Harunur Rashid - (Rajbari)
প্রকাশ ০৭/০৩/২০২২ ০২:৪৬এ এম

বেঁচে থাকার বিকল্প কখনোই উন্নয়ন হতে পারেনা?

বেঁচে থাকার বিকল্প কখনোই উন্নয়ন হতে পারেনা?
ad image
দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথেই টিসিবির ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির ট্রাক বাজারে বেশী দেখা যায়।টিসিবির পণ্য এখন আর কার্যত গরীব মানুষদের কিনতে দেখা যায়না।টিসিবির ট্রাকের সামনে মধ্যবিত্ত ও নিম্মমধ্যবিত্তদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।সত্যি বলতে কি দেশের গরীব মানুষদের উপর ভ্যাট ট্যাক্স চাপিয়ে দিয়ে চিল্লা পাল্লা করে আপনারা হয়তবা মধ্যম আয়ের দেশের সার্টিফিকেট নিতে পারবেন সে পর্যন্ত সাধারন মানুষরা নিরবে চোখের জল ফেলে সুইসাইড করবে।

আজ সকালে যখন বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যাচ্ছি তখন বাসে উঠার সময় দেখলাম একজন মহিলাকে হাত পেতে ভিক্ষা চাইতে। মহিলা যে লোকটির কাছে ভিক্ষা চেয়েছে সে লোকটি তাকে পাঁচ টাকার একটা নোট দিয়ে বলল আপনি ড.হাসান মাহমুদের কাছে যান তিনি নাকি ভিক্ষুক দেখতে পান না?প্রতিদিন আসা যাওয়ার পথে শতশত ভিক্ষুকের দেখা পাই অথচ মন্ত্রী মহোদয় বললেন দেশে কোন ভিক্ষুক নেই।একটা পদ্মা সেতু আার চার পাঁচটি ফ্লাইওভার করলেই যে দেশ উন্নত রাষ্ট্রের তকমা পেয়ে যায় তা কখনোই সঠিক নয়।দেশের অবকাঠামো গত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের সাধারন জনগনের জীবনমান উন্নয়ন পরিপূর্ণ আইনের শাসন ও জনগনের মত প্রকাশের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা যতক্ষন না থাকবে ততক্ষন পর্যন্ত কোন রাষ্ট্রকে মধ্যম আয়ের দেশ বলা যাবে কি?

আওয়ামী লীগ বা সরকার মনে করছে সাধারন জনগন যেহেতু সরকারের কোন সিন্ধান্তের বিরুদ্ধে মাঠে নামছেনা সেহেতু দেশের জনগন সহজেই সব মেনে নিচ্ছে সত্যিই কি তাই?নিরবতা কোখনোই সম্মতির লক্ষন নয়,নিরব থাকাটা বর্তমানে দেশের জনগণের ভদ্রতা।বাস্তবতা হলো দেশের জনগন সময়ের অভাবে আন্দোলনে নামতে পারছেনা।নিত্যপণ্যের যে হারে প্রতিদিন দাম বাড়ছে তাতে জনগন বসে থাকার সময় ও পাচ্ছেনা।তাই রাস্তায় নামতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।আর এ সুযোগেই আওয়ামী লীগ তথা সরকারের কিছু মন্ত্রী হৈ চৈ করছেন দাম বাড়লে ও মানুষের ক্রয় ক্ষমতা নাকি বেড়েছে এটা পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কি হতে পারে?

আপনি যদি দেখেন গত দুই বছরে একমাত্র সরকারি চাকুরীজীবি ছাড়া আর কোন সেক্টরের মানুষের বেতন ভাতা বেড়েছে?করোনার গত দুই বছরে যেখানে সরকারি চাকুরীজীবিরা বাসায় বসে বসে বেতন বোনাস নিয়েছেন সেখানে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা দূর্বিষহ জীবন কাটিয়েছেন। অনেকের চাকুরী চলে গেছে,অনেকের বেতন কোম্পানি কমিয়ে দিয়েছেন,নিয়মিত বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে।তাহলে হাসান মাহমুদ কোন যুক্তিতে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে বলে প্রতিনিয়ত মন্তব্য করছেন? ঐ যে বললাম সাধারন জনগন রুটি রুজির প্রয়োজনে রাস্তায় আন্দোলনে নামতে পারছেনা বলে ভদ্রতার পরিচয় দিচ্ছেন?কিন্তু এই নিরবতার কি শেষ নেই?

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ