নুরুজ্জামান 'লিটন' - (Naogaon)
প্রকাশ ১৩/০৯/২০২২ ১১:১০এ এম

বদলগাছীতে সাবেক এমপির মাইক্রোফোন কেড়ে নিলেন বর্তমান এমপি;এলাকায় সমালোচনার ঝড়

বদলগাছীতে সাবেক এমপির মাইক্রোফোন কেড়ে নিলেন বর্তমান এমপি;এলাকায় সমালোচনার ঝড়
ad image
নওগাঁ জেলার বদলগাছীতে সাবেক এমপির সঙ্গে বর্তমান এমপির একই অনুষ্ঠানে বক্তব্যের মাঝামাঝি সময়ে মাইক্রোফোন কাড়াকাড়ি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনা ঝড় উঠেছে।
গত শনিবার বদলগাছীর শিবপুর হাইস্কুল মাঠে বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

কার কেমন ক্ষমতা, কার কেমন কর্ম দক্ষতা, এছাড়া দলীয় কর্মকান্ড নিয়ে উত্তেজনাপুর্ন বক্তব্যের মাঝে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে বর্তমান ও সাবেক এমপি। ইতিমধ্যেই তাদের বক্তব্যের কিছু অংশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি টক অফ দ্যা বদলগাছী-মহাদেবপুর পরিণত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য ড. আকরাম হোসেন চৌধুরী তার বক্তব্য বলেন সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি বদলগাছী মহাদেবপুরের রাস্তাঘাট ব্রিজসহ অনেক উন্নয়ন করেছেন। উন্নয়ন করতে হলে বরাদ্দের প্রয়োজন হয়না। এর জন্য একজন এমপির ৩টি গুন থাকতে হবে। প্রথম কারন হচ্ছে প্রাইম মিনিষ্টারের পরিচিত হতে হবে। মানে বঙ্গবন্ধুর কন্যার সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তাকে ভালোবাসতে হবে এবং তার ভালোবাসা পেতে হবে তাহলে মন্ত্রীরা ভালবাসবে, সচিবরা ভয় পাবে।

আরো বিভিন্ন প্রসঙ্গসহ স্থানীয় ইউপি নির্বাচন নিয়েও আকরাম চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। বর্তমান সংসদ সদস্য ছলিম উদ্দীন তরফদার আকরাম চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে তার বক্তব্যে বলেন,দেখা দেখি শিক্ষা নিতে হয়। আমার ইচ্ছা ছিল আপনার সাথে একবার নির্বাচন করা।

আমি টিকিট চেয়ে পাইনি তার পরেও আল্লাহ পাক তৌফিক দিয়েছিল জনগণ আমার ইচ্ছা পূরণ করেছিল ২০১৪ সালে। রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। যে কারনে আপনি আজ মাঠে মাঠে ঘুরছেন। শুধু নিজের জন্যে ভোট চাইবেন, না নৌকার জন্যে ভোট চাইবেন। তা দেখা যাবে আগামী নির্বাচনে। যদি অন্য কেউ টিকিট পায় তাহলে নৌকার ভোট করেন কীনা।
বিগত ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকার ভোট করেননি, যদি করে থাকেন তাহরে জবাব দেন বলে ছলিম উদ্দীন তরফদার মাইক্রোফোন আকরাম চৌধুরীর হাতে দেন।

এ সময় আকরাম চৌধুরী বলেন,তখন আমি বিএমডিএ চেয়ারম্যান ছিলাম। আমার ভোট করার বারণ ছিল।
"নো"বলে ছলিম উদ্দীন প্রতিবাদ জানান। তখন তার হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন ছলিম উদ্দীন। নেতা কর্মিদের মধ্যে উত্তেজনা ছরিয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এমপি ছলিম উদ্দীন।

ঐ অনুষ্ঠানের বক্তব্যের অংশ বিশেষ মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বদলগাছী মহাদেবপুর আওয়ামীলীগ নেতা কর্মিসহ সকল স্তরের লোকজনের মধ্যে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা জল্পনা কল্পনা চলছে।

ঐদিন শিবপুর হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিশেষ বর্ধিত সভার সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক আব্দুল্যাহ আল মাহেন মাহমুদ ঐ দিনের ঘটনা নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু খালেদ বুলু, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কিশোর প্রমুখ।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ