Irfan Ibne Amin Patwary - (Comilla)
প্রকাশ ২৫/০২/২০২২ ১২:০৬এ এম

ইউক্রেন সংকট: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি আসন্ন?

ইউক্রেন সংকট: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি আসন্ন?
ad image
ইউক্রেন সংকট কি শেষ পর্যন্ত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নেবে? পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে কয়েক মাসের উত্তেজনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইউক্রেনে অভিযান শুরু করেছে রাশিয়া। হামলার জবাবে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। শুধু ইউক্রেনের সেনারাই আক্রমণ প্রতিহত করতে ময়দানে নেমেছে। প্রশ্ন উঠছে, ইউক্রেনকে রক্ষায় পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোও কি যুদ্ধে নামবে?


চলতি মাসের শুরুর দিকে ইউক্রেন ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছিলেন, ‘মার্কিন ও রুশরা যখন পরস্পরের দিকে গুলি ছোড়া শুরু করবে তখন সেটা বিশ্বযুদ্ধ হয়ে যাবে।’ তবে বাইডেন এও জানিয়েছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইউক্রেনে সেনাবাহিনী পাঠাবেন না তিনি। সেটা যদি রাশিয়ার আক্রমণে দেশটিতে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের উদ্ধারের জন্যও দরকার হয়, তাও নয়।


তার কথায়, ‘আমরা সেনা পাঠালে সেটা বিশ্বযুদ্ধ হয়ে যাবে। যদি আমেরিকান এবং রাশিয়ানরা একে অপরকে গুলি ছুড়তে শুরু করে, তবে আমরা এক ভিন্ন পৃথিবী দেখব।’


রাশিয়া ইউক্রেনের ঠিক কতটা গভীর পর্যন্ত সেনা পাঠাবে তা শুধু পুতিন এবং তার ঘনিষ্ঠরাই জানেন। অবশ্য যতক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসী বাহিনী সীমান্তে অবস্থান করে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং অন্য শহরগুলোও রুশ আক্রমণ থেকে নিরাপদ নয়। তবে ন্যাটো এবং পশ্চিমা বিশ্বের জন্য রেডলাইন হলো, রাশিয়া যদি ন্যাটোর কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে হুমকি দেয়।


ন্যাটোর সংবিধানের আর্টিকেল ৫-এ বলা হয়েছে, তাদের কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রমণের শিকার হলে তার প্রতিরক্ষায় সমগ্র পশ্চিমা সামরিক জোট এগিয়ে আসতে বাধ্য থাকবে। কারণ কোনো সদস্যের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা।


কিন্তু ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য নয়। যদিও তারা বলেছে, তারা ন্যাটোতে যোগ দিতে চায়। অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান ঠেকাতেই বদ্ধপরিকর। মূলত ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদান ঠেকাতেই তিনি এ হামলা শুরু করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


সোভিয়েত আমলে মস্কোর ক্ষমতাবলয়ে থাকা এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া বা পোল্যান্ডের মতো পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলো এখন সবাই ন্যাটোর সদস্য। তারাও উদ্বিগ্ন যে, রুশ বাহিনী হয়তো শুধু ইউক্রেনেই থেমে যাবে না, বরং তাদের মতো বাল্টিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জাতিগত রাশিয়ান সংখ্যালঘুদের ‘সহায়তা করতে’ এবং তাদের দেশে আক্রমণ করার জন্য কিছু অজুহাত খাড়া করতে পারে।


রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক বোমা রয়েছে। যেসব বোমা দিয়ে পুরো পৃথিবীকে কয়েকবার ধ্বংস করা যাবে। ফলে তারা এত সহজেই যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। যে কারণে ন্যাটো সম্প্রতি তার পূর্ব ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোর শক্তিবৃদ্ধির জন্য সেসব দেশে বাড়তি সেনা পাঠিয়েছে।


তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রশ্নে বিশ্লেষকরা বলছেন, যতক্ষণ না রাশিয়া এবং ন্যাটোর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ হচ্ছে, ততক্ষণ তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পরিস্থিতি এখনো বিশ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার মতো খারাপ হয়নি।







লেখক:- ইরফান ইবনে আমিন পাটোয়ারী

শিক্ষার্থী:- প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ