KAMRUL ISLAM KAMAL
প্রকাশ ২১/০২/২০২২ ০৫:৫৯পি এম

ভয়ংকর প্রেমিকা ! অচেনা প্রেমে জীবন কাড়ে কলেজছাত্র মিঠুর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

ভয়ংকর প্রেমিকা ! অচেনা প্রেমে জীবন কাড়ে কলেজছাত্র মিঠুর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
ad image
ফেসবুকের ভার্চুয়াল দুনিয়ায় অচেনা প্রেমে জীবন কাঁড়ে সিরাজগঞ্জের কলেজছাত্র মিঠু হোসেনের (২৪)। অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত তিন ঘাতককে জিজ্ঞাসাবাদে এমনই তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। নরসিংদীর পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম (পিপিএম) গতকাল রবিবার বিকালে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মিঠালু গ্রামের পিয়ার উদ্দিনের মেয়ে শাহনাজ আক্তার পপি (২৮), তাঁর স্বামী আবদুল বাতেন (৩৫) এবং একই এলাকার তাপন খাঁন (৩২)। তাদেরকে শনিবার সকালে গাজীপুর ও শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার নরসিংদীর মনোহরদীর একটি বাড়ির খড়ের গাদার নিচ থেকে মিঠু হোসেনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রায়পুর এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি সিরাজগঞ্জের একটি ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত শাহনাজ আক্তার পপির ফেসবুক কেন্দ্রীক একটি প্রতারক চক্র রয়েছে। দলনেতা পপি নিজের ছদ্মনাম ব্যবহার করে নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন সুন্দরী মেয়েদের ছবি দিয়ে একাধিক ফেসবুক আইডি পরিচালনা করে। বিভিন্ন উঠতি বয়সী তরুণদের টার্গেট করে তাদের সঙ্গে প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পরবর্তীতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একটি নিদিষ্টি স্থানে দেখা করতে প্রলুব্দ করে। তার প্রেমের ফাঁদে পড়ে দেখা করতে আসলে তার সহযোগী হানিফসহ ৩/৪ জনের প্রতারক চক্রটি তাকে আটকে রেখে মারধর করে মুক্তিপণ দাবী করে।

পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিম (পিপিএম) বলেন, এমনি ভাবে কলেজ ছাত্র মিঠুর সাথে ফেসবুকে বন্ধুত্ব করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গত বুধবার মনোহরদীতে দেখা করার জন্য ডেকে আনে প্রতারক শাহনাজ আক্তার পপি। পপি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মিঠুকে তার সহযোগীদের নিকট তুলে দেয়। তাঁরা পাশ্ববর্তী শিবপুর উপজেলার আশুটিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় আটকে রেখে মারধর করে মিঠুর অভিভাবকদের কাছে মুক্তিপণ দাবী করে। মুক্তিপণের টাকা দিতে ব্যর্থ হলে মিঠু হোসেনকে হত্যা করে তার লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মনোহরদীর একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের হুগলিপাড়া গ্রামের একটি ব্যক্তির খড়ের গাদার

নীচে ফেলে রাখে।
তিনি জানান, এই ঘটনায় নিহতের বড় বোন মিনু আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে মনোহরদী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আটককৃত ৩ আসামীকে উক্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।
পুলিশ জানায়, মুক্তিপণের জন্য পাশবিক নির্যাতন করা হয় কলেজ ছাত্র মিটুকে। তাঁর পিঠে, গলায় ও চোখের নিচে রক্তাক্ত জখমের দাগ রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে পিটিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

মামলার বাদী মিনু আক্তার বলেন, প্রতারক মেয়েটি বিগত ৪ মাস ধরে ফেসবুকে আমার ভাইয়ের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করেছে। সে দেখা করার জন্য চাপ দিলে আমার ভাই দেখা করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হয়। আমার মায়ের বøাড ক্যান্সার, বাবা নেই। অপহরণকারীরা আমার ভাইকে পাশবিক নির্যাতন করেছে মুক্তিপণের জন্য। তাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য ভাই বারবার আমাদের কাছে কল করে আকুতি জানিয়েছিল। কিন্তু আমাদের পক্ষে তাঁদের দাবীকৃত টাকা দেয়ার কোন উপায় ছিলনা বিধায় তারা আমার ভাইকে মেরেই ফেলেছে। যারা আমার ভাইকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমার পরিবারটিকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ