Saturday -
  • 0
  • 0
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
Posted at 11/09/2020 05:53:pm

চুলবুল পান্ডে এই দশকে সবচেয়ে আইকনিক ক্যারেক্টর

চুলবুল পান্ডে এই দশকে সবচেয়ে আইকনিক ক্যারেক্টর
গত বছর এভেঞ্জার্স এর ডিরেক্টর জো রুশো সিনেমার প্রচারের কাজে ভারতে এসেছিলেন, তাকে বলিউডের সিনেমার কথা জিজ্ঞেস করতে তিনি বললেন তার প্রিয় সিনেমা "দাবাং" সুদূর আর্জেন্টিনায় একটা বড় রেস্টুরেন্ট আছে, নাম "গ্রান দাবাং"। আর্জেন্টাইন এক ভদ্রলোক সালমানের দাবাং দেখে এতোটাই মুগ্ধ হয়েছেন যে উনার রেস্টুরেন্ট টি দাবাং সিনেমাকে ট্রিবিউট দিয়ে বানিয়েছেন। ডিজাইন করেছেন দাবাং সিনেমার পোস্টার আর বিভিন্ন স্টিল পিকচার দিয়ে।

বাহুবালীর ডিরেক্টর রাজামৌলি এক ইন্টারভিউ এ বলেন " চুলবুল পান্ডে এই দশকেত সবচেয়ে আইকনিক ক্যারেক্টর । এই চরিত্র আর কেউ তার মতো করতে পারবে না। তার মায়ের মৃত্যুর সিনে সে যখন পাশে বসে কাদে তখন আমার মনেহয় সালমানের সাথে এখনোই একটা সিনেমা বানাতে হবে" লেখার শুরুতেই এই প্রসংগগুলো টেনে আনলাম যেনো এই সিনেমার রিচ আর রেইঞ্জ সম্পর্কে ভালো একটা আইডিয়া পেয়ে যান।

মাসালা এন্টারটেইনার হচ্ছে বলিউডের সবচেয়ে আপন সিনেমা জনরা। অথচ একটা সময় বলিউডে মাসালা ফিল্ম যখন ধুকছিলো তখন "দাবাং" বলিউডে একশন মাসালা ফিল্মের রেভ্যুলেশন নিয়ে এসেছিলো। বলিউডে মাসালা কপ ফিল্মের ট্রেন্ডসেটার ছিলো দাবাং।

আজ থেকে ঠিক ১০ বছর আগে মুক্তি পেয়েছিলো এই সিনেমা। আমার জীবনদ্দশায় কোনো সিনেমা নিয়ে এতো হাইপ, এতো ক্রেইজ আমি কখনো দেখি নি৷ দাবাং যেনো সুনামির মতো এসে পুরো উপমহাদেশে আঘাত এনেছিলো। কি আকাশচুম্বী ক্রেইজ ছিলো, ভাবার বাইরে । এই সিনেমায় সালমানের ব্যবহৃত কালো চশমা, চশমা পেছনে রাখার স্টাইল, বেল্ট স্টেপ, ডান্স, মুচ ওয়ালা লুক, গলার চেইন সবকিছু ছিলো রীতিমতো ভাইরাল। এই সিনেমার পরে ভারতে কালো সানগ্লাস এর বিক্রি কয়েকগুন বেড়ে গিয়েছিলো।

অনেক সিনেমাবোদ্ধাদের মতে কালজয়ী গাব্বার সিং এর পরে বলিউডের ইতিহাসের সবচেয়ে আইকনিক আর ফেমাস চরিত্র হচ্ছে চুলবুল পান্ডে। সালমান খানের যেনো জন্মই হয়েছিলো এই চরিত্রে অভিনয় এর জন্য, কি অসাধারান পারফরম্যান্স। তার মতো আর কেউই এই চরিত্র করতে পারতো না।

সিনেমার প্রত্যেকটা ডায়লগ আজ ও মানুষের মুখে মুখে আছে। মজার বিষয় এই সব ওয়ান লাইনার ডায়লগ গুলো সালমানের নিজের লেখা। সিনেমার মিউজিক ছিলো অল টাইম ব্লকবাস্টার। সিনেমার এতো হাইপ আর ক্রেইজের পেছনে অন্যতম বড় ভূমিকা রেখেছিলো এই মিউজিক। "মুন্নি বদনাম হুয়ে" কি পরিমান হিট হয়েছিলো সেটা তো সবারই জানা আছে । এটি টানা এক বছর রেডিওতে টপে ছিলো। হুড হুড দাবাং কিংবা তেরে মাস্ত মাস্ত সহ এলবামের প্রত্যেক টা গান ছিলো চার্টবাস্টার ।

দেশী একশনকে এক নতুন লেভেলে নিয়ে গিয়েছিলো দাবাং। এতো উপভোগ্য একশন বলিউডে সেবার ই প্রথম দেখেছিলাম। সিনেমাট্রোগ্রাফি, কালার কারেকশন, বিজিএম সবকিছুই ছিলো দূর্দান্ত। এর আগে কোনো মাসালা ফ্রিকে এতো এডবান্স কাজ দেখা যায় নি। অভিনব কাশ্যপ টেকনিক্যাল দিক ও খুব ভালো ভাবে হ্যান্ডেল করেছিলেন। সিনেমার কাস্টিং ছিলো চমতকার । চেদি সিং চরিত্রে সনু সুদ বলিউডের অন্যতম সেরা ভিলেন। সোনাক্ষির দূর্দান্ত ডেবিউ, বিনোদ খান্না -ডিম্পল কাপাডিয়াদের চমৎকার পারফরম্যান্স।

বক্স অফিসে ওপেনিং ডে, ওপেনিং উইকেন্ড এর সব রেকর্ড ভেঙে দেয় দাবাং। এখন পর্যন্ত সালমান ক্যারিয়ারের ৯ম সবচেয়ে বড় হিট দাবাং । বক্স অফিসে থেকে ব্লকবাস্টার ভার্ডিক্ট পায়। এই সিনেমার মাধ্যমে সালমান এই দশকে তার ব্লকবাস্টার রান শুরু করেন। এই সিনেমাটা সেই বছর সেরা এন্টারটেইনার এর জন্য জাতীয় পুরষ্কার সহ আরো ১১০ টা পুরষ্কার জিতে । ২০১১ সালে পাবলিক ডিমান্ডে ভারতে অনেক জায়গায় এটি আবার রিলিজ করা হয়। দাবাং ভারতের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে রিমেক করা হয়, তেলেগু রিমেক পাওয়ান কল্যান এর গাব্বার সিং ও ছিলো অল টাইম ব্লকবাস্টার।

অনেকে হয়তো জানেন না, চুলবুল পান্ডে মুলত ছিলো একটি নেগেটিভ ক্যারেক্টর, অভিনব কাশ্যপ এর প্ল্যান ছিলো তার ভাই অনুরাগ এর মতো লো বাজেট ডার্ক ক্রাইম ফিল্ম বানানোর। কিন্তু স্ক্রিপ্ট সালমানের হাতে যাওয়ার পর সালমান গল্পে পরিবর্তন করেন, নতুন করে ডায়লগ লিখেন। ডার্ক ফিল্ম কে চেইঞ্জ করে ফ্যামিলি এন্টারটেইনার বানান।

তার পারফরম্যান্স আর সোয়াগের মাধ্যমে একসময়ের নেগেটিভ ক্যারেক্টর কে পুরো প্যান ইন্ডিয়ার হিরো বানিয়ে দেন সালমান। সিনেমায় সোনাক্ষির কাস্টিং, মিউজিক চুজ , ওয়ান লাইনার ডায়লগ, চুলবুল পান্ডের লুক এবং স্টাইল - সবকিছু সালমানের নিজের করা। আজ এই ক্লাসিক সিনেমার ১০ম জন্মদিন। ১০ বছর আগের এই দিনে সবার পরিচয় হয়েছিলো আইকনিক "চুলবুল পান্ডে" র সাথে & The Rest Is History


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ