Md. Shajahan kobir - (Mymensingh)
প্রকাশ ২১/০২/২০২২ ০৫:৩৬পি এম

চা বিক্রি করে এস এসসি পাশ করেন হারুন

চা বিক্রি করে এস এসসি  পাশ করেন হারুন
ad image
মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্ধেক দামে চা, সেরা চা গ্রাহককে সম্মাননা ও মাদক বিরোধী প্রচারণায় নেমে প্রশংসা কুড়িয়েছেন চা বিক্রেতা মোঃ হারুন মিয়া। ব্যতিক্রমধর্মী এসব উদ্যোগের জন্য শহরে আলাদা পরিচিতিও পেয়েছে এই চা দোকানি। পাশাপাশি চা বিক্রি করে তাঁর আয়ও ভালো।

কিন্ত অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা করতে না পারার একটা আক্ষেপ ছিল হারুনের ভেতর। তবে তিনি হাল হাল ছাড়েনি। চা বিক্রির পাশাপাশি পড়াশোনা করে চব্বিশ বছর বয়সে এসে এসএসসি পাশ করেছেন। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিপিএ- ২.৮৬ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন হারুন।

জানা গেছে হারুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের সতীষা গ্রামে। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে ২০১০ সালে মাধ্যমিকে অধ্যয়নের সময় পড়াশোনার ইতি ঘটে তাঁর। সংসারের হাল ধরতে ২০১৪ সালে পৌর শহরের কালীখলা এলাকায় চা দোকান খোলেন তিনি। চা বিক্রির পাশাপাশি দোকানে বসে বিভিন্ন ধরণের বই পড়তেন হারুন। পড়ার প্রতি তার এই আগ্রহ দেখে শিক্ষক এমদাদুল হক, আব্দুল মালেক ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মিন্টুর অনুপ্রেরণাতে ২০১৯ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হন। চা বিক্রির পাশাপাশি রাতে পড়াশোনা করে এসএসসি পাশ করেন তিনি।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউটর আব্দুল মালেক বলেন অষ্টম শ্রেণি পাশ করে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করতে পারে। এক্ষেত্রে বয়সের কোন বাঁধা নেই। এই সুযোগের কারণেই হারুন চব্বিশ বছর বয়সে এসে এসএসসি পাশ করেছে। আমি তাঁর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।

হারুন মিয়া বলেন অভাবের তাড়নায় স্কুল ছাড়লেও আমি হাল ছাড়িনি। স্বপ্ন ছিল স্বাবলম্বী হয়ে ঘুড়ে দাঁড়াবো। এখন নিজের উপার্জনে পড়াশোনা করে এসএসসি পাশ করেছি। চা বিক্রির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। লক্ষ স্নাতক সম্পন্ন করা।

হারুনের বাবা আব্দুল জব্বার পেশায় সবজি বিক্রেতা। মা রহিমা খাতুন গৃহিণী। ছয়-ভাই বোনের মধ্যে হারুন পঞ্চম। এরমধ্যে চার ভাই- বোন বিয়ে করে আলাদা হয়েছে। ছোট বোন চলতি বছর এইচএসসি পাশ করেছে। চা বিক্রি করে সংসারের হাল ধরার ছোট বোনের পড়াশোনার খরচ যোগান হারুন। পাশাপাশি নিজেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ