About Us
Verified আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রকাশ ২৪/০৮/২০২০ ১২:৩৯পি এম

তথ্যভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইসি!

তথ্যভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইসি! Ad Banner

ছবিসহ ভোটার তালিকাকে বিতর্কমুক্ত নির্ভুল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে সাফল্য অর্জন করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে আর কর্তৃত্ব থাকছে না জাতীয় ভোটার নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি)। ভোটার পরিচয়পত্র তৈরী ও বিতরণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত ইসির এই বিশাল তথ্যভাণ্ডার অন্যত্র হস্তান্তরের আলোচনায় রীতিমতো হতভম্ব হয়ে পড়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।


এনআইডির কর্তৃত্ব অন্যের তত্ত্ববধানে চলে যাক, তা মানতে নারাজ সবাই।  ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর আগে তথ্যভান্ডারে রক্ষিত দেশের ভোটার হওয়া সব নাগরিকের তথ্য হুবহু (মিরর) কপি নিয়ে যায় রাষ্ট্রের একটি বিভাগ। তখন এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক হইচই ও শোরগোল উঠলেও সে দফায় আটকানোর চেষ্ট করেও ব্যর্থ হয়েছিল ইসি। এবার এনআইডির পুরো কর্তৃত্ব ইসির কাছ থেকে হাতছাড়া হওয়ার নতুন প্রক্রিয়া শুরুর শঙ্কায় ফের তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়সহ মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতেও। নাগরিক তথ্য সংরক্ষিত রাখার যে অঙ্গীকার ছিল ইসির তা অটুট থাকবে কিনা তা নিয়েও উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা।     


স্পর্শকাতর এ বিষয়টির কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি ইসি সচিবালয়ের মুখপাত্র ও সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর এবং এনআইডির ডিজি ব্রি. জে. মো. সাইদুল ইসলামের। তবে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংরক্ষণে রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব আমাদের দিয়েছিল সরকার। এখন যদি তারা মনে করেন সেটি তাদের সুবিধাজনক কোনো কর্তৃপক্ষের অধীনে নিয়ে যাবেন তা নিতে পারেন।


এতে বছর বছর ভোটার তালিকা প্রণয়ন করার যে এখতিয়ার রয়েছে কমিশনের তা মোটেও ব্যত্যয় ঘটবে না।  ২০০৮ সালের পর এখন পর্যন্ত এই তথ্যভাণ্ডার নির্ভুল ও আস্থার জায়গায় আনতে পাঁচশ’ কোটি টাকারও বেশি খরচ হয়েছে ইসির। সম্প্র্রতি ৪৭ কোটি টাকা ব্যয় করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে এনআইডির মূল সার্ভার নির্বাচন ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। তিলে তিলে গড়ে তোলা কাজটি অন্যের অধীনে হস্তগত হওয়া নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে পুরো কমিশনজুড়ে। তারা মনে করেন, এটি নতুনভাবে অন্যের অধীনে নেয়া হলে সরকারের ব্যয়ের বোঝা বাড়বে।     


এর আগে ছবিসহ ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধান করার জন্য নিরা নামক একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এই কর্তৃপক্ষ নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম সুচারুভাবে করায় ব্যর্থ হলে দায়িত্বটি নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ ছিল। বর্তমানে এটি অন্য কর্তৃপক্ষের অধীনে নেয়া হলে প্রধানমন্ত্রীর আগের সিদ্ধান্তের স্ববিরোধী হবে- এমন মন্তব্য করেছেন ইসির তৎকালীন সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।  এরই মধ্যে ইসির সদর কার্যালয়, ইটিআই এবং মাঠ অফিসের কর্মকর্তারা এবিষয়ে একট্টা হয়েছেন।


এনআইডি ইসির অধীনে না থাকলে নির্বাচনে কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সরকারের প্রতি এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হতে পারে কিনা এবং সর্বোপরি একক (নির্বাচন আয়োজনকারী) সংস্থার কাছে না থাকলে ভোটার স্থানান্তরসহ অন্যান্য কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে তা খতিয়ে দেখতে নিজেরাই এনআইডির পদস্থ কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটা টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করে কমিশনে উপস্থাপন করবে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের যে অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে তা প্রতিহত করার যৌক্তিক উপায় বের করার পরামর্শ এসেছে সদস্যদের উদ্দেশ্যে।


  নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ছবিসহ ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়ন করার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন একটি তথ্যসমৃদ্ধ নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলেছে। অন্য কোনো সংস্থা স্বাধীনতার এত বছরেও তা করে দেখাতে পারেনি যা কমিশন মাত্র একযুগ সময়ের ব্যবধানে করে দেখিয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বিভাগ খানা জরিপ করে জনসংখ্যা নির্ণয় করলেও তা নির্ভুল ঘোষণা দিতে পারেনি আজও। এমনকি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন জন্মনিবন্ধন অধিদফতর নাগরিকের জন্ম সনদ দিলেও তা একটা ভিত্তির ওপরে এখনো প্রতিষ্ঠা পায়নি। এসব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কমিশনের ছবিসহ জাতীয় ভোটার পরিচয়পত্র।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ