About Us
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১
Younus Ali
প্রকাশ ২৭/০৮/২০২০ ০১:৩২পি এম

নতুন আতঙ্ক এখন পানিবাহিত রোগ

নতুন আতঙ্ক এখন পানিবাহিত রোগ Ad Banner

বন্যার পানি ধীরে হলেও সরে যেতে শুরু করেছে। কিন্তু এবার আতঙ্ক বাড়াচ্ছে পানিবাহিত রোগ। এই সময়ে এটি একটি মহাদুর্ভোগও। এই আতঙ্ক এবং মহাদুর্ভোগ নিয়েই বসবাস করছেন দেশের ৩৩টি জেলার প্রায় ৮ লাখ পরিবারের প্রায় ৫০ লাখ বানভাসি মানুষ। দীর্ঘ ৫০ দিন পানির নিচে তলিয়ে থাকা কাদা কাদা ঘর, অবিরাম বৃষ্টি তার ওপর পানিবাহিত ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিসসহ নানা ধরনের চর্ম রোগে জর্জরিত এসব বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ।


ঘরে খাবার নেই, নেই সুপেয় পানিও। তিন দফা বন্যায় টিউবওয়েল নষ্ট হয়ে গেছে। পুকুরেও ঢুকেছে দূষিত পানি। খালে বিলে নদীতে হাওরে এখন পানি থই থই করলেও খাবার যোগ্য পানি মিলছে না কোথাও। কূলকিনারা না পেয়ে এসব পানি খেয়েই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। কোনো কোনো জেলায় এরই মধ্যে পানিবাহিত বিভিন্ন সংক্রামক রোগসহ নানা কারণে বন্যাপীড়িত মানুষদের মাঝে দেখা দিচ্ছে মারাত্মক স্বাস্থ্য বিপর্যয়। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা রয়েছে চরম ঝুঁকিতে।


দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এনডিআরসিসি) এর তথ্যমতে, গত ২৫ আগস্ট পর্যন্ত বন্যাকবলিত ৩৩ জেলার ৭ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৮ পরিবারের ৪৯ লাখ ৫২ হাজার ৪৩৭ জন মানুষ বানভাসি। প্রায় ৮ লাখ পরিবারের ৫০ লাখ মানুষ পানিবাহিত রোগের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।


জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ১নং কুলকান্দি ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর হরি নারায়ণ দাস জানান, এবারের বন্যায় যে কী পরিমাণ দুর্ভোগ হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এত লম্বা সময় বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা ঘরবাড়িতে এখন আর বসবাসের উপায় নাই। ঘরের চাল থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে ঘরদুয়ারের সবকিছুই বদলাতে হবে। পানিতে পচে গেছে সব। ভাঙা বাড়িঘর রোদে শুকায় আর মড়মড় করে ভেঙে পড়ে। এখন এগুলো ঠিক করব নাকি চিকিৎসা করাব তা ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছি না।


তিনি জানান, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে ঠিকই, কিন্তু ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে আছে আমাশয় এবং জন্ডিস। সরকারি হাসপাতাল থেকে জ্বর আর জন্ডিসের একই ওষুধ দেয়। ডায়রিয়ার স্যালাইন মাঝেমধ্যে পাওয়া যায়, বেশিরভাগ সময় পাওয়া যায় না। তখন বাইরের দোকান থেকে কিনতে হয়। একইভাবে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা, কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায়ও বন্যার পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিবাহিত রোগ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার বন্যা দুর্গতরা।


ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম তাহের  জানান, এখনো তেমন মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে আমাদের প্রস্তুতি নেয়া আছে। মেডিকেল টিম গঠন করা আছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বা পরিস্থিতিতে আমরা চিকিৎসা সেবা দিতে পারব।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ