Monir
প্রকাশ ১৯/০২/২০২২ ০৩:০৮পি এম

২ বছরেও শেষ হয়নি জাবি উপাচার্যের অনিয়ম অভিযোগের তদন্ত

২ বছরেও শেষ হয়নি জাবি উপাচার্যের অনিয়ম অভিযোগের তদন্ত
ad image
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম আগামী ২ মার্চ দ্বিতীয়বারের মতো মেয়াদ শেষ করতে যাচ্ছেন। তবে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে আনিত অনিয়ম অভিযোগের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

ফারজানা ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপের ৪৫০ কোটি টাকার মধ্যে ২ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মধ্যে ভাগাভাগির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের ওই অভিযোগ তদন্তসহ ৩ দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু হয়।

ওই ঘটনার কিছুদিন পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অপসারণ করা হয়।

উপাচার্য ফারজানা ইসলাম দাবি করেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকে কোনো টাকা দেননি, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তার কাছে কমিশন চেয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের পক্ষ থেকে তখন উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অভিযোগ তদন্ত করতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে তখন জানা যায়।


সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ইউজিসি ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত বুধবার ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম দস্তগীর দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, 'ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীরকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যদের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগমকে সদস্য এবং আমাকে সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়।'

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে গোলাম দস্তগীর বলেন, 'অভিযোগ এখনো খতিয়ে দেখা হয়নি। করোনার কারণে আমরা আটকে আছি। তদন্ত জাহাঙ্গীরনগরে গিয়ে করতে হবে। অনেক মানুষের সাক্ষাৎকার, অনেক নথি তদন্তের প্রয়োজন আছে। এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া।'

'ড. আলমগীর এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। তিনি যেহেতু আহ্বায়ক, তিনি অনুমতি দিলেই আমরা জাহাঙ্গীরনগরে যেয়ে তদন্ত শুরু করবো। অধ্যাপক দিল আফরোজা এখন দেশের বাইরে আছেন,' তিনি যোগ করেন।

ড. মোহাম্মদ আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন 'আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি একসময় এই কমিটির সদস্য ছিলাম এখন আর নেই। এখন সবকিছু গোলাম দস্তগীর সাহেব জানেন।'

কমিটি কবে গঠন করা হয়েছে, কতদিন ধরে তদন্ত করছেন এবং তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে কতদিন লাগবে এমন প্রশ্ন করা হলে ২ জনের কেউ তেমন উত্তর দেননি।

তবে, ড. আলমগীর বলেন, 'এটা অনেক আগে গঠন করা হয়েছে। আমার সঠিক সময় মনে নেই।'

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি রাকিবুল রনি বলেন, 'কর্তৃপক্ষের এমন নীরবতা সবসময় ফারজানা ইসলামের মতো উপাচার্যদেরকে দুর্নীতির সনদ প্রদান করে। এই সময়ের মধ্যে ইউজিসি বেশ কয়েকজন উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের তদন্ত শেষ করলেও এতো দীর্ঘ সময়েও ফারজানা ইসলামের তদন্ত শেষ করতে না পারা সন্দেহ সৃষ্টি করে।'

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ বলেন, 'তদন্ত কমিটি হয়তো গুরুতর কোনো অভিযোগের প্রমাণ পাননি, পেলে আমাদেরকে অবশ্যই জানানো হতো। তাই, ২ বছর পর এসেও আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানি না।'

জাবির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, 'এটা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। করোনার দোহাই দিয়ে তারা তদন্ত আটকে রেখেছেন। করোনার ভেতর তো কতো তদন্ত শেষ হয়ে ফাঁসির রায় পর্যন্ত হয়ে গেলো। সরকার ও ইউজিসি বিষয়টাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে না।'

তিনি আরও বলেন, 'আমজনতার ট্যাক্সের টাকায় চালিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনিত এমন অভিযোগ তদন্ত করা, জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি করা এবং দেশবাসীকে এসব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়া সরকারের কর্তব্য।'

এ বিষয়ে কথা বলতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে ও অফিসে গিয়ে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত তিনি কল রিসিভ করেননি।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ