Irfan Ibne Amin Patwary - (Comilla)
প্রকাশ ২৫/০২/২০২২ ০২:১৪এ এম

ইউক্রেন সংকট: কে কোন পক্ষে?

ইউক্রেন সংকট: কে কোন পক্ষে?
ad image
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন সতর্ক করেছেন, ইউক্রেনে ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে’ পূর্ণ মাত্রায় আগ্রাসন হতে পারে। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড উভয়ই প্রতিবাদ জানাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। জাপানও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে রাশিয়ার ওপর। ভারত এখনও কারো পক্ষে কথা বলেনি। তবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি অব্যাহত রেখেছে। এদিকে, ইউক্রেনের দুটি অঞ্চলকে স্বীকৃতি দিতে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া।

পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইইউ ব্যাংকগুলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রাশিয়ান এমপিরা ইউক্রেনের বিচ্ছিন্ন ডোনেস্ক ও লুহানেস্কর স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। জার্মানি রাশিয়ার একটি বড় গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নর্ড স্ট্রিম-২ আটকে রেখেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পূর্ব ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের মস্কোর আদেশের সমালোচনা করেছেন এবং এটিকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে বর্ণনা করেছেন। ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তিনি তাদের সংবিধানে বর্ণিত ডোনেস্ক এবং লুহানেস্ক অঞ্চলের সীমানাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। দুটি অঞ্চলের মধ্যে ইউক্রেনীয়-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলও রয়েছে।

মস্কোর পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে বিদেশে সামরিক বাহিনী ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। মস্কো-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দ্বারা পরিচালিত দুটি অঞ্চলে এখনও কোনো রাশিয়ান সেনা পাঠানো হয়েছে কি-না, তা পরিষ্কার নয়। সংকট মোকাবিলায় ভারত সতর্ক:- ভারত এখন পর্যন্ত তার প্রতিক্রিয়ায় সতর্ক। সরাসরি রাশিয়ার সমালোচনা করেনি, তবে জোর দিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনীতি ব্যবহার করা উচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো চাইবে ভারত একটি স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করুক, কিন্তু দিল্লি বিভিন্ন কারণে তা করতে পারেনি। মস্কো ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বৃহত্তম সরবরাহকারী। তবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিল্লির পক্ষে এবার নিরপেক্ষ থাকা কঠিন করে তুলতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব:- অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার পুতিনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, তার সরকার এখনও রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের পদক্ষেপ নিচ্ছে না। স্বীকৃতির আহ্বান রাশিয়ার:- রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূর্ব ইউক্রেনের বিদ্রোহী শাসনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। নিকারাগুয়া এবং সিরিয়া বলেছে, তারা ডোনেস্ক এবং লুহানস্ককে স্বাধীন হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার মস্কোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। যদিও তারা এটি অনুসরণ করবে কি-না, তা স্পষ্ট নয়।

রাশিয়ান-সমর্থিত বিচ্ছিন্ন অঞ্চল দক্ষিণ ওসেটিয়া ২০১৫ সালে রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করেছিল। দক্ষিণ ওসেটিয়া জর্জিয়ার একটি বিচ্ছিন্ন অংশ, যা ২০০৮ সালে রাশিয়ার সামরিক হস্তক্ষেপের পর স্বাধীনতা লাভ করে। এটি মস্কোর মিত্রদের দ্বারা স্বীকৃত। কিউবার কমিউনিস্ট সরকার পশ্চিমাদের অভিযুক্ত করেছে মস্কোকে ‘প্রচার যুদ্ধ’ দিয়ে টার্গেট করার জন্য। ইরানি মিডিয়াও ইউক্রেনে মস্কোর পদক্ষেপের প্রতি অনেকাংশে সহানুভূতিশীল।

ইউক্রেনে আরও সাহায্য পাঠাচ্ছে কানাডা:- ইউক্রেন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ন্যাটোভুক্ত দেশের কাছ থেকে অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছে। কানাডার জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী টুইট করেছেন, সামরিক সহায়তার দ্বিতীয় চালান পাঠানো হয়েছে ইউক্রেনে। নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি:- পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো বিশ্ব বাজারেও আঘাত হানবে এবং আমেরিকানদেরও প্রভাবিত করবে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনোভ বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা মস্কোকে তার বৈদেশিক নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করবে না। আমাদের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো বিশ্বব্যাপী আর্থিক ও জ্বালানি বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার সাথে আমেরিকার অর্থনৈতিক লেনদেন তুলনামূলকভাবে ছোট। তবে বাইডেন নিজেই স্বীকার করেছেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে প্রভাব পড়তে পারে। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাপান:- জাপান ইতোমধ্যেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন, তিনি জাপানে রাশিয়ান বন্ড ইস্যু করা নিষিদ্ধ করবেন এবং ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন। এছাড়া বেশ কিছু রাশিয়ান ব্যক্তির সম্পদ জব্দ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্র যাদেরকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে:- ইউএস ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট পাঁচজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে, যাদেরকে পুতিনের অভ্যন্তরীণ বৃত্তের শক্তিশালী রাশিয়ান হিসেবে মনে করা হয়। তাদের মধ্যে ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) ডিরেক্টর আলেকসান্ডার ভ্যাসিলিভিচ বোর্টনিকভ এবং তার ছেলে ডেনিস রয়েছেন। তৃতীয় ব্যক্তি হলেন- প্রমসভ্যাজব্যাঙ্ক পাবলিক জয়েন্ট স্টক কোম্পানির চেয়ারম্যান পেট্র ফ্র্যাডকভ।




লেখক:- ইরফান ইবনে আমিন পাটোয়ারী

শিক্ষার্থী:- প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ