Monir
প্রকাশ ১৫/০২/২০২২ ১২:২৮পি এম

ইউক্রেন ইস্যু: কেন ন্যাটোর ওপর ক্ষেপেছে রাশিয়া?

ইউক্রেন ইস্যু: কেন ন্যাটোর ওপর ক্ষেপেছে রাশিয়া?
ad image
এই মুহূর্তে চরম যুদ্ধপরিস্থিতি বিরাজ করছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। ইউক্রেন সীমান্তে ইতোমধ্যে এক লাখ ৩০ হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে রাশিয়া। যেকোনও সময় যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। পশ্চিমারা গোয়েন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে- যেকোনও সময় ইউক্রেনে বিমান হামলা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করতে পারে রাশিয়া।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কমপক্ষে ১২টি দেশ নিজেদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইউক্রেন ত্যাগ করতে বলেছে।

তবে যুদ্ধের যেকোনও ধরনের পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাশিয়া। তা সত্ত্বেও ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া বিপুল সৈন্য সমাবেশকে যুদ্ধের ইঙ্গিতই দিচ্ছে বলে বারবার সতর্কতা জারি করছে পশ্চিমা দেশগুলো।
তারা জানিয়েছে, রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালালে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

ন্যাটোর কাছ থেকে রাশিয়া কী চায়?

রাশিয়া বলছে, এই মুহূর্তে ন্যাটোর সদস্য হতে চায় ইউক্রেন। ফলে ন্যাটোর সাথে সম্পর্কের একটি চূড়ান্ত ফয়সালা করার সময় এসেছে আমাদের।

“ইউক্রেন কখনই যেন ন্যাটোর সদস্য না হতে পারে সেটা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য আবশ্যক,” বলেন রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিবাকভ।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হলে, এই সামরিক জোট ক্রিমিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে।

তিনি সম্প্রতি বলেন, “ধরে নিন ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্য হল এবং ক্রিমিয়া দখলে নেওয়ার জন্য যুদ্ধ শুরু করল। তখন কি ন্যাটোর সাথে আমরা যুদ্ধ করব? কেউ কি এ নিয়ে কখনও ভেবেছে? আমার তা মনে হচ্ছে না।”

রাশিয়া বলছে, ন্যাটো ইউক্রেনকে বহু অস্ত্র দিচ্ছে এবং আমেরিকা রাশিয়ার অগ্রগতি থামাতে উত্তেজনা তৈরিতে হাওয়া দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, “রাশিয়ার আর নড়াচড়ার জায়গা নেই- তারা কি মনে করে যে আমরা এরপরও চুপ করে বসে থাকব?”

রাশিয়া চাইছে ১৯৯৭ সালের আগে ন্যাটোর যে সীমানা ছিল সেখানে এই জোটকে ফিরতে হবে। তারা দাবি করছে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণ এবং সামরিক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। তার অর্থ- পোল্যান্ড এবং সাবেক তিন সোভিয়েত রিপাবলিক লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া এবং লাটভিয়া থেকে ন্যাটো সৈন্য সরাতে হবে এবং পোল্যান্ড এবং রোমানিয়ার মতো দেশ থেকে ন্যাটোর মোতায়েন করা ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে ফেলতে হবে।

প্রেসিডেন্ট পুতিনের কথা হল- ১৯৯০ সালে পশ্চিমা দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ন্যাটো “আর এক ইঞ্চিও পূর্বে এগোবে না,” কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির তোয়াক্কা করেনি।

সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার আগেই মিখাইল গর্বাচভকে কথিত সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তবে ন্যাটো জোট বলে সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল পূর্ব জার্মানি প্রসঙ্গে এবং গর্বাচভ নিজেও পরে বলেছেন সে সময় ন্যাটো সম্প্রসারণ নিয়ে তার সাথে আমেরিকানদের কোনও কথাই হয়নি।

ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার চাওয়া কী?

ঐতিহাসিক দাবির যুক্তিতে রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করেছিল। ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল। পুতিন মনে করেন ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার কারণে ঐতিহাসিক রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডও হাতছাড়া হয়ে গেছে।

গত বছরও তার এক লেখায় পুতিন বলেছেন রুশ এবং ইউক্রেনিয়ানরা ‘এক এবং অভিন্ন জাতি’, কিন্তু ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্ব একটি ‘রুশ-বিরোধী প্রকল্প’ চালাচ্ছে।

পূর্ব ইউক্রেন নিয়ে ২০১৫ সালে মিনস্ক চুক্তি নামে আন্তর্জাতিক যে বোঝাপড়া হয়েছিল তা মানা হচ্ছে না বলেও রাশিয়া ক্ষুব্ধ এবং হতাশ।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ