Md. Anwarul Islam
প্রকাশ ১৫/০৭/২০২২ ০৪:১৫পি এম

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য : গুরুত্ব ও সচেতনতা

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য : গুরুত্ব ও সচেতনতা
ad image
মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ

এখন থেকে ২০-২৫ বছর আগের তুলনায় সাধারণ জনগণের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের সামগ্রিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশে। উদাহরণস্বরূপ, একসময় পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে সচেতনতার অভাব, গর্ভবতী মায়ের যত্নে অবহেলা, বাড়ির কাছে চিকিৎসাকেন্দ্রের স্বল্পতা, দক্ষ ধাত্রীর অপ্রতুলতা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর হার অনেক বেশি ছিল। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও মাতৃ ও প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণের ফলে বর্তমানে গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুহার ও সামগ্রিক জন্মহার অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষ ধাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে ও গর্ভকালীন সেবাব্যবস্থা উন্নত হয়েছে।

প্রথমত, প্রজনন অধিকার অনুযায়ী একজন মানুষের সন্তানধারণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নিরাপদ গর্ভধারণ ও স্বাস্থ্যবান শিশু জন্মদানে সঠিক স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তির সুযোগ, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বাছাই করার স্বাধীনতা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জন্মদান অথবা জন্ম নিরোধের জন্য নারী-পুরুষ সবার সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমাদের দেশের সাধারণ জনগণের, বিশেষ করে নারীদের এসব অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার এখনো অভাব রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, পরিবার পরিকল্পনা ও পদ্ধতি নির্বাচনে পুরুষের চেয়ে নারীর ভূমিকা পালনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশে যত ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রয়েছে তার মধ্যে দুটি ছাড়া সব কটিই নারীদের জন্য। এসব পদ্ধতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় নারীদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অধিক হারে পিল গ্রহণ অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ করলেও সন্তান ধারণের ক্ষমতা হারানোর মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, জন্ম নিয়ন্ত্রণে অসফল হলে অনেকেই গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। গর্ভপাত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া, যাতে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
তবে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ধারণা শুধু নারী স্বাস্থ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রজনন স্বাস্থ্যের পরিচর্যা যেকোনো বয়সের নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। বিভিন্ন যৌন সংক্রামক রোগ, যেমন- গনোরিয়া, সিফিলিস, এইচআইভি ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতন থাকা আবশ্যক।

আবার, প্রজনন স্বাস্থ্যের সঙ্গে বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক সমস্যাও জড়িত। আমাদের দেশের গ্রামীণ সমাজে যৌবনপ্রাপ্ত হলেই মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে বাবা-মা এক প্রকার চাপ অনুভব করেন। অথচ অপ্রাপ্ত বয়সে শারীরিক সম্পর্কের পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। কম বয়সে বিয়ের ফলে অপুষ্ট শরীরে সন্তান ধারণ নারীকে গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন জটিলতার দিকে ঠেলে দেয়, এমনকি তার মৃত্যুর আশঙ্কাও থাকে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার নবজাতকের জন্মদানে ৩১ জনের মৃত্যু হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে এই সংখ্যা কমাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে মানবাধিকার ও লিঙ্গসমতা জড়িত বলে সরকার এরই মধ্যে এ ব্যাপারে অসংখ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে চলতি বছর থেকে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্কুলে বয়ঃসন্ধিকালীন যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে দেশের শিক্ষা বিভাগ। আবার যেকোনো সময় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রজননসেবা ও পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ প্রদানে সরকার ‘সুখী পরিবার’ হটলাইন সেবা চালু করেছে। সরকারের এমন উদ্যোগের ফলে নিশ্চিতভাবেই এই খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

এ ছাড়া সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও জনস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য একজন মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আমাদের দেশে এ বিষয়টি স্পর্শকাতর। তাই এ নিয়ে কথা বলতে অনেকেই লজ্জা বোধ করেন। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে যারা সংকোচ বোধ করেন, তাদের জন্য সবচেয়ে সহজ সমাধান হতে পারে ডিজিটাল মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ। এ ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল হেলথকেয়ার সলিউশনস তাদের ডিজিটাল হসপিটাল অ্যাপের কথা উল্লেখ করা যায়। অ্যাপটি দিয়ে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে কম খরচে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা যায় এবং এতে রোগীর সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় থাকে। এ ছাড়া তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবা গ্রহণে বিশেষ আগ্রহী হয়ে ওঠায় এমন অ্যাপভিত্তিক সেবা তাদের জন্য একই সঙ্গে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, সময়োপযোগী এবং সহজলভ্য। সরকারি-বেসরকারি সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনগণের সার্বিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায়।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ