের ঘটনা

আল কুরআনের ৩০ পারার কাব্য অনুবাদ

আল কুরআনের ৩০ পারার কাব্য অনুবাদ

সৌদিআরবে চলতি সপ্তাহ থেকে তুরস্কের পন্য নিষিদ্ধ

সৌদিআরবে চলতি সপ্তাহ থেকে তুরস্কের পন্য নিষিদ্ধ

আমতলীতে মামলা তুলে নিতে বাদীকে বিএনপি নেতার জীবন নাশের হুমকি

আমতলীতে মামলা তুলে নিতে বাদীকে বিএনপি নেতার জীবন নাশের হুমকি

ধর্ষকের যৌনাঙ্গ জনসম্মুখে কর্তন আইন চেয়ে আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়ালেন জালাল

ধর্ষকের যৌনাঙ্গ জনসম্মুখে কর্তন আইন চেয়ে আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়ালেন জালাল

নওগাঁয় এতিমদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করলেন যুবলীগ নেতা বিমান

নওগাঁয় এতিমদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করলেন যুবলীগ নেতা বিমান

ডা. সাবরিনাকে জেলে ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ

ডা. সাবরিনাকে জেলে ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ

সর্বশেষ

খাদ্যনালী কেটে ফেললেন নার্স, সংকটাপন্ন রুগি

খাদ্যনালী কেটে ফেললেন নার্স, সংকটাপন্ন রুগি

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে জনাব খন্দকার লুৎফুল কবির এর যোগদান

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবে জনাব খন্দকার লুৎফুল কবির এর যোগদান

মাওলানা হাফেজ ছৈয়দ নূরের ইন্তেকাল: বিভিন্ন মহলের শোক

মাওলানা হাফেজ ছৈয়দ নূরের ইন্তেকাল: বিভিন্ন মহলের শোক

কক্সবাজারে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা গাজী ইয়াকুব সংবর্ধিত

কক্সবাজারে তাকওয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা গাজী ইয়াকুব সংবর্ধিত

কবিতা

কবিতা

মাধ্যমিকে ফেল করা মাহাবুব এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র

মাধ্যমিকে ফেল করা মাহাবুব এখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র

পুঠিয়ায় আগাম খেজুরের সুমিষ্ট রস সংগ্রহে গাছ পরিচর্যা শুরু

পুঠিয়ায় আগাম খেজুরের সুমিষ্ট রস সংগ্রহে গাছ পরিচর্যা শুরু

যশোরে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই

যশোরে ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই

আজমিরীগঞ্জে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা

আজমিরীগঞ্জে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা

বানিয়াচংয়ে এতিমদের বিরিয়ানি খাওয়ালেন যুবলীগ নেতা তুহিন

বানিয়াচংয়ে এতিমদের বিরিয়ানি খাওয়ালেন যুবলীগ নেতা তুহিন

বিএনপির সাবেক সভাপতি লৎফর রহমান মিন্টুর ইন্তিকাল

বিএনপির সাবেক সভাপতি লৎফর রহমান মিন্টুর ইন্তিকাল

মিনিকেট চালের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়

মিনিকেট চালের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়

রাজশাহীর কাটাখালি পৌর মেয়র আব্বাসের চ্যালেঞ্জ

রাজশাহীর কাটাখালি পৌর মেয়র আব্বাসের চ্যালেঞ্জ

মোহনপুরে সিটিসেল টাওয়ারের যন্ত্রাংশ চুরির সময় আটক ৬ জন

মোহনপুরে সিটিসেল টাওয়ারের যন্ত্রাংশ চুরির সময় আটক ৬ জন

ঋতুরাজ

ঋতুরাজ