Sheikh Rubel - (Tangail)
প্রকাশ ১৫/০২/২০২২ ০৭:৪৮পি এম

৩৪ বছর বয়সে যুবকের সুন্নতে খতনা, এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি

৩৪ বছর বয়সে যুবকের সুন্নতে খতনা,  এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি
ad image
টাঙ্গাইল ভূঞাপুরে ৩৪ বছর বয়সে মুসলমানি (সুন্নতে খাতনা) করেছেন বেলাল হোসেন নামের এক যুবক। অবিশ্বাস্য হলেও এমনি ঘটনায় এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছেন উপজেলার জিগাতলা গ্রামের মোঃ আব্দুল আজিজের ছেলে বেলাল হোসেন। গত ৬ জানুয়ারি সকালে অপারেশনের মাধ্যমে তিনি এ সুন্নতে খতনা সম্পন্ন করেন। টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. গোলাম মোস্তাফা মিয়ার তত্ত্বাবধানে তার (মুসলমানি) সুন্নতে খাতনা সম্পন্ন হয়।

জানা যায়, জন্মগত ভাবে বেলাল হোসেনের পুরুষাঙ্গের মাথার একপাশে কাঁটা ছিল। সবাই বলতো খোদার মুসলমানি হয়েছে। তাই আর মুসলমানি (সুন্নতে খাতনা) করানো হয়নি। তাদের ধারণা ছিল আর মুসলমানি করাতে হবে না। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর যখন বেলালের বিয়ের বয়স হলো তখন নানা মহল থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপবাদ আস্তে লাগল। তার বিয়ে উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গা থেকে কনের পক্ষ থেকে এলাকায় খোঁজ খবর নিতে আসলে ছেলের বিরুদ্ধে এলাকার কিছু লোক নানা বদনাম ও অপবাদ দিয়ে সে বিয়ে ভেঙে দিত বলে জানায় বেলাল হোসেন।

তারপর ২০১৮ সালের জুন মাসের ১৮ তারিখে তার একটা বিয়ে সম্পন্ন হয় কিন্তু তিন বছর সংসার করার পর ২০২১ সালের জুন মাসের ২৬ তারিখে তাদের স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হয়। এর পরেও বিয়ে করার ক্ষেত্রে তার একই সমস্যা দেখা দেয়। তাই এলাকার মানুষের অপবাদ ও বদনামের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিয়ের ৩বছর পর অর্থাৎ ৩৪ বছরে মুসলমানি করলেন বেলাল হোসেন।

বেলাল হোসেনের পিতা মোঃ আব্দুল আজিজ বলেন, ছোটকালেই বেলালের খোদার মুসলমানি হয়েছে। তাই তাকে আর মুসলমানি (সুন্নতে খাতনা) করানো হয়নি। কয়েক বছর আগে সে একটি বিয়ে করেন কিন্তু তিন বছর সংসার করার পর তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। অনেকেই ধারণা করছেন, হয়তো মুসলমানি বা সুন্নতে খাতনা না করার কারণেই এমন ঘটনা হয়েছে। তাই বেলাল কয়েকদিন আগে নিজেই টাঙ্গাইলে ডাক্তারের কাছে গিয়ে মুসলমানি করিয়েছে।

বেলাল হোসেন জানান, আমি যতটুকু জানি খাতনা করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এটি ইসলামের মৌলিক নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। শারীরিকভাবে শক্ত-সামর্থ্যবান হওয়ার পরই সুবিধাজনক সময় ছেলের খতনা করিয়ে দেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব। আমি ছোটকাল থেকে দেখছি সবাই মুসলমানি করছে কিন্তু আমি করছি না কেন? অভিভাবকদের প্রশ্ন করলে আমাকে বলতো তোমার মুসলমানি করতে হবে না। তোমাকে আল্লাহ তাআলা মুসলমানি করিয়েছে। তোমার খোদার মুসলমানি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের জুন মাসের ১৮ তারিখে আমার একটি মেয়ের সাথে বিয়ে হয়। দীর্ঘ তিন বছর সংসার করার পর কোন কারণে ২০২১ সালের জুন মাসের ২৬ তারিখে আমার স্ত্রীকে ডিভোর্স করি। আর তখন আমার প্রিয়জনেরা উল্লাস করেছিল। পরক্ষনে অবশ্যই প্রিয়জনদের উল্লাস বন্ধ হয়ে যায়।

আমাদের বিয়ে ডিভোর্সের পর বাবা-মা আমাকে বিয়ে করানোর অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কনে পক্ষ আমাদের এলাকায় খোঁজ খবর নিতে আসলে প্রিয়জনেরা বলতো ছেলের সমস্যা আছে। অনেক সময় বিয়ে প্রায় ঠিক হলেও এমন সময় প্রিয়জনেরা কনে পক্ষের কাছে নানা রকম সমস্যার কথা, অপবাদ ও বদনাম করলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিয়ে।

তিনি আরো জানান, আমি অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি কিন্তু উনারা বলেছে এটা কোন সমস্যা নয়। কারণ আমার জন্মগত ভাবে পুরুষাঙ্গের মাথার একপাশে কাঁটা ছিল। সবাই বলতো খোদার মুসলমানি হয়েছে। তিনি আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন, মনকে শান্ত করার জন্য এবং প্রিয়জনকে খুশি করতেই আমার আজকের এই মুসলমানি (সুন্নতে খাতনা)। গত (৬ জানুয়ারি) সকালে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. গোলাম মোস্তাফা মিয়ার তত্ত্বাবধানে মুসলমানি (সুন্নতে খাতনা) করলাম।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ