Md. Shajahan kobir - (Mymensingh)
প্রকাশ ১৬/০৩/২০২২ ০৭:০২পি এম

গৌরীপুরে ৪৯ বছর ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার নেই কোন রাস্তা

গৌরীপুরে ৪৯ বছর ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার নেই কোন রাস্তা
ad image
ময়মনসিংহের গৌরীপুরের কান্দুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কোন রাস্তা নেই। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাড়ির আঙিনা ও পুকুরের পাড় দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন বিদ্যালয়ের রাস্তার জন্য জমি দিতে রাজি হয়েছেন। তবে বিনিময়ে তিনি ওই বিদ্যালয়ে তার মেয়ের চাকরি চেয়েছেন। এই অবস্থায় রাস্তা হবে কি হবে না সংশয় দেখা দিয়েছে।

জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রভাতী বালা রক্ষিত বলেন স্কুলের নির্দিষ্ট রাস্তা না থাকায় আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তা সংকটে নির্মাণ সামগ্রী আনতে না পারায় স্কুলের ওয়াশবক্ল প্রকল্প আলোর মুখ দেখছেনা। রাস্তার জন্য জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ও অভিভাবকদের নিয়ে বাবুল ভাইকে অনুরোধ করেছি। কিন্ত তার সাফ কথা মেয়েকে চাকরি না দিলে রাস্তা দিবেনা।

জানা গেছে উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের কান্দুলিয়া গ্রামে ১৯৭৩ সালে
প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। বিদ্যালয়ে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৪৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী চারজন ব্যক্তি জমি ক্রয় করে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের আশেপাশের বাসিন্দারা
যাতায়াতের জন্য জমি ছেড়ে না দেয়ায় বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার জন্য কোন রাস্তা হয়নি।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহিত চিশতি দয়াল বলেন একটি সরকারি বিদ্যালয়ে যেতে রাস্তা থাকবে না এটা কেমন করে হয়। গত বছর ইউপি চেয়ারম্যান জনি ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর পাড় দিয়ে স্কুলের রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্ত জমির মালিক বাধা দেয়ায় আর কাজ হয়নি। সরকারি ভাবে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে কান্দুলিয়া গ্রামের সড়কের পাশেই বাবুল হোসেনের প্রায় ৭ কাঠা জমি রয়েছে। জমির কিছু অংশে পুকুর ও কিছু অংশে কৃষি কাজ করা হয়। বিদ্যালয়টির অবস্থান পুকুরের পশ্চিম পাড়ে। মূল সড়ক থেকে বিদ্যালয়ে
যেতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাড়ির আঙিনা কিংবা পুকুরের পাড় ব্যবহার করতে হয়।

শুকনো মওসুমে যাতায়াত কষ্ট না হলেও বর্ষাকালে পুকুরের পানি বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুকুরের পাশ দিয়ে রাস্তা করার জন্য বাবুলের কাছে দাবি জানায়। কিন্ত নিজের উচ্চ মাধ্যমিক পড়–য়া
মেয়েকে বিদ্যালয়ে দপ্তরী-কাম নৈশ প্রহরীর চাকরি না দিলে রাস্তার জমি দিবেন না বলে জানিয়ে দেন বাবুল।

বাবুল হোসেন বলেন বিদ্যালয়ের রাস্তার জন্য আমার জমি দিতে আপত্তি নেই। তবে আমার মেয়েকে বিদ্যালয়ে চাকরি দিতে হবে। বিদ্যালয়ের জন্য আমরা অনেক কিছু করছি। এবার আমার মেয়েকে চাকরি দিক এটাই দাবি। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীন বলেন বিদ্যালয়ের রাস্তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমির মালিককে বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজি করার চেষ্টা চালাচ্ছি। যোগ্যতার ভিত্তিতে উনার মেয়েকে স্কুলে পার্টটাইম কিংবা আনন্দস্কুলে চাকরি বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ