Md Ubaydullah - (Mymensingh)
প্রকাশ ১৬/০৩/২০২২ ০৬:৫৩পি এম

ময়মনসিংহে প্রাপ্তি মাদকাসক্ত পুণর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসারত যুবকের মৃত্যু

ময়মনসিংহে প্রাপ্তি মাদকাসক্ত পুণর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসারত যুবকের মৃত্যু
ad image
ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহে প্রাপ্তি মাদকাসক্ত পুণর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসারত এক যুবক ফাসিতে ঝুলে মারা গেছে। তার নাম অমিত দেবনাথ। সে গফরগাওয়ের চিত্ত রঞ্জন দেবনাথের ছেলে। সোমবার নগরীর সানকিপাড়া কাজল টাওয়ারে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কোতোয়ালী পুলিশ নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে ইউডি মামলা নং ২৩, তারিখ ১৪/৩/২ রুজু হয়েছে।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, অমিত দেবনাথকে গত ২২/১১/২১ ইং তারিখে প্রাপ্তি মাদকাসক্ত পুণর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। প্রায় চার মাস ধরে চিকিৎষাধীন থাকলেও অমিতের তেমন কোন পরিবর্তন দেখা যায়নি।

সোমবার তারা খবর পান, ঐ চিকিৎসা কেন্দ্রের (দুতলা) একটি রুমের ফ্যানের সাথে ঝুলে অমিত আত্বহত্যা করে। ঐ চিকিৎসা কেন্দ্রের দু,একজনের মতে, সোমবার অমিত দেবনাথকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত সময়ে তারা নামিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একাধিক মহলের মতে, ঐ পুণর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসার নামে চলছে অপচিকিৎসা, রোগীদেরকে করা হচ্ছে নির্যাতন। অনেকেক্ষেত্রে রোগি ভর্তির পর দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসার নামে অধিক টাকা আদায়ের কৌশল হিসাবে চলে আর নির্যাতন। এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়মিত কোন ডাক্তার ও সনদধারী নার্স।

এছাড়া রোগির চাহিদামত চিকিৎসা না দিয়ে ভয়ভীতির মাধ্যমে এবং শারিরীক নির্যাতন করে অপ্রয়োজনীয় ক্ষতিকর নয় এমন ওষুধ খাইয়ে দিচ্ছে। রোগীর লোকজনের কাছ থেকে ভাল মানের বা মানসম্পন্ন খাবারের টাকা আদায় করা হলেও অতিনিম্নমানের খাবার দেয়া হয়। রোগী ঐ নিচুমানের খাবার খেতে না চাইলে তাদেরক নির্যাতন করা হয়। অনেক রোগী জীবন বাচানোর তাগিয়ে নের্যাতন সহ্য করে আদা পেটে বা অনেক সময় না খেয়েই তাকে।

মহল বিশেষের মতে, অপচিকিৎসা ও নির্যাতনের কারণে অমিত দেবনাথ ফাসিতে ঝুলে মারা যেতে পারে। এ ব্যাপারে নিহতের বড় বোন বলেন, আমরা নিহতের অন্তেষ্টেক্রীয়া শেস করে সিদ্দান্ত নিব কি করা যায়। আপনারা দেখুন, আমার ভাইকে চিকিৎসার জন্য দিয়েছি, কেন মারা গেল।

ঐ পুনর্বাসন কেন্দ্রের মালিকের সাথে কথা বলার চেষ্ঠা করলে তারা গা ঢাকা দেন। মঙ্গলবার নির্বাহী পরিচালক মিজানুর রহমানের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তার মোবাইলে চার্জ নেই বলে কেটে দেন। এর পর আর চেষ্ঠা করে পাওয়া যায়নি। কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ