MD. SOHEL RANA - (Mymensingh)
প্রকাশ ০৮/০২/২০২২ ০৬:৩৯পি এম

ফুলে ফলে ভরা মুক্তাগাছায় নাগনিঙ্গম

ফুলে ফলে ভরা মুক্তাগাছায় নাগনিঙ্গম
ad image
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার আঠানীবাড়ি জমিদারবাড়ির জলটুঙ্গি পুকুর পাড়ে ফলে ফুলে ভরে উঠেছে প্রায় দু’শত বৎসরের পুরাতন তিনটি নাগলিঙ্গম গাছ। এই গাছে ফুল ধরার পর বেলের মতো গোল গোল ফল ধরে। এগুলো দেখতে কিছুটা সাপের ফনার মত। ফুলের রঙ অনেকটা লালচে কমলা বা লালচে গোলাপি হয়ে থাকে। ফুলে ৬টি মাংসল পুরু পাপড়ি থাকে। ফুলের মাঝে থাকে নাগের ফনা আকৃতির পরাগচক্র। ধারণা করা হয়, এর কারণেই এই ফুলের নাম হয়েছে নাগলিঙ্গম।

নাগলিঙ্গম এক প্রকার বিশাল বৃক্ষ, যার ফুলের নাম নাগলিঙ্গম ফুল। এর ইংরেজি নাম ‘ক্যানন বল’। ‘ল্যাসাইথিডেসিয়া’ পরিবারের নাগলিঙ্গমের বৈজ্ঞানিক নাম ‘করোপিতা গুইয়াসেসিস’। নাগলিঙ্গমের আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল। নাগলিঙ্গম গাছ ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। গুচ্ছ পাতাগুলো খুব লম্বা, সাধারণভাবে ৮ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। বছরের প্রায় সব ঋতুতেই এই গাছের পাতা ঝরে এবং কয়েক দিনের মধ্যে আবার নতুন পাতা গজায়।

মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ির ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, প্রায় তিন হাজার বছর আগে থেকেই গাছটি ভারত উপমহাদেশে একটি পবিত্র উদ্ভিদ বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শিব ও সর্প পূজায় নাগলিঙ্গম ফুল ব্যবহার করে থাকেন। বৌদ্ধদের মন্দিরেও এই ফুলের যথেষ্ট কদর রয়েছে।

ভেষজ গুণসম্পন্ন নাগলিঙ্গম গাছের ফুল,পাতা ও বাকলের নির্যাস পেটের পীড়া ও ম্যালেরিয়া এবং ডায়াবেটিস রোগ নিরাময়ে বেশ কার্যকরী। যেকারণে তৎকালীন সময়ে জমিদারবাড়ির প্রজাদের চিকিৎসার ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করতেন নাগলিঙ্গম গাছের ফুল ও ফল।

দ্রুত বর্ধনশীল নাগলিঙ্গমগাছে চারা রোপণের ১২-১৪ বছর পর গাছে ফুল ধরে। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে ফুল ফোটে। গাছের কাণ্ডভেদ করে বেরিয়ে আসে প্রায় ৭ ইঞ্চি দীর্ঘ অসংখ্য মঞ্জুরি। এক একটি মঞ্জুরিতে ১০-২০টি ফুল ক্রমান্বয়ে ফুটতে থাকে। মঞ্জুরির একদিকে নতুন ফুল ফোটে, অন্যদিকে পুরাতন ফুল ঝরে পড়ে।

ফলগুলো চকলেট রঙের। যার ব্যাস প্রায় ১৫ থেকে ২৪ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে। ফল পরিপক্ব হতে প্রায় এক বছর সময় নেয়। পরিপক্ব ফল মাটিতে পড়লে ফেটে যায়। বাতাসে খানিকটা ঝাঁজালো গন্ধ সৃষ্টি হয়। ফল মূলত পশুপাখির খাবার। মানুষের জন্য এ ফল অখাদ্য। একটি ফলে ২০০ থেকে ৩০০ বীজ থাকে। ফ্রান্সের একজন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী জেএফ আবলেট ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দে এর নামকরণ করেন।

বাংলাদেশে নাগলিঙ্গম খুব একটা দেখা যায় না। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বিশাল আকৃতির তিনটি নাগলিঙ্গম গাছ রয়েছে। তাছাড়াও ময়মনসিংহ গৌরীপুর,মুন্সীগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, কক্সবাজার, বান্দরবান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, নটর ডেম কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং চন্দ্রিমা উদ্যান, ঢাকা রমনা উদ্যানে ও মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে বিভিন্ন বয়সী কয়েকটি নাগলিঙ্গমগাছ রয়েছে বলে জানা যায়।

রাজা-জমিদারদের বাড়িতে কাজ বিশ্বঠাকারের স্থী মিরা রাণী ঠাকুর (৪২) যুগান্তরকে বলেন, অমার বিয়ে হয়েছে আজ ২৭ বছর পূর্ণ হলো। আমি শ্বশুরবাড়িতে এসে পর্যন্ত গাছ তিনটিকে একই রকম দেখছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ব‍্যাবস্থাপানা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মল্লিকা ঠাকুর বলেন, নাগনিঙ্গম গাছ মুক্তাগাছার ঐতিহ্যবাহী দু'শত বছরের পুরাতন গাছ। এর ফুল ও ফল দেখতে অনেক সুন্দর। মানুষ এটি খেতে না পারলেও আদিকাল থেকে এই গাছের ফুল ও ফল ঔষধ হিসাবে ব‍্যাবহার হয়ে আসছে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ