Monir
প্রকাশ ১১/০৩/২০২২ ০৫:৫১পি এম

যারা দাম বাড়াচ্ছে তারা আ. লীগের লোক: মির্জা ফখরুল

যারা দাম বাড়াচ্ছে তারা আ. লীগের লোক: মির্জা ফখরুল
ad image
সরকারের দুর্নীতির কারণেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার সকালে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'সারাদেশ চিৎকার করছে, সারাদেশের মানুষ বলছে যে, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। তাতে কিছু যায় আসে না। উন্নয়ন তো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বললেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা আরেকটা মিথ্যা কথা। কারণ ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের আগে থেকেই তো দাম বাড়ছে।'

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, 'চালের দাম, তেলের দাম তো বাড়তেই আছে, পেঁয়াজের দাম বাড়তেই আছে। কারণ একটাই, আপনারা সব লুট করছেন, চুরি করছেন, ডাকাতি করছেন। আর যারা দাম বাড়াচ্ছে, তারা সব আওয়ামী লীগের সদস্য, আওয়ামী লীগের লোক।'

টিসিবির ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, 'তারা বলছে, আমি সয়াবিন তেল কিনতে পারি না, আমি চাল কিনতে পারি না, আমি চিনি কিনতে পারি না, লবণ কিনতে পারি না, পেঁয়াজ কিনতে পারি না। বাসায় ফিরে গিয়ে আমার বাচ্চাগুলোর মুখে কী দেব, সেই চিন্তায় যখন পাগল হয়ে যাই, তখন আপনাদের পদ্মাসেতু, উড়াল সেতু আর উন্নয়ন দেখে কি কোনো লাভ আছে? এটাই হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনের কথা।'


তার বক্তব্য, 'মূল্য বৃদ্ধিতে নিম্নআয়ের মানুষ, মধ্যআয়ের মানুষ আজ অসহায় হয়ে পড়েছে। এই যে করুণ অবস্থা সাধারণ মানুষের, তা এই সরকারের গায়ে লাগে না। তাদের মন্ত্রীরা সুন্দর সুন্দর কাপড় গায়ে দিয়ে চমৎকার চমৎকার জায়গায় বক্তৃতা দেয়, বিবৃতি দেয়। কী বলে? আরে দাম তো একটু সারাবিশ্বেই বেড়েছে, সেই সঙ্গে আমাদের ক্রয় ক্ষমতা বেড়ে গেছে।'


এ পর্যায়ে সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, 'ক্রয় ক্ষমতা মানে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক, টরেন্টো, নিউইয়র্কে যারা কেনাকাটা করেন, অথবা বাড়ি কিনেছেন তাদের ক্রয়ক্ষমতার কথা বলছেন? নাকি আমাদের অসহায় নিরীহ মানুষ, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি জনতার কথা বলছেন। আমার কৃষক ভাইয়ের তো ক্রয় ক্ষমতা বাড়েনি।'

'মানুষের জন্য সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'তাদের মন্ত্রীরা বলেন, বিশেষ করে যারা অর্থনীতির দায়িত্বে আছেন, অর্থমন্ত্রী আছেন একজন, তিনি অতীতে আদম ব্যবসা করতেন এবং একজন পরিকল্পনা মন্ত্রী আছেন, তিনি একজন আমলা ছিলেন। তিনি বলেন, "হ্যাঁ দাম বেড়েছে। কিন্তু বিশ্বের তুলনায় কম বেড়েছে; যেখানে মুদ্রাস্ফীতি অনেক কম।" আমরা সাধারণ মানুষ কি মুদ্রাস্ফীতি বুঝি? সাধারণ ভাষায় দাম বাড়াটাই মুদ্রাস্ফীতি।'

বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'দাম বাড়লো কেন? কারণ, আপনারা (সরকার) সব চুরি করতে শুরু করেছেন। চুরি বললে ভুল হবে, ডাকাতি ডাকাতি। সাধারণ ডাকাত নয়, বর্গীদের ডাকাতি…। এটা বর্গীর সরকার। এই সরকারের গায়ের চামড়া গণ্ডারের চেয়েও মোটা। এই সরকার স্বাধীনতা বিরোধী সরকার, এই সরকার জনগণের বিরোধী সরকার, এই সরকার কৃষক বিরোধী সরকার, এই সরকার শ্রমিক বিরোধী সরকার, এই সরকার সাধারণ মানুষ বিরোধী সরকার। মানুষের জন্য এদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।'

নির্বাচন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'তারা (সরকার) আরেক নির্বাচনের পায়তারা করতেছে। তারা আবার একটা নতুন নির্বাচন কমিশন করেছে। আমাদের আওয়ামী লীগের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, "বিএনপি যদি ভোটে না যায়, কেয়ারটেকার সরকার নিয়ে কথা বলতে থাকে, তাহলে অতল জলে ডুবে যাবে।"'

'ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলতে চাই- এত ভয় কেন নিরপেক্ষ সরকারে? এত ভয় কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে? নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার দিয়ে দেখেন না- আওয়ামী লীগ ডোবে, নাকি বিএনপি ডোবে।'

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, 'মানুষ বুঝে গেছে আপনাদের চালাকি। ছক বুঝে গেছে। এজন্য যারা অতীতে আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছিল, তারা এখন বলতে শুরু করেছে, "আগে জানলে তোর ভাঙা নৌকায় উঠতাম না"। আওয়ামী লীগ হচ্ছে মিথ্যাবাদী, প্রতারক। এরা জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এরা বিশ্বাসঘাতক দল।'

'তথ্য সন্ত্রাস চলছে'

মির্জা ফখরুল বলেন, 'গতকালই আমাদের স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন যে, "এখন বড় সমস্যা হচ্ছে যে, তথ্য সন্ত্রাস"। এটা কী? যেটা আসল সেটা বলা হয় না, নকলটা বলা হয়। আজকে এই সরকারের যত তথ্য তার সব ভুয়া।'

'হিসাব অনুযায়ী এই জিডিপির ৪২ শতাংশ হচ্ছে ঋণ। অর্থাৎ আপনাকে-আমাকে, আমাদের সকলকে ঋণে জর্জরিত করে দিচ্ছে (সরকার)। আমাদের পকেট থেকে টাকা কেটে ওই সারচার্জ, অমুক চার্জ, তমুক চার্জ নিয়ে আমাদেরকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। এই সরকার যদি বেশি চলে আমরা কি টিকতে পারব? আমাদের অস্তিত্ব থাকবে? থাকবে না', যোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

সরকারকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'মানে মানে সরে যান। ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করেন। তা না হলে জনগণই আপনাদের ঘাড় ধরে বের করে দেবে।'

কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, কৃষক দলের নাসির হায়দার, মামুনুর রশীদ খান, এস এম ফয়সাল, আনম খলিলুর রহমান, ওমর ফারুক শাফিন এবং সৈয়দ অলিউল্লাহ সিদ্দিকী প্রমুখ।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ