Monir
প্রকাশ ২১/০২/২০২২ ০৩:২৪পি এম

পাবনায় ভাষা আন্দোলনের বীজ বপন হয় ১৯৪৮ সালে

পাবনায় ভাষা আন্দোলনের বীজ বপন হয় ১৯৪৮ সালে
ad image
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে ভাষার জন্য প্রাণ দেন সালাম, বরকত, রফিক জব্বারসহ অনেকে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে যখন রক্তের বন্যা বইছে তখন সে উত্তাপ ছড়িয়ে পরে পাবনার বুকেও।

রেডিওতে খবরটি শুনে পাবনার ছাত্র-জনতা পরদিন নেমে আসেন রাজপথে। ঢাকায় হামলার প্রতিবাদ জানানো হয়, বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিক্ষোভ সমাবেশ চলে।

ভাষার জন্য পাবনার মানুষের এ বিক্ষোভ হঠাৎ করে সংঘটিত হয়নি। এর বীজ বপন হয় ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে, যখন পাকিস্তানের গণপরিষদের অধিবেশনে গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে প্রস্তাব আনেন। প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। এরপর পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে সে বিক্ষোভ গণআন্দোলনের রূপ নেয় পাবনায়।

ওই ঘটনার পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাবনার মুসলিম লীগ নেতা দেওয়ান লুতফর রহমানের বাসায় এক বৈঠকে বসেন আন্দোলনকারীরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি পাবনা টাউন হল মাঠে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে। গঠন করা হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। দেওয়ান লুতফর রহমানকে আহ্বায়ক করে তৎকালীন বামপন্থী নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশা এবং মাহাবুবুর রহমান খানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। পাবনায় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ভাষা আন্দোলন।


২৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পাবনায় হরতাল আহ্বান করে সংগ্রাম পরিষদ। আন্দোলনকারীদের দমন করতে পাবনা জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা দেয়। ১৪৪ ধারা ভেঙে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্র-জনতা। মুহূর্তেই বিক্ষোভ মিছিলটি গণমিছিলের রূপ নেয়।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ