Harunur Rashid - (Rajbari)
প্রকাশ ১৮/০৩/২০২২ ১২:০৯এ এম

দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহনযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়?

দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহনযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়?
ad image
সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনারদের সাক্ষাৎে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ নির্বাচন কমিশন কে নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলা হয় রাষ্ট্রের স্বামী বা অভিভাবক।তিনি আদেশ দিবেন নির্দেশ করবেন তিনি ইসিকে আহবান জানাবেন কেন?আমরা ও ইসিতে গিয়ে সিইসি কে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন করার আহবান জানাতে পারি।তাহলে আমাদের আর রাষ্ট্রপতির মধ্যে ব্যবধান কোথায়?

প্রশ্ন হলো কোন দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশের মতো দেশে কি আদৌ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহনযোগ্য নির্বাচন সম্ভব?নব্বইয়ের পর থেকে গত বিশ বছরের ইতিহাস তা বলেনা।১৯৯১ সালের নির্বাচন পদ্ধতির পর তৎকালীন বিএনপির সরকার ও ইচ্ছেমতো একটি নির্বাচন করে ফের ক্ষমতায় আসার সব পরিকল্পনা করে ১৯৯৬ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারি একটা নির্বাচন করে সংসদ ও গঠন করেছিল।কিন্তু তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সৃষ্ট আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নামে একটি সরকার বাংলাদেশের সংবিধানে সংযোজিত হয়।সে সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমেই ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ প্রথমবারের মতো রাষ্টীয় ক্ষমতায় আসে।তার ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের জাতিয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এবার বিএনপি আবারো ক্ষমতায় আসে এবং ফের ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে রাখতে ২০০৭ সালে একটি বিতর্কিত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচন করতে সব চেষ্টা করে।যদি এক এগারোর কারনে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।২০০৮ সালে এক এগারোয় গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ফলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে।এরপরেই চলে সংবিধানের সব গলা কাঁটা।

আদালতকে ব্যবহার করে প্রথমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিই সংবিধান থেকে বাতিল করে দেয়।২০১৪ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতার এক নির্বাচন করে সংসদ গঠন করে।কার্যত তারপর থেকেই দেশে বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতার নির্বাচনের এক নতুন রেওয়াজ চালু হয়।২০১৮ সালের জাতিয় নির্বাচনে তো দিনে দুপুরে ডাকাতির নির্বাচন করা হয়।ইসি কর্মকর্তারা ও পুলিশের সদস্যরা দিনের ভোট আগের রাতেই কাস্ট করা হয়।গত বারো বছরে আওয়ামী লীগের সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে যে ভাবে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে তাতে করে কি প্রমানের বাকী থাকে যে কোন দলীয় সরকারের অধীনেই বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহনযোগ্য নির্বাচন কখনোই সম্ভব নয়!

এখন প্রশ্ন হলো সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল কি পারবেন জাতিকে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহনযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে?এটা আমার মনে হয় আওয়ামী লীগের লোকজন ও বিশ্বাস করেনা।কাজী হাবিবুল আউয়াল নিজেকে আত্নহুতি দিয়ে ও বাংলাদেশের জনগনকে বিশ্বাস করাতে পারবেন না যে তিনি একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহনযোগ্য নির্বাচন করতে চান।কাদম্বিনি মরিয়া প্রমান করিল সে মরে নাই হাবিবুল আওয়াল চাইলেও কি তা পারবেন?তিনি জনগনকে বিশ্বাস করানের আগে নিজের মনকে কি বিশ্বাস করাতে পারবেন?কারন তার হাত পা দুটোই বাঁধা?গত প্রায় ত্রিশ বছরের বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে এটাই প্রমানিত হয় যে দলীয় সরকারের অধীনে কখনোই অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহনযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়?

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ