About Us
শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১
ইশতিয়াক
প্রকাশ ২৭/০৮/২০২০ ০৯:৫২এ এম

অ্যাফা‌সিয়া (Aphasia) যোগাযোগ ক্ষমতা হারানোর অন্যতম একটি কারণ

অ্যাফা‌সিয়া (Aphasia) যোগাযোগ ক্ষমতা হারানোর অন্যতম একটি কারণ Ad Banner
অ্যাফা‌সিয়া স্নায়ুবিক শব্দ‌টির সা‌থে হয়ত আমরা অনে‌কেই প‌রি‌চিত আবার অনে‌কেই প‌রি‌চিত নই। কিন্ত অ্যাফাসিয়া সম্পর্কে সাধারন জ্ঞান যা হয়ত একজন সাধারন রোগী, তা‌দের প‌রিবার, বন্ধু বান্ধব, প্রতিবেশি ও অন্যান্য কা‌ছের মানুষ‌দের যোগা‌যোগ সম্প‌র্কিত সমস্যা বা বাকশক্তি হারানো বা লোপ পাওয়ার কারন গুলো বুঝ‌তে কিছুটা হ‌লেও সাহায্য কর‌বে। তাই আজকের লেখাটি অ্যাফাসিয়া সম্পর্কিত সাধারণ বিষয় নিয়েই।

অ্যাফাসিয়া একটি ভাষা ব্যাধি,যা বি‌ভিন্ন রো‌গের কার‌নে হ‌য়ে থা‌কে বা হ‌তে পা‌রে।সাধারনত স্ট্রোক থেকে বেঁচে যাওয়া এক তৃতীয়াংশ রোগীই এতে আক্রান্ত হন। অ্যাফা‌সিয়া, এটি মূলত ব্য‌ক্তির ভাষা, কথা বলা ও যোগা‌যো‌গের ক্ষমতায় ব্যঘাত ঘটায়। এখা‌নে যোগা‌যোগ বল‌তে একে অন্যের সা‌থে ক‌থপো-কথন বা বার্তার আদান প্রদান‌কে বোঝায়। বার্তার এ আদান প্রদান বা যোগা‌যোগ বি‌ভিন্ন মাধ্য‌মে হ‌তে পারে। যা‌কে আমরা মূলত ভাষা ব‌লে থা‌কি।ব্যাক্তির ব্যবহৃত এ ভাষাটি হ‌তে পা‌রে মৌ‌খিক বা অমৌখিক। আর আমরা মূলত এ মৌ‌খিক বা অমৌখিক (লেখা বা চি‌ঠি বা ক্ষু‌দে বার্তা, এমন কি ইশারা, ইঙ্গিতের) মাধ্য‌মে অথবা মৌ‌খিক ও অমৌ‌খিক দুই‌য়ের সমন্বয়ে যোগা‌যোগ বা বার্তার আদান-প্রদান ক‌রে থাকি।

যেসব কার‌নে অ্যাফা‌সিয়া হ‌য়ে থা‌কে:
অ্যাফা‌সিয়া প্রধাণত স্ট্রোক ও যেকোন ধর‌নের ট্রমা‌টিক ব্রেইন ইনজু‌রি (মাথায় আঘাত) বা পোষ্ট অপা‌রে‌টিভ ক‌ন্ডিশন থে‌কে হ‌তে পা‌রে। ত‌বে অন্যান্য রোগ থে‌কেও হ‌তে পা‌রে। যেমনঃ ব্রেইন টিউমার, ক্যান্সার, প্রগ্র‌রে‌সিভ নিউ‌রোল‌জিক্যাল ডি‌জিজ এর প্রি-ক‌ন্ডিশন হি‌সে‌বে প্রাইমারি প্র‌গ্রে‌সিভ অ্যাফা‌সিয়া (অন্য এক‌দিন লিখব) ইত্যা‌দি।

অ্যাফা‌সিয়ার লক্ষণ বা উপসর্গঃ
অ্যাফা‌সিয়া মূলত ভাষা ও যোগা‌যো‌গের ৪ টি মোডা‌লি‌টি‌কে (Modality) আক্রান্ত ক‌রে। এরা হল-
১। ভাষা বোঝার ক্ষে‌ত্রে (Receptive language)- অন্যের কথা, নির্দেশনা, ইশারা, ইঙ্গিত, বিষয় বস্তু, পারিপা‌র্শ্বিক অবস্থা, প‌রি‌বেশ-প‌রি‌স্থি‌তি, যে কোন ঘটনা ইত্যা‌দি বুঝ‌তে না পারা বা বুঝ‌তে অসু‌বিধা হওয়া।

২। কথা বলার ক্ষে‌ত্রে (Expressive language)- 
-কোন এক‌টি সম্পূর্ণ কথা বল‌তে বা বাক্য তৈ‌রি‌ কর‌তে না পারা বা সমস্যা হওয়া।
-কথা বলার সময় স‌ঠিক শব্দ নির্বাচন কর‌তে না পারা।
-কথা বলার সময় ব্যাকরন জ‌নিত ভুল হওয়া।
-একই শব্দ বারবার বলা।
-প‌রি‌বেশ প‌রি‌স্থ‌তি অনুযায়ী স‌ঠিক ইশারা-ই‌ঙ্গিত কর‌তে না পারা ইত্যা‌দি।

৩। পড়ার ক্ষে‌ত্রে (Reading)- অ্যাফা‌সিয়া ব্য‌ক্তির পড়া লেখায়ও প্রভাব ফে‌লে। এক্ষে‌ত্রে অ্যাফা‌শিয়া আক্রান্ত ব্য‌ক্তি য‌দি শি‌ক্ষিত হন, ত‌বে তার কোন কিছু পড়‌তে, কোন লেখার অর্থ বুঝ‌তে, অক্ষর চিন‌তে, রাস্তা ঘা‌টে ব্যবহৃত যে‌কোন ধর‌নের সাংস্কৃ‌তিক (Symbolic) চিহ্ন বুঝ‌তে, লি‌খিত কোন নির্দেশনা বুঝ‌তে, শুন্য স্থান পুর‌নের জন্য স‌ঠিক শব্দ নির্বাচ‌ন করার ক্ষে‌ত্রে সমস্যার সম্মক্ষীন হ‌তে পা‌রেন।

৪। লেখার ক্ষে‌ত্রে (Writing)- কোন কিছু লিখ‌তে গি‌য়ে বানান ভুল করা বা ভু‌লে যাওয়া, কোন নি‌র্দেশনা শু‌নে শু‌নে লিখ‌তে না পারা, এমন কি নি‌জের নাম, ঠিকানা ইত্যা‌দি লিখ‌তে না পারা।

অন্যান্য জ‌টিলতাঃ
১। ব্য‌ক্তিত্বহানী (Personality Disorder)
২। স্মরনশ‌ক্তি হ্রাস (Amnesia)
৪। অমনো‌যোগীতা (Attention Deficit)
৪। আত্ম‌বিশ্বাস হ্রাস (Low Self Esteem)

করণীয়ঃ
১। স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গু‌য়েজ থেরা‌পি‌ষ্টদের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। কেননা, বি‌ভিন্ন গবেষনায় প্রমা‌ণিত স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরা‌পি চি‌কিৎসা পদ্ধ‌তি একজন অ্যাফা‌সিয়া আক্রান্ত রোগীর ভাষা ও যোগা‌যো‌গের দক্ষতা ফি‌রি‌য়ে আন‌তে কার্যকরীভা‌বে ভূ‌মিকা পালন করে।
২। মূল শব্দ বা মূল কথা বোঝানোর জন্য একই শব্দ বারবার পুনরাবৃত্তি করতে হবে।
৩। রোগীর সাথে কথা বলার সময় সামনা-সামনি হতে হবে এবং কথা কিছুটা টেনে, ধীরে ও কিছুটা উচ্চস্বরে বলতে হবে।
৪। রোগীর যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য কথার সাথে ঈশারা-ইঙ্গিত ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনে লেখা ও ছবির ব্যবহার করতে হবে।
৫। রোগীর পড়া লেখার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তাকে বই পত্র, পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন পড়তে ও প্রতিদিনের সাধারণ রটিন লিখতে উৎসাহ দিতে হবে।
৬। রোগীকে তার মতামত প্রকাশের জন্য সময় দিতে হবে এবং একই সাথে কথা বলার সময় যে কোন রকমের তাড়াহুড়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে। 
৭। রোগী কোন কথা বলতে গিয়ে ভুল করে বসলে; তার কথায় ভুল না ধরে তাকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে এবং একই সাথে তাকে প্রাধান্য দিয়ে সঠিক কথা বলতে সাহায্য করতে হবে।
৮। রোগীর সাথে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের উন্নয়নের মাধ্যমে রোগীকে পারিবারিক ও সামাজিক আলোচনার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে এবং একই সাথে সম্ভব হলে তার কর্মস্থল ও অন্যান্য পরিচিত স্থানে তাকে নিয়ে যেতে হবে। যা তার ভাষার ও যোগাযোগের দক্ষতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
৯। রোগীর যোগাযোগ ও ভাষার প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের জন্য পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব ও পরিপার্শের মানু‌ষ জ‌নের এগি‌য়ে আসতে হবে। 
১০। স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গু‌য়েজ থেরা‌পি চি‌কিৎসার পাশাপা‌শি শারিরীক অন্যান্য সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করা।

মোঃ খোর‌শেদ আলম টুটুল
নির্বাহি সদস্য, সোসাইটি অফ স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টস ও
ক্লি‌নিক্যাল স্পিচ এন্ড ল্যাঙ্গু‌য়েজ থেরা‌পিষ্টস
সি আর পি, সাভার, ঢাকা-১৩৪৩।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ