md rabiul alam - (Comilla)
প্রকাশ ০৪/০৩/২০২২ ০১:৩৮এ এম

দীর্ঘদিন অচলাবস্থার পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা

দীর্ঘদিন অচলাবস্থার পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা
ad image
চিড়িয়াখানা হল প্রাথমিকভাবে শুষ্ক সুবিধা প্রদানকারী স্থান যেখানে প্রাণীদের পরিবেষ্টন সীমাবদ্ধ থাকে এবং জনসাধারণের নিকট তা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। এদিকে অধিকাংশ খাঁচা শূন্য পড়ে আছে কুমিল্লা । আছে অবকাঠামোগত নানা সমস্যা। দীর্ঘদিন অচলাবস্থার পর অবশেষে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা। শুরু হয়েছে অন্যত্র পশুপাখি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া। বাতিল করা হয়েছে ইজারা কার্যক্রম। গত তিন যুগ ধরে জেলা পরিষদ তাদের তত্ত্বাবধানে চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনটি পরিচালনা করে আসছিল। এটি বন্ধ হলে জেলার একটি অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র থেকে বঞ্চিত হবে কুমিল্লাবাসী পশুপাখি স্থানান্তরের খবরে জেলার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। চিড়িয়াখানাটি বন্ধ না করে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করে দর্শনার্থীদের জন্য নতুন রূপে উপহার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, চিড়িয়াখানাটির ইজারা বাতিল করায় ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ইজারাদার। আদালতের পক্ষ থেকে ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বিষয়টি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ দিলেও এখনো কোনো সুরাহা করেনি জেলা পরিষদ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইজারাদার নিজেই। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা শহরের কালিয়াজুরি মৌজায় ১০ দশমিক ১৫ একর জায়গা নিয়ে চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দশমিক ৭৫ একর জায়গার মধ্যে স্থাপন করা হয় চিড়িয়াখানা। বর্তমানে সেখানে মাত্র ২৪টি পশুপাখি রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে তিনটি চিত্রা হরিণ, একটি ময়ূর, আটটি বিভিন্ন প্রজাতির বানর, তিনটি বাজপাখি, দুইটি মেছোবাঘ, একটি অজগর, দুটি খরগোশ, একটি কালিম পাখি ও তিনটি তিতির পাখি। এর আগেও এখানে ছিল চিত্রা হরিণের পাল, শিয়াল, তিনটি ময়ূর, তিনটি ঘোড়া, চারটি মেছোবাঘ এবং সিংহ ‘যুবরাজ’। এগুলো এখন আর নেই।

২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ২৫ লাখ টাকায় চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনটি ইজারা দেওয়া হয়। গেল বছর ৩০ জুন তিন বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই জায়গার মালিকানা জটিলতায় ইজারা কার্যক্রম বাতিল করে জেলা পরিষদ। বর্তমানে জায়গাটি কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে থাকলেও চিড়িয়াখানায় থাকা পশুপাখির খাদ্য জোগান দিচ্ছে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ। এ বাবদ প্রতি মাসে তাদের খরচ হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান মিঠু কুমিল্লা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এটিকে বন্ধ না করে দেশের সমৃদ্ধ একটি চিড়িয়াখানা করা হোক। কারণ এ শহরে মানুষের নিশ্বাস ফেলার কোনো জায়গা নেই। মা-বাবারা যে তাদের শিশুদের নিয়ে ঘুরবে তেমন কোনো জায়গাও গড়ে ওঠেনি। প্রয়োজনে চিড়িয়াখানাটি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়রে অধীনে দিয়ে সংরক্ষণ করা যেতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকার চিড়িয়াখানাটির সঙ্গে আরও অনেক কিছু সংযুক্ত করে দৃষ্টিনন্দন একটি চিত্তবিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারতো। একজন শুরু করেছেন, আরেকজনের কাজই ছিল এটিকে সমৃদ্ধ করা। দুঃখজনক হলেও সত্য, যখন জানতে পেরেছি এটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তখন কষ্ট পেয়েছি।প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ না করে প্রয়োজনে অন্যত্র জমি অধিগ্রহণ করে স্থানান্তর করা হোক।

ইতিহাসবিদ, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আহসানুল কবীর বলেন, কুমিল্লার সাবেক জেলা প্রশাসক আবদুস সালাম ১৯৮৬ সালে কুমিল্লার মানুষের বিনোদনের জন্য শহরের পশ্চিম প্রান্তে একটি চিড়িয়াখানা স্থাপন করেছিলেন। সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বন্ধ না করে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে এখানে দৃষ্টিনন্দন চিড়িয়াখানা, বিনোদন কেন্দ্র এবং একটি আধুনিক পার্ক তৈরি করবে প্রশাসন, কুমিল্লাবাসীর পক্ষ থেকে এটাই আমাদের চাওয়া।

কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের ইজারাদার আনিছুর রহমান বলেন, ২০১৮ সালে ইজারা নেওয়ার পর থেকে চিড়িয়াখানার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পশুপাখিতে সমৃদ্ধ করার জন্য জেলা পরিষদের কাছে বারবার দাবি জানানো হয়েছিল। এরই মধ্যে করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে চিড়িয়াখানা। পরবর্তীতে তিন বছর মেয়াদ শেষের আগেই এক মৌখিক আদেশে চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনটির ইজারা বাতিল করা হয়। এ নিয়ে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট উচ্চ আদালতে রিট দাখিল করি। তখন আদালতের পক্ষ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির আদেশ দিলেও এখনো কোনো সুরাহা করেননি জেলা পরিষদ।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ১৯৮৬ সাল থেকে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন জেলা পরিষদ পরিচালনা করে আসছে। এটি মূলত ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ভূমি। সে হিসেবে এ জায়গার মালিক জেলা প্রশাসক। যার কারণে আমরা ইজারা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। বর্তমানে আমাদের তত্ত্বাবধানে যেসব পশুপাখি রয়েছে সেগুলো শিগগির চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হবে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা যেটি জানিয়েছেন, এখান থেকে বাছাই করে কিছু পশুপাখি নেওয়া হবে। বাকিগুলো অবমুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ