MAHBUBUR RAHMAN OVI
প্রকাশ ১৫/০৩/২০২২ ০৫:৩৩এ এম

বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের নাবিক হাদিসুরের দাফন কাল

বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের নাবিক হাদিসুরের দাফন কাল
ad image
রাশিয়া ও ইউক্রেনে যুদ্ধে রকেট হামলায় নিহত ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফের মরদেহ গ্রামের বাড়ি বরগুনা বেতাগীর পথে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বেতাগীতে হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের নিজ বাড়িতে নিহত নাবিক হাদিসুরের নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক করব স্থানে দাফন করা হবে।

ইতি মধ্যে বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের নিহত আরিফের নিজ বাড়ি কদমতলা গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে কবর প্রস্তত করা হয়েছে। হাদিসুর রহমানের স্বজনেরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রকেট হামলায় নিহত ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’র থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফের মরদেহ বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ সোমবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের ৮নম্বর গেট (হ্যাঙ্গার গেট) দিয়ে বের হয়ে গ্রামের বাড়ি বেতাগীর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।

সোমবার দুপুর ১২টা ৩ মিনিটে তার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে রোমানিয়া থেকে ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুরের মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। হাদিসুর রহমান আরিফের মরদেহ নিতে বিমানবন্দরে এসেছিলেন তার ছোট ভাই গোলাম মাওলা প্রিন্স, চাচা মিজানুর রহমান জীবন, খালা শিরিন আক্তার মমতাজ, খালাতো ভাই সোহাগ হাওলাদার ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন।

লাশবাহী ফ্রিজার ভ্যানে করে বরগুনার বেতাগী আনা হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফের মরদেহ। মরদেহ নিয়ে রওয়ানা হওয়ার আগে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন বলেন, হাদিসুর পরিবারের একমাত্র উপার্যনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। প্রকৌশলী আরিফের মৃত্যুতে শোকের ছায়া শুধু তার পরিবারে নয়, পুরো এলাকায়ই ছড়িয়ে পড়েছে রোববার (১৩ মার্চ) হাদিসুর রহমানের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু রোমানিয়া থেকে মরদেহ তুরস্কে আসার পর সেখানে তুষারপাতের কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়। চলতি মাসের ২ তারিখে ইউক্রেনে বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে রকেট হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান আরিফ নিহত যান। ৩ মার্চ অক্ষত অবস্থায় জাহাজটি থেকে ২৮ নাবিককে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের নিরাপদ বাঙ্কারে রাখা হয়। সেখান থেকে তাদের প্রথমে মলদোভা, পরে রোমানিয়া নিয়ে আসা হয়। গত ৯ মার্চ ২৮ নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

ইউক্রেন থেকে ২৮ নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও হাদিসুর রহমান আরিয়ের মরদেহ আনা সম্ভব হয়নি । তার মরদেহ ইউক্রেনে ফ্রিজিং করে রাখা হয়েছিল। ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে ২৮ জন নাবিক নিয়ে আটকা পড়েছিল ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। শনের এই জাহাজটি গত ২২ ফ্রেরুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজটি ইউক্রেন থেকে সিরামিকে বরগুনা বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ-আলম হাওলাদার মুঠোফোনে জানান, নাবিক হাদিসুরের মরদেহ এখনও বেতাগীতে পৌঁছায়নি , ধারনা করা হচ্ছে রাত ৯ টা থেকে ১০টার মধ্যে পৌঁছাবে । তিনি আরও জানান,সকল ধরনে শৃংখলা রক্ষায় পুলিশ এখানে পেট্রল ডিউটি করছে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ