About Us
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ২৪/০৮/২০২০ ১২:৪৫পি এম

ঘুষের টাকায় স্ত্রী সম্পদশালী

ঘুষের টাকায় স্ত্রী সম্পদশালী Ad Banner

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডে আলোচিত কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি করণের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রবিবার দুদকের চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়।


অন্যদিকে রামু থানাধীন নীলিমা রিসোর্ট পরিদর্শন করেছেন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম। তিন সহযোগীকে নিয়ে ওখানকার একটি কটেজে ছিলেন সিনহা। হত্যাকাণ্ডের পর সেখান থেকে জব্দ করা ল্যাপটপ ও কয়েকটি মোবাইল ফোনসহ ২৯টি ডিভাইস পুলিশের কাছ থেকে নেয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট র‌্যাব কর্মকর্তারা।


একই সূত্র মতে, ঘটনার রাতে টেকনাফের শামলাপুর এবিবিএনএর চেকপোস্টে এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতের পিস্তল নিয়ে সিনহাকে গুলি করেছিলেন পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী। জিজ্ঞাসাবাদে এমনটাই দাবি করেছেন নন্দ দুলাল। সরকারি ওই পিস্তলটি কার নামে বরাদ্দ সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার কক্সবাজার পুলিশ লাইন্স থেকে অস্ত্রটি হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাব।


অন্যদিকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ৬৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চ পর্যায়ে অনুসন্ধান কমিটি। তবে র‌্যাবের কাছে রিমান্ডে থাকায় প্রধান আসামি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি। এই কমিটির গতকাল ২৩ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও নতুন করে আরো সাতদিন সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


ওসি প্রদীপ-চুমকি দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা: অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১এ মামলাটি দায়ের করা হয় বলে জানান দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য।


মামলায় প্রদীপ কুমার দাশের সঙ্গে তার স্ত্রী চুমকি করণকেও আসামি করা হয়েছে জানিয়ে প্রণব বলেন, তাদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন ওসি প্রদীপের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করেন। তিনিই বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।


দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রদীপ ও তার স্ত্রী চুমকির নামে যেসব অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, তা প্রদীপ ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। কারণ ওই অর্থ-সম্পদের বৈধ উৎস নেই। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭ (১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, টেনকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাদের অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। দুই বছর অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় এই মামলা করা হয়েছে।

 

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ: এদিকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ, ১ নম্বর আসামি বাহাড়ছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক ও এসআই নন্দ দুলাল বর্তমানে র‌্যাবের রিমান্ডে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করতে সেই রাতে চেকপোস্টে দায়িত্বরত তিন এপিবিএন সদস্য এএসআই শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আবদুল্লাহকেও শনিবার রিমান্ডে নিয়েছে র‌্যাব। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন আলোচিত এ মামলা তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র এএসপি খাইরুল ইসলামসহ র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


সংশ্লিষ্ট র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, সিনহা রাশেদ হত্যা মামলার তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি রয়েছে। অনেক বিষয়ই পরিষ্কার হয়েছে। তবে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনার জন্য প্রদীপ ও লিয়াকত একে ওপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। আবার কখনো কখনো ‘ডাকাত’ সন্দেহ বলে তিন সোর্সের ভুল তথ্যে বিভ্রান্তির দাবিও করছেন। এটি যে ইচ্ছাকৃত হত্যা ছিল- তদন্তে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে প্রধান তিন আসামি হত্যার মূল কারণ এখনো স্পস্ট করে স্বীকার করেননি। তদন্তে প্রাপ্ত অনেক তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে দেখা হচ্ছে।


গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন মেজর (অব.) সিনহা। ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। পরে গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে নয়জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন-ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, এএসআই লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুল।


আাদলতের নির্দেশে আলোচিত এ মামলাটি তদন্ত করছে র‌্যাব-১৫ এর কর্মকর্তারা। এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য ও টেকনাফ থানা পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সাতদিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার সাত আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি ছয় আসামি বর্তমানে র‌্যাবের রিমান্ডে রয়েছেন। এরা হলেন-টেকনাথ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ, প্রধান অভিযুক্ত পরিদর্শক লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলাল এবং ঘটনার রাতে চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা এপিবিএন-১৪-এর সহকারী এএসআই শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আবদুল্লাহ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ