KAMRUL ISLAM KAMAL
প্রকাশ ০৭/০৩/২০২২ ০৯:০৩পি এম

নরসিংদীতে যুবককে চার দফা পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ বন্ধুদের বিরুদ্ধে

নরসিংদীতে যুবককে চার দফা পিটিয়ে  হত্যার অভিযোগ বন্ধুদের বিরুদ্ধে
ad image
নরসিংদী শহরে মন্টি দত্ত (৩৮) নামের এক যুবককে চার দফা পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টা সময়ের মধ্যে পৃথক দুই এলাকায় তাঁকে মারধর করা হয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে রাত আটটার দিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মন্টি দত্ত নরসিংদী শহরের উত্তর কান্দাপাড়া পাতিলবাড়ি রোড এলাকার মৃত নিরঞ্জন দত্তের ছেলে। একসময় মুঠোফোনে রিচার্জের ব্যবসা করলেও স¤প্রতি তিনি বেকার ছিলেন। তাঁর ১০ বছর বয়সী কন্যা সন্তান রয়েছে। বেকারত্ব ও মাদকসেবন নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ ছিল নিয়মিত ঘটনা। সংসার চলত স্ত্রীর উপার্জনের টাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দফায় দফায় মারধরের অভিযোগ উঠেছে যাঁর বিরুদ্ধে, তাঁর নাম ফকরুল ইসলাম (৩৫)। মন্টি ও ফকরুল সব সময় একসঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং ঘটনার সময় তাঁরা দুজনই মাদকাসক্ত ছিলেন। মারধরে সরাসরি অংশ নিয়েছেন ফকরুলের সহযোগী স্থানীয় ১০/১২ জন যুবক।

নিহত মন্টির পরিবারের সদস্য ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য মতে, রবিবার সকালে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শাকিল নামের এক যুবকের সঙ্গে মন্টির কথা-কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে শাকিল ওই সময় মন্টিকে কয়েকটি চড় মারেন। মন্টি বাজিরমোড় এলাকার পাট্টা (বাংলা মদ বিক্রয়কেন্দ্র) থেকে দিনভর কয়েক দফা মদ পান করেন। পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পাশের একটি দোকান কাবাব খাওয়ার সময় সকালে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিষয় নিয়ে ফকরুলের সংগে তাঁর তর্কাতর্কি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নিলে ফকরুল মন্টির পরনের শার্ট টেনে ছিঁড়ে ফেলে। এতে মন্টি উত্তেজিত হয়ে ফকরুলকে গালিগালাজ শুরু করেন।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপস্থিত লোকজন তাঁদের দুজনকে সেখান থেকে দুই দিকে সরিয়ে দিলে তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ফখরুল তার সঙ্গীয় ১০/১২ জনকে নিয়ে আবার মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং মন্টিকে একা পেয়ে ব্যপরোয়া মারধোর করলে এক পর্যায়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। নেশায় আশক্ত মন্টি এলাকায় ফিরে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টের সামনে বসে ছিলেন। ওই রেস্টুরেন্টের সামনেই পূনরায় ফখরুল তাঁর সহযোগীরা মন্টিকে দেখে তৃতীয় দফায় মারধর করে। সেখান থেকে পালিয়ে মন্টি নিজের এলাকা পাতিলবাড়ি রোডে চলে যান। প্রতিশোধ নিতে মন্টি লোক জড়ো করছেন এমন খবর পেয়ে ফকরুল ও তাঁর সহযোগীরা পূনরায় পাতিলবাড়ি রোড এলাকায় গিয়ে তাঁকে চতুর্থ দফায় বেধরক মারপিট করে।

নিহত ব্যক্তির স্ত্রী তৃণা দত্ত বলেন, রাত পৌনে আটটার দিকে খবর পেয়ে তাঁর স্বামী মন্টি দত্তকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। রবিবার রাত আটটার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা লোপা চৌধুরী বলেন, ওই যুবককে জ্ঞানহীন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর লাশ রাতেই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন পেয়েছেন চিকিৎসকেরা। নরসিংদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ বলেন, দোষী ব্যক্তিদের দ্রæত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে নিহত ব্যক্তির পরিবার।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ