Feedback

জেলার খবর, কুড়িগ্রাম

নদীর ঘুর্ণিপাকে অর্ধ শতাধিক ফসলী জমিন নদী গর্ভে

নদীর ঘুর্ণিপাকে অর্ধ শতাধিক ফসলী জমিন নদী গর্ভে
September 10
12:49pm
2020
Mozaffor Ali
Kurigram Sadar, Kurigram:
Eye News BD App PlayStore

‘বাহে হামারগুলার মাঠ ভরা ফসল, গোয়ালভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ আছিল। সগে তিস্তা নদী গিলি খাইছে। এ্যালা আরেকজনের ভিটাবাড়িত আশ্রয় নিছি। সেটেও ভাঙবের ধরছে। এ্যালা হামরা যামো কোটে।’ এমন আর্তনাদের স্বরে নিজেদের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরলেন তিস্তা পাড়ের ভাঙন কবলিত তৈয়ব আলী (৭০), চাঁন মিয়া (৬৬) ও আবুল হোসেন (৬৭)। সকলের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের গাবুর হেলান এলাকায়। 

ভাঙন কবলিত এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন গত কয়েক দশক ধরে তীররক্ষা প্রকল্পের কাজ করলেও সেটা রক্ষা করতে পারছে না তারা। এবারো তীররক্ষায় ডাম্পিং করা হয়েছে শতশত জিও ব্যাগের বালির বস্তা। কিন্তু প্রলয়ংকরি তিস্তার তীব্র স্রোতের ঘূর্ণিপাকে বিলিন হয়ে যাচ্ছে সেসব সাময়িক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা।

প্রতিবছর এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা নদীগর্ভে গেলেও টনক নড়ে না সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। ভাঙন রক্ষায় কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের কথা গত কয়েক দশক ধরে শোনা গেলেও নানান কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে রাজারহাটে বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় দেড়শ’ গ্রাম।  বর্তমানে এই এলাকায় হুমকীর মুখে রয়েছে স্কুল মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ৬টি ক্রসবাঁধ, ২টি বেরিবাঁধ, বেশ কয়েকটি হাট-বাজারসহ কয়েক একর ফসলী জমিন।   

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিদ্যানন্দ ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গাবুর হেলান, ডাংরারহাট, চতুরা, কালিরহাট ও বুড়িরহাট এলাকার লোকজন ঘরবাড়ি সরিয়ে পার্শ্ববর্তী বাঁধের রাস্তায় কিংবা উঁচুস্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। 

চলতি বর্ষা মৌসুমে তিনদফা বন্যা ও তিস্তার প্রবল ভাঙনে অর্ধশত ঘর-বাড়িসহ ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ফলে ভাঙন কবলিত ভূক্তভোগী পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছে। ভাঙন প্রতিরোধের জন্য কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে বালি ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করেছেন নদী পাড়ের মানুষ। 

ভাঙন কবলিত এলাকার গাবুর হেলান গ্রামের আইজার আলী (৫৬), আব্দুল হানিফ (৬৫) ও আব্দুল মান্নান (৬০) জানান, সরকারিভাবে যে সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি তাতে আমাদের কিছুই হয়না। আমরা সাহায্য চাইনা, নদী শাসনের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা চাই।  ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ ইকবাল সোহরাওয়ার্দ্দী বাপ্পি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরে তাসনিম, তিস্তা নদীরক্ষা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক আলতাফ হোসেন সরকার, বিদ্যানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ তাইজুল ইসলামসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

তারা ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী কার্যক্রম গ্রহনের মাধ্যমে সমাধানের আহবান জানান।  বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ তাইজুল ইসলাম জানান, মানচিত্র থেকে আমার ইউনিয়নের মুল ভুখন্ডের দুইভাগ নদীগর্ভে চলে গেছে। জরুরী ভিত্তিতে নদী খনন করা হলে ভাঙন রোধ কমে যাবে। 

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানান. সরকার তিস্তা নদী তীরবর্তী ৪টি জেলা যথাক্রমে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার কিছু অংশ নিয়ে চায়না সরকারের পাওয়ার চায়না কোম্পানীর সাথে ২০১৯ সালে একটি চুক্তি করেছে। এতে পারমানেন্টভাবে নদী শাসন ব্যবস্থাপনা থাকবে। বিষয়টি স্টাডি হয়েছে। লোন স্যাংশন হয়েছে।

বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ৮ হাজার ২শ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন হলে তিস্তা পাড়ের মানুষের আর কষ্ট থাকবে না। এটি অর্থনৈতিক জোন হিসেবে কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে।

All News Report

সম্পর্কিত সংবাদ

ট্রেন্ডিং

নিখোঁজের ২০ ঘন্টা পর  আমতলীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজের ২০ ঘন্টা পর আমতলীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

মানুষ মত দেখতে অদ্ভুত প্রাণীটির দেখা মিলল পৃথিবীতে!

মানুষ মত দেখতে অদ্ভুত প্রাণীটির দেখা মিলল পৃথিবীতে!

শাকিল বাড়ি ফিরেছে,তবে মৃত

শাকিল বাড়ি ফিরেছে,তবে মৃত

নূরদের বিরুদ্ধে মামলাকারী তরুণীর এবার শাহবাগ থানায় মামলা

নূরদের বিরুদ্ধে মামলাকারী তরুণীর এবার শাহবাগ থানায় মামলা

স্তন  নিয়ে  প্রশ্ন করায় বেজয় চটে গেলেন শার্লিন চোপড়া

স্তন নিয়ে প্রশ্ন করায় বেজয় চটে গেলেন শার্লিন চোপড়া

পাপিয়া দম্পতির যাবজ্জীবন সাজা দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

পাপিয়া দম্পতির যাবজ্জীবন সাজা দাবি রাষ্ট্রপক্ষের

দেশের বাজারে বর্তমান স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে বর্তমান স্বর্ণের দাম

স্মৃতির পাতায় অমলিন প্রিয় ক্যাম্পাস

স্মৃতির পাতায় অমলিন প্রিয় ক্যাম্পাস

অখ্যাত স্কুলের বিখ্যাত শিক্ষকঃ একজন হামিদ স্যার

অখ্যাত স্কুলের বিখ্যাত শিক্ষকঃ একজন হামিদ স্যার

আত্মহত্যার কারণ ও তার সুস্পষ্ট সমাধান

আত্মহত্যার কারণ ও তার সুস্পষ্ট সমাধান

পেটের ব্যাথা সইতে না পেরে স্কুলছাত্রী কীটনাশক পানে আত্মহত্যা

পেটের ব্যাথা সইতে না পেরে স্কুলছাত্রী কীটনাশক পানে আত্মহত্যা

রোববার থেকে সৌদির নতুন ভিসা

রোববার থেকে সৌদির নতুন ভিসা

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ  মামলার তথ্য ও প্রমাণাদী চেয়ে তদন্ত কমিটির জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ মামলার তথ্য ও প্রমাণাদী চেয়ে তদন্ত কমিটির জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ লক্ষ টাকার বীমা দাবী প্রদান করেছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ লক্ষ টাকার বীমা দাবী প্রদান করেছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স

সুনামগঞ্জ সমাচার

সুনামগঞ্জ সমাচার

সর্বশেষ

সুন্দরগঞ্জে ডিবি পুলিশের হাতে ১২০ পিস ইয়াবাসহ কারবারি আটক

সুন্দরগঞ্জে ডিবি পুলিশের হাতে ১২০ পিস ইয়াবাসহ কারবারি আটক

ক্যাচ মিস-২, রান-১! লজ্জায় মুখ ঢাকলেন কোহলি

ক্যাচ মিস-২, রান-১! লজ্জায় মুখ ঢাকলেন কোহলি

গোবিন্দগঞ্জে নৌকা বাইচের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

গোবিন্দগঞ্জে নৌকা বাইচের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

উপসহকারী কৃষি নিয়োগ বাস্তবায়নের দাবীতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান

উপসহকারী কৃষি নিয়োগ বাস্তবায়নের দাবীতে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান

উহানের ল্যাবেই তৈরি করা হয় করোনাভাইরাস! বিস্ফোরক দাবি চীনা বিজ্ঞানীর

উহানের ল্যাবেই তৈরি করা হয় করোনাভাইরাস! বিস্ফোরক দাবি চীনা বিজ্ঞানীর

জেলা ছাত্রলীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক চঞ্চল সহ দুই জন অস্ত্রসহ গ্রেফতার

জেলা ছাত্রলীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক চঞ্চল সহ দুই জন অস্ত্রসহ গ্রেফতার

শায়েস্তাগঞ্জে দিনভর নাটকিতায়  ৬  চোরাই গরু উদ্ধার,   ২ চোর আটক

শায়েস্তাগঞ্জে দিনভর নাটকিতায় ৬ চোরাই গরু উদ্ধার, ২ চোর আটক

নোয়াখালীতে অটোরিক্সা চোর চক্রের সাত সদস্য গ্রেফতার

নোয়াখালীতে অটোরিক্সা চোর চক্রের সাত সদস্য গ্রেফতার

চীনে ধ্বংস করা হয়েছে হাজার হাজার মসজিদ

চীনে ধ্বংস করা হয়েছে হাজার হাজার মসজিদ

করণ জোহরের বাড়িতে ড্রাগ পার্টি চলছিল?

করণ জোহরের বাড়িতে ড্রাগ পার্টি চলছিল?

ইমেজ পুনরুদ্ধার ও শৃঙ্খলা ফেরাতে কক্সবাজার পুলিশের নজিরবিহীন বদলি

ইমেজ পুনরুদ্ধার ও শৃঙ্খলা ফেরাতে কক্সবাজার পুলিশের নজিরবিহীন বদলি

কবি-রবি ডাকুয়ার কবিতা

কবি-রবি ডাকুয়ার কবিতা

রাণীনগরে গৃহবধুর রহস্য জনক মৃত্যু

রাণীনগরে গৃহবধুর রহস্য জনক মৃত্যু

মাদক নিয়ে কথা হয়েছিল রিয়ার সঙ্গে, জেরায় স্বীকার রাকুলের!

মাদক নিয়ে কথা হয়েছিল রিয়ার সঙ্গে, জেরায় স্বীকার রাকুলের!

মোংলা পৌর নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন

মোংলা পৌর নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন