Monir
প্রকাশ ২৩/০২/২০২২ ০৮:৩৪পি এম

ছয় মাসে অবিশ্বাস্য চাল আমদানি

ছয় মাসে অবিশ্বাস্য চাল আমদানি
ad image
গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে (ছয় মাস) যে পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে, এর আগে কখনও এত চাল আমদানি হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চাল আমদানিতে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর—এ ছয় মাসে চাল আমদানির এলসি খোলার হার বেড়েছে ৬০৯ শতাংশ। আর এলসি নিষ্পত্তির হার বেড়েছে ১৮ হাজার ৬৬২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর চাল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছিল ৪ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের। ২০২১ সালের একই সময়ে এলসি খোলা হয় ৩২ কোটি ১২ লাখ ডলারের। একইভাবে আগের বছরের ছয় মাসে চাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল মাত্র ২৪ লাখ ডলারের। ২০২১ সালের একই সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৬ কোটি ১৭ লাখ ডলারের।


অবশ্য চাল উৎপাদনে বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন স্বয়ংসম্পূর্ণ দাবি করে আসছে সরকার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশ এখন বড় আমদানিকারক। ইউএসডিএ’র তথ্যানুযায়ী চাল আমদানিতে এখন বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়। এক নম্বরে আছে চীন। এরপর আছে ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া ও সৌদি আরব।


অবশ্য চাল আমদানি বাড়লেও বাজারে কোনও প্রভাব নেই দামে। সরকারি তথ্যই বলছে, দেশে মোটা চালের কেজিই এখন ৫০ টাকা। সরু চাল কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬৮ টাকার মতো। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য বলছে, গত এক বছরে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, কিছুদিন কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অথচ চাল আমদানিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বা তৃতীয়। তিনি মনে করেন, বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া দরকার। তিনি উল্লেখ করেন, রেমিট্যান্স আগের চেয়ে কমে গেছে। যে কোনও সময়ের চেয়ে সার্বিক আমদানি বেশি হচ্ছে। এতে ব্যালেন্স অব পেমেন্টে অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে।

অবশ্য চালের মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে গত বছরের শেষের দিকে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। একইসঙ্গে সরকারি উদ্যোগেও চাল আমদানি অব্যাহত রাখা হয়। কিন্তু প্রথম দিকে ব্যবসায়ীরা চাল আমদানিতে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। ২০২১ সালের শুরু থেকেই চালের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি গুদামে মজুত এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়।জানা গেছে, সরকারি গুদামগুলোতে চালের মজুত বেড়ে ১৭ লাখ টন ছাড়িয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যশস্যের মজুদ ১৯.৮৬ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চালের মজুদ ১৭.২১ লাখ মে টন। গমের মজুদ ২.৩৫ লাখ মেট্রিক টন। ধান মজুদ রয়েছে ০.৪৬ লাখ মেট্রিক টন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে চাল আমদানি ছাড়াও খাদ্যপণ্যের মধ্যে গম আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ১০৯ কোটি ২৫ লাখ ডলারের। চিনির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৪৫ কোটি ৭২ লাখ ডলারের। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি। পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। ড্রাগ অ্যান্ড মেডিসিন আমদানি হয়েছে ৫৬ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরে এলসি খুলতে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য আমদানিতে। এর মধ্যে ইয়ার্ন ( কটন, সিনথেটিক, মিক্সট ) আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ১০৮ কোটি ডলারের এবং টেক্সটাইল ফেব্রিক্স ও ও গার্মেন্টসের বিভিন্ন এক্সেসরিজ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৪২৩ কোটি ডলারের। এছাড়া অন্যান্য পণ্য আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮৫১ কোটি ডলারের।

অর্থনীতিবিদরা অবশ্য বলছেন, রেকর্ড পরিমাণ এলসি খোলার প্রবণতা দেশের অর্থনীতিতে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল পুনরুদ্ধার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে (জুলাই- জুন) চাল আমদানির জন্য ৮৭ কোটি ৬২ লাখ ডলারের এলসি (ঋণপত্র) খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) জুলাই-জুন সময়ে মাত্র ২ লাখ ৫৩ হাজার ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ