KAZI ARIFUL KARIM SOHEL - (Khulna)
প্রকাশ ২০/০২/২০২২ ০১:১৮পি এম

খুলনার সড়কে যততত্র পার্কিং, বাড়ছে ভোগান্তি

খুলনার সড়কে যততত্র পার্কিং, বাড়ছে ভোগান্তি
ad image
সময় এবং নদীর ¯্রােত যেমন কারো জন্য অপেক্ষা করেনা, ঠিক তার বিপরীতে সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি এক কথা যেন আমরা ভূলতে বসেছি। যে কারণে খুলনা সড়কে যত্রতত্র পার্কিংয়ে চরম ভোগান্তির শিকার নগরবাসী। নগরীতে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ন অফিস আলাদত, ব্যাংক, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবনে, সুপার শপ, বিপনীি বিতান, শপিংমল, হোটেল রেস্তারা, প্রাইভেট হাসপাতাল, ডায়াগনাষ্টিক সেন্টার সহ বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় সড়কে পার্ক করা হচ্ছে যানবাহন। যদিও পার্কিং ব্যবস্থা তা যেন ব্যবহারে চরম উদাসীন সচেতন নামের অসচেতন নগরবাসী। অনেকেই আবার ১০ হতে শুরু করে ৫০ টাকা পার্কিংয়ে দেওয়ার ভয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পার্কিংয়ে প্রতি অনাগ্রহী। খোলা রাস্তার উপর গাড়ি রাখলে তো আর ভ্যাট, ট্যাংক বা পার্কিং চার্জ দেওয়া লাগছেনা। তাই খুলনার সড়ক জুড়ে যেন অবৈধ গাড়ি রাখার নিরাপদ স্থান হিসাবে গড়ে উঠেছে। যার ভোগান্তি গুনতে হচ্ছে রাস্তায় চলাচলরত পথচারী সহ সর্বস্তরের মানুষকে। যততত্র এই পার্কিংয়ের ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে চরম যানজটের।

অথচ সামান্য একটু অসচেনতার কারণে ঘটতে পারে বড়সড় দূর্ঘটনা। আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা এতই বেড়েছে যে সঠিক স্থানে গাড়ি পার্কিংয়ের সময়টুকুও আমাদের হাতে থাকে না। অথচ সড়কে উপর অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় ঘন্টার ঘন্টার কাটিয়ে দিচ্ছি, তখনো মনে পরছেনা সড়কের উপর রাখা গাড়ীর কারণে ঘটতে পারে দূর্ঘটনায়! আর অসুবিধায় পড়তে পারে সড়কে চলাচলরত যাত্রী সাধারণ! আমাদের চলাচলের মাধ্যম হিসাবে অন্যতম মোটর সাইকেল, বর্তমান সময়ে নগরীতে চলাচলরত মাহেন্দ্রা, ইজিবাইক, সিএনজি, ট্রাক-বাস, পিকআপ, প্রাইভেটকার সহ অন্যান্য ছোট-বড় যানবহন। আমাদের কর্মব্যস্ত জীবনকে সহজলোভ্য করার জন্য এসব গাড়ি যেমন যানবহনের বা গাড়ির যেমন প্রয়োজন রয়েছে, ঠিক তেমনি প্রয়োজন গাড়ির যথাযথ স্থানে পার্কিং করা।

দুঃখ জনক হলেও সত্য আমাদের যান্ত্রিক জীবন এতই ব্যস্ত হয়েছে পড়েছে যে সময়ের অভাবে আমরা সচেনতার সাথে গাড়ি পার্কিংয়ের সঠিক স্থানে গাড়ি পার্কিং করার সময়টুকু হাতে থাকে না। তাই হুটহুাট করে সড়কের উপর যততত্র পার্কিং করে দীর্ঘ সময় পার করে দেয়। অথচ একবারও ভেবে দেখিনা পার্কিং করা গাড়ি কারণে দুর্ভোগে পড়তে পারে সড়কের চলা পথচারীরা সহ অন্যান্য যানবহন। এমনকি ঘটতে পারে বড়সড় দূর্ঘটনা।

সরেজমিনে, খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বড়বাড়ার, পিকচার প্যালেস, সাতরাস্তার মোড়, রয়েল চত্ত্বর, ক্লে রোড়, স্যার ইকবাল রোড, শামসুদ্দিন আহমেদ রোড, সাউথ সেন্টাল রোড, খানজাহান আলী রোড, স্টেশন রোড, কোর্ট চত্ত্বর, গগনবাবু রোড, ডাকবাংলা, শিববাড়ী, নিউমার্কেট, সোনাডাঙ্গা, ময়লামোতা মোড়, গল্লামারী, নিরালা, বয়রা, সোনাডাঙ্গা, খালিশপুর, দৌলতপুর, ফুলবাড়ী সহ শহরের গুরুত্বপূর্ন সড়কের উপর দিনেরাতে অবাদে দেখা যায় এই অবৈধ গাড়ি পার্কিয়ের। অপরদিকে ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের উৎপাতে দখল হয়ে গেছে ফুটপাতগুলোও।

তবে এ বিষয়ে তেমন কোনো মাথা ব্যাথা নেই কেসিসি’র বা কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের। যে কারণে খুলনার গুরুত্বপূন সড়ক এখন অবৈধ পার্কিং ও ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের দখলে। যার দরুন ক্রমশই নগরীতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট। ঘটছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে ভোগান্তি। বেসরকারি বিক্রয় কোম্পানীর কো¤পানীর কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, অফিসের কাজে প্রত্যেক দিনই ডাকবাংলা মোড়ে দিয়ে বড় বাজারে যায়। সড়কের প্রবেশ মুখে রাস্তার অর্ধেক অংশ জুড়ে অবৈদ ভাবে সারি সারি মোটর সাইকেল, রিক্সা, আর ভ্রাম্যমান দোকান রাস্তার অর্ধেক অংশ জুড়ে দখলে। এ অবস্থার মধ্যে দিয়ে অফিসে যাওয়া-আসায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বড় বাজারের ভ্রাম্যমান ভ্যানের ফুটপাত ব্যবসায়ী জলিল বলেন, আমরা গরিব মানুষ। নিয়মিত দোকানের মালিককে মাসোয়ারা দিয়ে তার দোকানের সামনের ফুটপাতে ব্যবসা করে খাই। প্রশাসন চাইলে যখন খুশি তখনই তুলে দিতেই পারে। কিন্তু তাতে আমাদের পেটে লাথি পড়বে।
কেএমপি’র ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, নগরীর সড়ক পার্কিং মুক্ত রাখতে প্রতিনিয়ত মনিটরিং করে ট্রাফিক বিভাগ। এছাড়া নগরীর বেশ কিছু ক্লিনিক ও হাসপাতালের সামনে গাড়ি পার্কিং করে, সেটা মানবিকভাবে দেখা হয়। তবে শহরের যানচলাচলে দূর্ভোগ সৃষ্টি করে যত্রতত্র পার্কিংয়ের আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেই।

এ ব্যাপারে কেসিসি’র প্যানেল মেয়র মোঃ আলী আকবর (টিপু) বলেন, আমি কেসিসি প্যানেল মেয়র হলেও সাধারণ খুলনার একজন নাগরিক। সচেতন নাগরিক হিসাবে জনদূর্ভোগ সৃৃষ্টি করা করা কারোই উচিৎ নয়। সুতারং খুলনার গুরুত্বপূর্ন সড়কের উপর যত্রতত্র পার্কিং করে যে দূর্ভোগের সৃষ্টি করা হচ্ছে এ ব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগের পাশাপাশি কেসিসিও পদক্ষেপ গ্রহন করবে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ