About Us
আবদুল করিম
প্রকাশ ২৭/০৮/২০২০ ০৩:০৩পি এম

বিধবা নারীকে হয়রানির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

বিধবা নারীকে হয়রানির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে Ad Banner

লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী এক নারী। ছয় বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। পাঁচ সন্তান নিয়ে কষ্টের দিন যাপন করছেন তিনি। তার এ অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য তাকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী। ওই নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই নারী।এমন অভিযোগ পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। তবে আনোয়ার হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন।  ভুক্তভোগী ওই নারী এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ইউএনও মো. তৌছিফ আহমেদ ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন। ইউএনও মো. তৌছিফ আহমেদ বলেন, বুধবার একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।ভুক্তভোগী ওই নারী প্রতিবেদককে বলেন, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর বিধবা ভাতা ও সরকারি অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার নাম করে কৌশলে আমার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে আনোয়ার মেম্বার। পরে আমাকে বিভিন্ন সময় ফোন কুপ্রস্তাব দিতো, অশ্লীল কথাবার্তা বলতো। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে আমি মোবাইল বন্ধ করে রাখলে আমার প্রতিবেশিদের নাম্বার ফোন করে আমাকে মোবাইল দেওয়ার জন্য তাদের বলতো।  তিনি বলেন, আমি বিধবা নারী। লোকলজ্জার ভয়ে এসব কাউকে বলতেও পারিনা। চুপ করে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আনোয়ার মেম্বার আমার মেয়ের নামে এলাকায় বদনাম ছড়াচ্ছে। আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করছে। আমার নামে কোর্টে মিথ্যা মামলাও করেছে। আমার কাছ থেকে টাকা পাবে এমন  মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামলা করেছে।  

ওই নারী বলেন, আড়াই মাস আগে তার বাড়ির সামনে দিয়ে আসার সময় আমার পথ রোধ করে মোবাইল নিয়ে ফেলে আনোয়ার মেম্বার। পরে মোবাইল নিয়ে বাড়িতে ঢুকে যায়। মোবাইল তার কাছ থেকে নিতে তার বাড়িতে ঢুকলে সেখানে আনোয়ার মেম্বার আমাকে শ্লীলতাহানি করে এবং ভিডিও করে। পরে এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইতো।  তিনি বলেন, আমি ইউএনও অফিসে বিচার দিয়েছি। আমি তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিব। আমার ছেলে মেয়েদের নামে এলাকায় বদনাম করছে। আমার নামে বদনাম ছড়াচ্ছে এলাকায়। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমার কাছে ওই মহিলার কোনো ভিডিও নাই। তাকে হয়রানি করার প্রশ্নই আসেনা।   আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, ওই নারী খারাপ প্রকৃতির। এলাকার সবাই তাকে খারাপ বলে। তার কাছ থেকে তিনি দেড় লাখ টাকা পান। এসব টাকা ফেরত পেতে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহির উদ্দীন বলেন, আনোয়ার মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে আমি শাসন করেছি। বলেছি ওই নারীকে যাতে আর কল দিয়ে বিরক্ত না করে। ওই এলাকায় না যেতে বলেছি। তারপরও যদি এসব করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করবো ভুক্তভোগীকে।  চেয়ারম্যান মো. জহির উদ্দীন বলেন, আনোয়ার মেম্বারকে এসব করতে মানা করায় ও শাসন করায় সে আমার নামে অপবাদ দিচ্ছে।  ওই নারীর কাছ থেকে টাকা পান দাবি করে আদালতে দায়ের করা আনোয়ার হোসেনের মামলাটি তদন্ত করছেন লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি  বলেন, মামলাটি তদন্ত করছি। আদালতে আনোয়ারের দেওয়া ডকুমেন্টগুলোলো যাচাই করছি। বিবাদীর সঙ্গে কথা বলে দেখবো। শিঘ্রই প্রতিবেদন আদালতে পাঠাবো।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ