Monir
প্রকাশ ১৯/০২/২০২২ ০৩:০২পি এম

শুকনা মরিচে চাষিদের রঙিন স্বপ্ন

শুকনা মরিচে চাষিদের রঙিন স্বপ্ন
ad image
বগুড়ায় শুকনা মরিচে স্বপ্ন দেখছেন যমুনা নদী এলাকার চরের চাষিরা। পরিবারের সদস্যরা মিলিয়ে ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহ করে শুকিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। কৃষি অফিস বলছে, শীত সবজিতে ভাল ফলনের পর এবার শুকনা মরিচে রঙিন স্বপ্ন দেখছে চাষিরা। উঠোন থেকে শুরু করে জমি, খোলা মাঠ, খোলা স্থানে যে যেখানে পারছেন মরিচ শুকিয়ে হাটে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভাল ফলন হওয়ার কারণে মরিচ চাষির উঠান এখন লাল মরিচে লাল হয়ে আছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন পেতে যাচ্ছে মরিচ চাষিরা।

গুণগত মানের লাল মরিচের জন্য বগুড়া সারাদেশে বিখ্যাত। বগুড়ার মধ্যে যমুনানদী বিধৌত সারিয়াকান্দির মাটি বেলে দোআঁশ হওয়ায় এখানে মরিচের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়। সারা উপজেলার মরিচের ক্ষেতগুলোতে এখন পাকা লাল মরিচ শোভা পাচ্ছে।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার দক্ষিণ শংকরপুর, পূর্বধারাবর্ষা, পশ্চিম ধারাবর্ষা, কেষ্টিয়ারচর, কোমরপুর, চানবাড়ী, মাঝবাড়ী, কালাইহাটা, পৌতিবাড়ী, চর মাঝিরা, হাতিয়া বাড়ীসহ ৬৯ টি চরে সর্বাপেক্ষা বেশি মরিচের চাষ হয়েছে। এসব চরের কৃষকরা বন্যার পানি নামার পর জমিতে দেশি মরিচের বীজ বপন করে এবং হাইব্রিড মরিচের চারা রোপণ করেছেন। দেশি এবং হাইব্রিড মরিচের গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে লাল মরিচ। কোন কোনও মরিচের জমি হতে লাল মরিচ তোলা হচ্ছে। তোলার পর সেগুলো কৃষকের উঠানে শুকাতে দেয়া হয়েছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের শোনপচা চরের সিরাজ প্রাং এর ছেলে মামুন মিয়া জানান, প্রতিবছর মরিচের আবাদ করা হয়। এ বছর ৫ বিঘা জমিত মরিচ করা হয়েছে। এর মাঝে ৩ বিঘা জমিতে হাইব্রিড মরিচ করা হয়েছে। হাইব্রিড মরিচ বেশ কয়েকবার কাঁচা বিক্রি করা হয়েছে। দামও মোটামুটি ভাল পাওয়া গেছে। বেশ ভাল লাভ হয়েছে। দেশি মরিচের গাছের মরিচ এখন পেকে যাচ্ছে। মরিচ শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করে এবার লাভ পাওয়া যাবে।

কাজলা ইউনিয়নের বাওইটোনা চরের কৃষক বাদশা মিয়া জানান, বন্যার পানি নামার সাথে সাথেই জমিত মরিচের আবাদ করছি। কয়েকদিন আগে মরিচের দাম কম ছিল। এখন মোটামুটি ভাল দাম পাওয়া যাচ্ছে।

চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের মানিকদাইড় চরের সায়েদ মন্ডল জানান, প্রায় দশ বিঘা জমিতে তিনি মরিচের আবাদ করেছেন। পাকা মরিচগুলো জমি হতে তুলে তিনি উঠানে শুকাতে দিয়েছেন।

জানা যায়, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বগুড়ার বিস্তীর্ণ চর এলাকাজুড়ে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন ভালো পেয়ে বেশ খুশি চাষিরা। ফলে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। পুরো বগুড়াতেই মরিচ ভাল জন্মে। তবে যমুনা নদী বিধৌত সারিয়াকান্দি, সোনাতলা এবং ধনুট উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মরিচ উৎপন্ন হয়।

মরিচ চাষি সদরের পারতিত পরল গ্রামের লেবু মিয়া বলেন, এ বছর ১৫ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ২০-২৫ হাজার টাকা। গত বছর প্রতি বিঘা মরিচ ক্ষেতে ৭৫-৯০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি হয়েছে। এ হিসেবে ৯ বিঘার একটি জমিতে আমার খরচ হয়েছিল ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। শনিবার পাইকার পুরো জমির মরিচ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাম হাঁকিয়েছি।

পাইকারি ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন আগে মরিচের দাম ভাল ছিল না। এখন আড়তে এ দাম একটু বাড়ায় মোটামুটি লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে।

সারিয়াকান্দির মরিচের আড়তদার রফিকুল ইসলাম জানান, কাঁচা মরিচগুলো আমরা ক্রয় করে খুলনার দৌলতপুরে বিক্রি করি। লাল টোপা (পাকা) মরিচগুলো বিভিন্ন কোম্পানির ডিলাররা কিনে নিয়ে যায়। শুক্রবার রাতে লাল টোপা মরিচ ১ হাজার টাকা মণ এবং কাঁচা মরিচ ৩০ হতে ৩১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

সারিয়াকান্দি হাটফুলবাড়ীর একটি কোম্পানির মরিচের ডিলার মোকছেদুল আলম জানান, প্রতি ৩ মণ লাল টোপা মরিচ শুকিয়ে ১ মণ শুকনা মরিচ পাওয়া যায়। বর্তমানে শুকনা মরিচের বাজার খুবই কম। এ বছর ৭ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত শুকনা মরিচ বিক্রি হয়েছে। এখন শুকনা মরিচের বাজার ৩ হাজার থেকে ৩১০০ টাকা মণ পর্যন্ত।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, গত বছর উপজেলায় ৩ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে ২০ হাজার ৫৪২ মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদন হয়েছিল। এ বছর মরিচের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৩৭০ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ৩৬২০ হেক্টর।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, এ বছর বন্যা কম হওয়ায় কৃষকরা আগামভাবে চরাঞ্চলে ফসল চাষ করেছেন। আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকায় মরিচ মোটামুটি ভাল হয়েছে। শুরুর দিকে কৃষকরা বাম্পার দাম পেয়েছেন। মাঝে একটু দাম কম ছিল। এখন আবার মরিচের ভাল দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ