Kaysar Reza Labonna - (Thakurgaon)
প্রকাশ ০২/০৩/২০২২ ০৩:৪৮এ এম

ইটভাটার কারণে বাড়ছে খড়ির দাম, ঠিকাদাররা বেকায়দায়

ইটভাটার কারণে বাড়ছে খড়ির দাম, ঠিকাদাররা বেকায়দায়
ad image
ঠাকুরগাঁওয়ে ইটভাটাগুলোতে অবাধে পুড়ছে কাঠখড়ি।একারণে বাজারে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে খড়ির দাম ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে খড়ি সরবরাহকারী ঠিকাদাররা পড়েছেন বেকায়দায়। নিজেদের আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করে চুক্তি মোতাবেক খড়ি সরবরাহ করতে হচ্ছে তাদের। বিষয়টি প্রতিকারে সম্প্রতি ঠিকাদাররা সম্মিলিতভাবে জেলাপ্রশাসককে লিখিত আবেদন করেন।

জানা যায় ঠাকুরগাঁও জেলায় মোট ইটভাটা রয়েছে ১১৭টি।। চলতি মৌশুমে (২০২১-২২) জেলার ১১৭টি ইটভাটার মধ্যে ১১৫টি ভাটা অবাধে জ্বালানী হিসেবে কাঠ ব্যবহার করে আসছে।ফলে বাজারে প্রতিমন কাঠখড়ির মূল্য ১শ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে যার ফলে জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে খড়ি সরবরাহকারী ঠিকাদারদের লাভ তো দূরের কথা পুঁজি ভাঙ্গিয়ে চলতে হচ্ছে।এব্যাপারে ঠিকাদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অতীতে জেলার ইটভাটাগুলোতে কাঠের ব্যবহার শুরু করলেও জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ফলে তা নিয়ন্ত্রিত ছিল, কিন্তু বর্তমানে তেমনভাবে কোন অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় ভাটাগুলোতে রীতিমত কাঠ পোড়ানোর উৎসব চলছে।

নিজেদের আর্থিক লাভের কথা বিবেচনা করেই জেলার ইটভাটাগুলোতে অবাধে কাঠখড়ি ব্যবহার করে ইট পুড়ছে ভাটা মালিকেরা। জেলার ভ্যাট কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, ১০লক্ষ ইট উৎপাদন করলে ভ্যাট দিতে হয় ৪লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। জেলার ভাটাগুলো কখনই তাদের ভাটায় উৎপাদিত ইটের সঠিক সংখ্যা জানিয়ে ভ্যাট প্রদান করেন না। এছাড়াও একটি ইট কয়লায় পোড়ালে খরচ হয় ৭টাকা অথচ কাঠ পোড়ালে খরচ হয় ৩টাকা পঞ্চাশ পয়সা। ফলে একদিক সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি ইটভাটা মালিকেরা গাছ পুড়িয়ে বিপুল পরিমান লাভ করছেন ইটভাটার ব্যবসা করে। সুযোগ কাজে লাগাতে প্রতি বছর নতুন নতুন ব্যবসায়ীরা ইটভাটা ব্যবসায় তাদের নাম লেখাচ্ছেন।

ভাটামালিকদের অতি লোভের কারণে একদিকে যেমন জেলার বনজ ফলদ বৃক্ষ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে ও পরিবেশের ক্ষতি করছে তেমনি অপরদিকে জেলার সরকারি প্রতিষ্ঠানে খড়ি সরবরাহকারী সাধারণ ঠিকাদাররাও আর্থিক ক্ষতির সন্মুক্ষিন হচ্ছেন।
সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে খড়ি সরবরাহকারী ঠিকাদাররা সম্মিলিতভাবে তাদের সমস্যা জানিয়ে এবং ইটভাটাগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে কাঠ পোড়ানো বন্ধ করতে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন জানান।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ