Md.Shahidul Islam - (Bandarban)
প্রকাশ ১৮/০২/২০২২ ০২:১২এ এম

মোবাইল ক্যাসিনো বাড়াতে পারে সামাজিক অবক্ষয়!

মোবাইল ক্যাসিনো বাড়াতে পারে সামাজিক অবক্ষয়!
ad image
বান্দরবান জেলা সদরের , অনেক এলাকায় এবং উপজেলার বাজার, দোকানের সামনে বসে মোবাইল ফোনের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে চলছে অনলাইন জুয়া ক্যাসিনো।আর এসব অনলাইন মোবাইল ক্যাসিনোর টাকা লেনদেন হয় বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, নগদ, রকেট এমনকি অনেক বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমেও।এই মোবাইল ক্যাসিনোর বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনের নজরে না আনলে অবনতির দিকে যেতে পারে যুব সমাজ ও দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য।এছাড়াও এর প্রভাব পড়তে পারে সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও।

অনেকেই মনে করেন এই মোবাইল কয়াসিনোর ফলে সমাজিক বড় ধরণের বিপর্যয় পড়ার আশংকা রয়েছে।জেলায় এই অনলাইন জুয়া ক্যাসিনো খেলার দিকে ঝুকে পড়ছে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার জনসাধারণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, প্রথমে দুই-তিনজনের টাকা পাবার খবর শুনে আমি ১০-২০-৫০-১০০ টাকায় খেলে ১০-২০ গুণ করে ২-৩ বার পেয়ে লোভে পরে এখন আমি এই খেলার প্রতি আসক্তিতে ভুগছি,বার বার জেতার আশায় আমি এই মোবাইল ক্যাসিনো খেলে যাচ্ছি এবং আর্থিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছি।দেশজুড়ে আলোচিত ক্যাসিনো অভিযানের দুই বছরের উপরে রাজধানীর ক্লাবগুলো বন্ধ থাকলেও সময়ের সাথে ধরন বদলে মোবাইল ফোনের বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া ক্যাসিনো।একসময় জুয়া খেলতেন এমন ব্যক্তিরাও এই অনলাইন জুয়ার দিকে ঝুঁকছেন।

নাইন উইকেটস ডট কম, স্কাইফেয়ার এবং বেট ৩৬৫ সহ বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ জুয়া খেলার জন্য জুয়াড়িদের কাছে বেশি জনপ্রিয়। এক্ষেত্রে জুয়াড়ি প্রথমে তার নিজস্ব একটি ইমেইল আইডি দিয়ে নিজস্ব মোবাইল বা কম্পিউটারে রেজিস্ট্রেশন করে থাকেন,এরপর দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনের মাধ্যমে জুয়ায় অংশ নিতে পারেন।ক্যাসিনো কাণ্ডের পর জুয়ার ধরন পাল্টিয়েছে জুয়াড়িরা। তথ্য মতে গোটা দেশজুড়ে রয়েছে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক।দেশের মফস্বল পর্যায়েও এখন জুয়াড়িদের কাছে জনপ্রিয় এই অনলাইন কয়াসিনোর অ্যাপ গুলো ।

যেখানে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রয়েছেন নানা বয়সীরা। এছাড়াও বিপিএল, আইপিএল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচকে কেন্দ্র করে চলে এই জুয়ার আসর,পাড়ার চায়ের দোকান হোক বা ক্লাব ওপেন সিক্রেট ভাবেই চলছে এই অমলাইন ক্যাসিনো।সুপার এডমিন সর্বপ্রথম টাকা দিয়ে এই অ্যাপ ক্রয় করে পর্যায়ক্রমে একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। তাদের মধ্যে কেউ সুপার, কেউ মাস্টার এজেন্ট। এ ছাড়া রয়েছে লোকাল এজেন্ট। এক্ষেত্রে নবাগতরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আইডি লাগবে মর্মে পোস্ট লিখে থাকেন। পরবর্তীতে জুয়ার মূল নিয়ন্ত্রণ যার হাতে থাকে অর্থাৎ এডমিন একজন এজেন্ট নির্ধারণ করে দিলে তার মাধ্যমে আইডি খুলে শুরু হয় জুয়ার আসর। শর্ত থাকে নির্দিষ্ট এজেন্টের বাইরে তিনি খেলতে পারবেন না। তাহলে আইডি রিজেক্ট হয়ে যাবে। এসব জুয়ার ক্ষেত্রে কয়েন বা রেটিং হিসেবে প্রয়োজন হয় পিবিইউ (পার বেটিং ইউনিট)।যার প্রতিটি ইউনিটের মূল্য এক থেকে দুই’শো টাকা। নিবন্ধন শেষে টাকা দিতে হয় লোকাল এজেন্টকে।

সেখান থেকে টাকাটা চলে যায় তাদের মাস্টার এজেন্টের কাছে। পরবর্তী ধাপে সুপার এজেন্টের মাধ্যমে নানা হাত ঘুরে চূড়ান্তভাবে টাকা চলে যায় বিদেশে অবস্থান করা মাস্টারমাইন্ড বা সুপার এডমিনের কাছে। অনলাইন অ্যাপ ব্যবহারকারীদের অধিকাংশের বয়স ৩০- ৪০ বছরের মধ্যে। মোবাইলের অ্যাপে থাকা পয়েন্ট বা রেটিংকে তারা কখনো বিদেশি ডলার, পাউন্ড এবং দেশিয় অনলাইন বিকাশ, নগদ,রকেট থেকে শুরু করে যেকোনো কারেন্সিতে ট্রানজেকশন করে থাকে।অনেকেই মনে করেন এ সকল মোবাইল এপ্লিকেশন গুলোর উপর প্রশাসনের নজরদারির প্রয়োজন,নইলে বাড়বে সামাজিক অবক্ষয় এবং ধংস হবে দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামো।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ