Monir
প্রকাশ ২৩/০২/২০২২ ০৭:২১পি এম

হিলি বন্দরে ১১ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

হিলি বন্দরে ১১ দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ, বিপাকে ব্যবসায়ীরা
ad image
ভারতে পার্কিং চার্জ বৃদ্ধি ও ওভারলোডিং বন্ধসহ নানা কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত ১১ দিন ধরে চিপস পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে বিভিন্ন প্রকল্পে পাথর সরবরাহ করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন বন্দরের চুক্তিবদ্ধ আমদানিকারক ও পাথর ব্যবসায়ীরা। পাথরের অভাবে চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এছাড়া পাথর আমদানি না হওয়ায় বন্দরের রাজস্ব আহরণ কমেছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চিপস পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। মাঝে দুই দিন অল্পসংখ্যক আমদানি হলেও এরপর থেকে একেবারে বন্ধ আমদানি। এদিকে পাথর আমদানি বন্ধের ফলে সরবরাহ সংকটে দাম বাড়ছে। বর্তমানে ৫/৮ ও ৩/৪ সাইজের পাথর তিন হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে চার হাজার ৩৫০ টাকা এবং ১/৪ ও ১/২ সাইজের পাথর তিন হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাথর কিনতে এসে অনেকে না পেয়ে ঘুরে যাচ্ছেন।


বন্দরে পাথর নিতে আসা মেহেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা একটি চার লেনের সড়কের জন্য পাথর সরবরাহে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করি। এতদিন হিলি স্থলবন্দর থেকে পাথর কিনে আমরা সেখানে সরবরাহ করে আসছিলাম। কিন্তু ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই পাথরের দাম বাড়তে থাকে। কোম্পানির সঙ্গে যে মূ পাথর সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম, দাম বাড়ায় ওই মূল্যে পাথর সরবরাহ করতে সমস্যা হচ্ছিল। এরপরও আগের বকেয়া বিল থাকায় লোকসান জেনেও বাড়তি দামে পাথর কিনে সরবরাহ করছি।

তিনি বলেন, ‘গত দুসপ্তাহ ধরে এখন আর হিলিতে কোনও পাথর পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সেই কোম্পানিকে পাথর সরবরাহ করতে পারছি না। শুধু আমরা নয়, অনেক ব্যবসায়ী পাথরের অভাবে বিপাকে পড়েছেন।’

বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, বন্দর দিয়ে ভারত থেকে সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে। কিন্তু চিপস ও পাথরের ট্রাক প্রবেশ করছে না। এ বিষয়ে ভারতীয় রফতানিকারকদের সঙ্গে কয়েক বার আলোচনা করেছি। তারা আমাদের জানিয়েছেন, বারতে ট্রাকের পার্কিং চার্জ আগে দিনে ১০০ রুপি নেওয়া। এখন চার্জ বাড়িয়ে ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অবস্থানকালীন চার্জ ৩০ টাকা
থেকে বাড়িয়ে ঘণ্টাপ্রতি ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এসব সরকারি সিদ্ধান্ত বলে জানান ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে বসছেন। সমাধান হলে আবারও বাংলাদেশে চিপস ও পাথর রফতানি শুরু হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহিনুর রেজা বলেন, দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মা সেতুসহ চলমান মেগাপ্রকল্পগুলোতে প্রচুর পাথরের চাহিদা রয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারকরা এসব প্রকল্পে পাথর সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ। ভারত থেকে হাজার হাজার টন পাথর আমদানি করে ওইসব প্রকল্পে সররবাহ করছি। কিন্তু ভারতে ওভারলোডিং ও স্থানীয় ট্রাক সিন্ডিকেটের দ্বন্দ্বে বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি একেবারে বন্ধ। ফলে আমরাও চুক্তি অনুযায়ী পাথর সরবরাহ করতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, পাথর সরবরাহ করতে না পারায় বিল ছাড় হচ্ছে না। এতে আমাদের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা বলছে, সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আজ শুরু হবে কাল শুরু হবে বললেও এখন পর্যন্ত পাথর রফতানি শুরু হয়নি।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চিপস পাথর আমদানি বন্ধের কারণে সরকার যেমন রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বন্দরের দৈনন্দিন আয় কমছে।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, গত জুলাই থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্দর দিয়ে পাঁচ লাখ ৮৯ হাজার ১৮৭ টন চিপস পাথর আমদানি হয়েছিল। হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের মূল উপাদান পাথর। কিন্তু বন্দর দিয়ে এখন শুধু বোল্ডার পাথর আমদানি হচ্ছে। এতে গড়ে প্রতিদিন চিপস পাথর থেকে যে ২০ লাখ টাকার মতো রাজস্ব আসতো, সেটা বন্ধ রয়েছে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ