About Us
MD. SHAHIN ALOM
প্রকাশ ৩০/০৮/২০২০ ০৯:২৯পি এম

ধর্মপাশায় বিধবা নারীকে পিটিয়ে আহত

ধর্মপাশায় বিধবা নারীকে পিটিয়ে আহত Ad Banner
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ললিতা বেগম (৩৫) নামে এক দরিদ্র বিধবা নারীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে উপজেলার পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তারের লোকজন। শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের বৌলাম গ্রামে উপজেলার নারী ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তারের  বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ললিতা বেগমকে প্রথমে পাশ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে তার অবস্থা আশংকাজ্জনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই দিনেই ললিতাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্ররন করেন।  

এ ব্যাপারে আহত নারী ললিতা বেগম বাদী হয়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তারের ভগ্নিপতি ও উপজেলার চকিয়াচাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোনায়েম মিয়া (৪৪) ও  বিডিআর  বিদ্রোহ মামলায় প্রায় তিন বছর সাজা কেটে আসা তাঁরই  ছোট ভাই সাকিন শাহ (৩০) সহ ৩ জনকে আসামী করে ধর্মপাশা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বৌলাম গ্রামের ললিতা বেগমের স্বামী মতি মিয়া স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গত প্রায় পাঁচ  বছর আগে  মৃত্যুবরণ করেন। মতি মিয়ার মৃত্যুুর পর থেকেই তার বিধবা স্ত্রী ললিতা বেগম মানুষের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি নিজ গ্রামে পল্লীবন্ধু নামে একটি বেসরকারি এনজিও সং¯’ার কার্যালয়ের গৃহ পরিচারিকার কাজ করে আসছেন। শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তারের মামাতো ভাই হায়দার মিয়া (৩২) বাদশাগঞ্জ বাজার থেকে পল্লীবন্ধু এনজিও সং¯’ার কার্যালয়ের  জন্য একটি গ্যাস সিলিন্ডার বোতল কাঁধে করে নিয়ে আসেন। এ সময় হায়দার তাঁর কাঁধ থেকে ওই গ্যাস সিলিন্ডার বোতলটি নামানোর জন্য গৃহপরিচারিকা ললিতা বেগমকে বলেন। এ সময় ললিতা বেগম কাজে ব্যস্ত থাকায় হায়দারকে  একটু দাঁড়াতে বলেন। পরে এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উপজেলায় পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যানের ভগ্নিপতি ও  প্রধান শিক্ষিক মোনায়েম মিয়া ও তাঁর ছোট ভাই সাবেক বিডিআরের জেল কাটা সদস্য সাকিন শাহ  ঘটনার ¯’লে ছুটে আসেন এবং তাঁরা তিনজন মিলে ওই বিধবা নারীকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে তাকে ঘটনা¯’লে  ফেলে রেখে  চলে যান। পরে  খবর পেয়ে ওই   বিধবা নারীর  স্বজনরা  ঘটনার¯’ল থেকে গুরুতর আহত ললিতা বেগমকে  উদ্ধার করে  তাকে  দ্রুত পাশের  মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বা¯’্য কমপ্লেক্সে  নিয়ে  ভর্তি করেন। পরে সেখানে তার অব¯’া আশংকাজ্জনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই দিন দুপুরে  ললিতাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্ররণ করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিক মোনায়েম মিয়া বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে উপ¯ি’ত ছিলাম ঠিকই। তবে আমি ওই নারীকে কোনো মারধর করিনি। বিডিআর  বিদ্রোহ মামলার চাকুরীচ্যুত অভিযুক্ত সাকিন শাহর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একটু  পরে কথা বলবেন বলে তিনি ফোনটি কেটে দেন। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের  নারী ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ললিতা একজন খারাপ চরিত্রের মহিলা। আমার লোকজন তাকে মারধর করেনি। বরং উল্টো সে আমিসহ আমার  লোকজনদেরকে অকথ্য ভাষায় গাল মন্দ করেছে। তাই আমিও তার বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এ বিষয়ে ধর্মপাশা থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন,  এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ