About Us
Md. Sorif Uddin - (Sylhet)
প্রকাশ ৩০/০৮/২০২০ ১০:৩৮পি এম

ক্ষতিপূরণ পেলেন ডা. মঈনের পরিবার

ক্ষতিপূরণ পেলেন ডা. মঈনের পরিবার Ad Banner

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম চিকিৎসক হিসেবে মারা যাওয়া সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিনের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। 

ঈদুল আযহার পরপরই তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়েছে বলে রোববার (৩০ আগস্ট) নিশ্চিত করেছেন মৃত্যুবরণকারী চিকিৎসক ডা. মঈন উদ্দিনের স্ত্রী ডা. চৌধুরী রিফাত। তবে কতো টাকা তারা পেয়েছেন এ সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।  তিনি জানান, কোরবানি ঈদের পর তাদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়েছে। কোনও মানুষের ক্ষতিপূরণ কখনও হয় না, তবে কথা রেখেছে বলে সরকারকে ধন্যবাদ জানান ডা. চৌধুরী রিফাত জাহান। 

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ এপ্রিল (বুধবার) সকাল পৌনে সাতটায় ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন। 

জানা যায়, এরপর ডা. মঈন উদ্দিনের স্ত্রী চৌধুরী রিফাত জাহান গত ২৭ এপ্রিল সরকারের কাছে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আবেদন করেন। এরপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগ তার ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায় মন্ত্রণালয় ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়। 

এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে কোনও চিকিৎসকের মৃত্যু হলে বা আক্রান্ত হলে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। এর প্রেক্ষিতে গত ৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, ‘মার্চ মাস থেকে যারা কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করছেন, আমি তাদের পুরস্কৃত করতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘সরকার তাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেবে। এছাড়াও দায়িত্ব পালনের সময় কেউ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হলে তাদের জন্য ৫-১০ লাখ টাকার একটি স্বাস্থ্যবিমা থাকবে। কেউ মারা গেলে স্বাস্থ্যবিমার পরিমাণ পাঁচগুণ বেশি হবে।’ তবে মনে রাখবেন, এগুলো মার্চ মাসের পর থেকে যারা জীবনবাজি রেখে কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে কাজ করছেন, তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে,’ উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

এদিকে জানা গেছে, সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় যারা ‘সরাসরি জড়িত’ তাদের নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে।   

প্রসঙ্গত,সরকার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সেবাদানকারী চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে থাকা মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনকালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে। তাতে বলা হয়, ‘১৫ -২০তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে তিনি পাঁচ লাখ টাকা, আর মারা গেলে পাবেন ২৫ লাখ টাকা। ১০ থেকে ১৪তম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে পাবেন সাত লাখ, আর মারা গেলে পাবেন ৩৭ লাখ টাকা। আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কেউ আক্রান্ত হলে ১০ টাকা, আর মারা গেলে তার জন্য ৫০ লাখ টাকা পাবেন’, বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়। 

আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অথবা বিভাগ থেকে আক্রান্ত বা মৃত্যুবরণকারীরা এই অর্থ পাবেন। অর্থ দেওয়া হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ করা করোনা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিপূরণ খাত থেকে। এজন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে। আর এ জন্য ৮০০ কোটি টাকা রাখা হচ্ছে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ