Abdul majid
প্রকাশ ২৫/০২/২০২২ ০৪:৫৯পি এম

সবাই ভীত, রাশিয়ার হামলার পর ন্যাটোকে জেলেনস্কির খোঁচা

সবাই ভীত, রাশিয়ার হামলার পর ন্যাটোকে জেলেনস্কির খোঁচা
ad image
রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলার মুখে ইউক্রেনকে একা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। শুরুতে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেও রাশিয়ার হামলার পর পিছুটান দেওয়ার ন্যাটোকে খোঁচাও দিয়েছেন তিনি। টানা কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রপথে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রাশিয়ার বড় ধরনের হামলা শুরুর পর তিনি এমন মন্তব্য করেন।

এদিকে হামলা শুরুর প্রথম দিনেই ইউক্রেনে ১৩৭ জন সামরিক ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। আজ শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের দেশকে রক্ষার জন্য (সবাই) আমাদেরকে একা ছেড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘(ইউক্রেনকে রক্ষায়) আমাদের পাশে থেকে কারা লড়াই করতে প্রস্তুত? আমি কাউকেই দেখতে পাই না। ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার ব্যাপারে কে ইউক্রেনকে নিশ্চয়তা দেবে? সবাই ভীত।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেনকে সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য করতে আমি ২৭ জন ইউরোপীয় নেতাকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু কেউই কোনো উত্তর দেয়নি। সবাই ভীত।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রপথে ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় হামলা শুরু করেছে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী। একসঙ্গে তিন দিক দিয়ে হওয়া এই হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বৃষ্টির মতো পড়েছে রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের চেরনিহিভ, খারকিভ এবং লুহানস্ক সীমান্ত পেরিয়ে স্থলপথে দেশটিতে ঢুকে পড়েছে হাজার হাজার রুশ সৈন্য।

আক্রমণের প্রথম দিনেই দেশটিতে নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন। নিহতদের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক মানুষও রয়েছেন। এছাড়া ইউক্রেনের ঐতিহাসিক চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও দখল করে নিয়েছে রাশিয়া।

রাশিয়ার হামলার প্রথম দিনে সেনা ও সাধারণ মানুষসহ ইউক্রেনে ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন জানিয়ে ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কি বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) আমরা আমাদের ১৩৭ জন বীর নাগরিককে হারিয়েছি। নিহতদের মধ্যে সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিক মানুষও রয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ার হামলায় আরও ৩১৬ জন ইউক্রেনীয় আহত হয়েছেন।’

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর দিকে ইঙ্গিত দিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘তারা মানুষকে হত্যা করছে এবং শান্তিপূর্ণ শহরগুলোকে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। এটা লজ্জাজনক এবং কখনোই ক্ষমা করা হবে না।’

জেলেনস্কি বলেন, রুশ নাশকতা গ্রুপগুলো রাজধানী কিয়েভে প্রবেশ করেছে। আর তাই শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং কারফিউ মেনে চলতেও অনুরোধ জানান তিনি।

এদিকে রাশিয়ার হামলার মুখেও নিজ পরিবারকে নিয়ে ইউক্রেনেই অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। যদিও তাকে ‘টার্গেট নাম্বার ওয়ান’ হিসেবে ঘোষণা করেছে রাশিয়া।

জেলেনস্কির ভাষায়, ‘রাষ্ট্রপ্রধানকে অপসারণ করে রাজনৈতিকভাবে ইউক্রেনকে ধ্বংস করতে চায় তারা (রাশিয়া)।’

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ