Md. Asir Uddin
প্রকাশ ০৯/০৩/২০২২ ০৫:২৮পি এম

সোনালী স্বপ্নের সমাবেশ আমগাছে

সোনালী স্বপ্নের সমাবেশ আমগাছে
ad image
ফাগুনের আগুন ঝরা দিনে নওগাঁর উত্তর-পশ্চিমাংশের উপজেলা ধামইরহাট, পত্নীতলা, সাপাহার, পোরশা এবং নিয়ামতপুরের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা আমবাগানে মুকুল দেখা যাচ্ছে। গতমাসের আগাম বৃষ্টিতে আমগাছের মুকুল আসায় সুবিধা হয়েছে বলে আমবাগান সংশ্লিষ্ট চাষিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পত্নীতলা এবং সাপাহার ঘুরে দেখা গেছে গাছে গাছে আমের মুকুল। সোনালী রোদের সাথে মুকুলের মিতালী আর হাওয়ায় দোল খাওয়া আপনাকে উপভোগ্য করে তুলবে। এখানে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে আম্রপালি, বারি ফোর, হাড়িভাঙ্গা, কাটিমনসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের আম চাষ করা হয়েছে।

উপজেলার ফোকন্দা গ্রামের তরুণ আমচাষি আজাদ হোসেন আম বাগানে নিজেকে উজাড় করে পরিচর্যায় মনোনিবেশ করেছেন। এবার প্রতিটি গাছে প্রত্যাশার চাইতে অধিক মুকুল এসেছে। মুকুল থেকে আমের গুটি বাঁধতেও দেখা যাচ্ছে। কৃষকগণ ঘন ঘন বাগান পরিদর্শন করে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। তাজরুল ইসলাম হোকমাপুর গ্রামের প্রতিষ্ঠিত এবং স্বনামধন্য আমচাষি। তিনি এবার প্রায় শতাধিক বিঘা জমিতে আমের পরিচর্যা করছেন। মুকুলে কোন রকম কীটনাশক প্রয়োগ করা থেকে চাষিদের বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন। মুকুলকে পরাগায়ন এবং আমের গুটিকে সুস্থ্য রাখতে ছত্রাশনাশক হিসেবে সাদা মেনকোজেব পাওডার, সামান্য পরিমাণ সালফার এবং ট্রায়াকন্ট্রোনাল স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

আমচাষি এবং কীটনাশক বিক্রেতা মিজানুর রহমান আবহাওয়া অনুকুল থাকায় কৃষকের সোনালী স্বপ্ন সবুজ আমে ভরপুর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আমকে ঘিরে এই অঞ্চলের অর্থনীতি এবং সমাজনীতি নির্ধারিত হয়ে থাকে। নাগরিক জীবনে খড়ির চূলা থেকে গ্রামীণ নারী এখন গ্যাসের চূলায় রান্না করছেন। মাটির বাড়িতেও লাগিয়েছেন এয়ারকন্ডিশন। বাবা-ছেলে উভয়েই ব্যবহার করছেন দামি ব্যান্ডের মোটরসাইকেল। স্থানীয় প্রশাসন এবং বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিও আমচাষিদের স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় প্রতীজ্ঞ।

সব কিছু অনুকূলে থাকায় এবার আমের উ’’পাদন ১২ লক্ষ মেট্রিক টন হতে পারে বলে কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও আমচাষি ও ব্যবসায়িদের জন্য সহায়ক অবকাঠামো থাকায় আমের জন্য আদর্শ এলাকা হিসেবে অত্রাঞ্চল প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে। আমের সোনালী মুকুল থেকে আম ধরা এবং পরিপুক্ত আম পাড়া শুরু হবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে। এবার রমজানের পরে আম হার্ভেস্ট হবে বিধায় বাজার ভালো থাকতে পারে বলে একাধিক বাগানি এবং ব্যবসায়ি অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সব মিলিয়ে এবার আমের জন্য অনুকুল আবহাওয়া কৃষকেদের আশির্বাদ বয়ে আনুক।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ