About Us
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
AMINUL JEWEL
প্রকাশ ৩০/০৮/২০২০ ০৪:২৪পি এম

বেশি দাম পেতে আগাম কপি করছে নওগাঁর চাষিরা

বেশি দাম পেতে আগাম কপি করছে নওগাঁর চাষিরা Ad Banner

শীতকাল মানেই হরেক রকমের টাটকা শাক-সবজির মেলা। শীতকালীন সবজি হিসেবে কপির রয়েছে নানাবিধ গুণ। এই সুস্বাদু সবজি ছোট থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই পছন্দ করে খেতে। আগাম শীতকালীন সবজির চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় নওগাঁর সবজি চাষীরা মাঠে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে।     

কেউবা জমি প্রস্তুত আবার কেউবা বিভিন্ন ধরণের সবজির বীজ বপণ ও চারা রোপণ করছেন। 

আবার কেউবা চারায় সেচ দিচ্ছেন। নিচ্ছেন বাড়তি যত্ন। এই জেলার মাটি সবজি চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অনেক চাষিরাই এখন আগাম সবজি চাষে ঝুঁকছেন। এছাড়াও, আগাম শাক-সবজির দাম বেশ ভাল পাওয়া যায়।  ফলে কৃষকরা লাভবান হন। 

এজন্য, জেলার চাষীরা আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম ও পালং শাক চাষ করছেন।     

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে ১৩শ’ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন কপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফুলকপি রয়েছে ৬শ’ হেক্টর ও আর বাঁধাকপি রয়েছে ৭শ’ হেক্টর জমিতে ।     কপির চাষ সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চাষ করা হয়ে থাকে। 

প্রায় আড়াই থেকে তিন মাস পরে এই সবজিটি বাজারে বিক্রি করা যায়। 

তবে, আগাম কপির ক্ষেত্রে নভেম্বর মাসে জমি থেকে সংগ্রহ করা হয় কপি। ফলে চাষীরা দামও ষোল আনা পেয়ে থাকেন।      জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে কপি চাষ করতে চার থেকে পাঁচ তোলা বীজ বপণ করতে হয়। আর জমি প্রস্তুত, সেচ, সার ও কীটনাশক দিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। 

ভাল ফলন হলে এক বিঘা জমি থেকে ১ থেকে সোয়া লাখ টাকার কপি বিক্রি করা সম্ভব।     এব্যাপারে নওগাঁ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের কপি চাষি সাদ্দাম হোসেন জানান, বেশ কয়েক বছর থেকে তিনি এই আগাম সবজি কপির চাষ করছেন। প্রতি বছরের মত এবারও তাঁর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ১৫ কাঠা জমিতে আগাম শীতকালীন ফুলকপি চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তাঁর সার-কিটনাশক ও শ্রমিক বাবদ ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবছর আগাম কপির ভাল দাম পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।     

’গত কয়েক বছর থেকে আগাম কপির দাম ভাল পেয়েছি। এবছর আবহাওয়া ভাল রয়েছে। ১২ কাঠা জমিতে আগাম কপি চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে পাতাকপি রোপণ করেছি। 

আশা করছি এবছরও কপির ভাল দাম পাব,’ কথাগুলি বলছিলেন সদরের আরেক কপি চাষি চকআতিথা গ্রামের খবির উদ্দিন।     এছাড়াও, সদরের হাজিপুর, কীত্তিপুর, বর্ষাইল, বোয়ালিয়া, পার-বোয়ালিয়া ও মির্জাপুরে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ মরিচ চাষিরা ভাল দাম পেতে এবছর আগাম শীতকালীন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করছেন।     

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামছুল ওয়াদুদ জানান, জেলায় ইতিমধ্যে প্রায় একশ’ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের কপি চাষ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আগামজাতের যেকোন সবজি বিক্রি করেই বেশি দাম পেয়ে থাকেন কৃষকরা। 

তাই কৃষি বিভাগ কৃষকদের আগাম জাতের এই সবজি আবাদ করতে নানা ধরণের পরামর্শ দিচ্ছে।     

মুঠোফোনে তিনি আরও জানান, জেলায় এবছর মোট ৮৮২০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করা হবে। এরমধ্যে প্রায় ১৩শ’ হেক্টর জমিতেই আগাম পাতাকপি ও ফুল কপি চাষ করা হবে। আমরা কৃষকদের কপিসহ আগাম শীতকালীন সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করছি বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ

Aktaruzzaman - (Khulna)
প্রকাশ ১৯/০৬/২০২১ ০৭:৩১পি এম