About Us
মোহাম্মদ হেলালুজ্জামান
প্রকাশ ২৩/০৮/২০২০ ১২:৫৭পি এম

সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে স্কুল পড়ুয়া যুবকরা!

সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে স্কুল পড়ুয়া যুবকরা! Ad Banner

আজকাল তরুণদের গন্ডি যেন অনেক ছোট হয়ে গেছে, তারা যেন নিজেদের গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া আর কাউকে চিনেই না। তারা বুদ্ হয়ে থাকে ইন্টারনেটের দুনিয়াতে। ফেসবুক হলো তাদের এক অন্যতম আলোচনা ও সময় কাটানোর মাধ্যম। এই সময় দেখা যায় ফেসবুকের গন্ডির বাইরে কাউকে যেন চিনতে নাই। অনেকেই তাদের নিজেদের পরিবারের কাছের কাউকেই যেন চিনে না। কারণ ইদানিং সবাই কেউ কারো বাড়িতে যাওয়া যেন এক অন্য কৃষ্টি, মনে করে। ভাবতেই অবাক লাগে এরা আজকের যুগে আপন মামা-খালা, কাকা-ফুপু বা কাজিনদেরও চিনে নেয় এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেই, বাস্তবে নয়।


সরাসরি কাউকে চিনতে পারে না। আজকের যুগের এই সামাজিক মাধ্যমটা আমাদের কতটুকু গতিশীল করছে তা জানি না তবে সবার মাঝে সামাজিক বন্ধনের মধ্যে একটা দূরত্ব সৃষ্টি করেছে তা বলতে পারি। আর যে বন্ধনের বলয় তৈরী হয়েছে তা অনেকটা কৃত্তিম এতে সত্যিকারের সামাজিকতা খুঁজে পাওয়া দুস্কর। তথাপিও আমাদের সবাইকে যুগের সাথে তাল মিলিয়েই চলতে হবে।


এই যান্ত্রিক যুগে অসৎ মানুষেদের গল্পের ভিড়ে খুঁজে পাই আশার আলো এই যুবকদের দিকে তাকালে। একটু ভিন্নতা পাওয়া গেলো কিছু তরুণদের কথা শুনে, যারা সদ্য এসএসসি পাসকরা বা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ুয়া কিছু সুন্দর মনের যুবক এরা। হ্যাঁ বলছিলাম গাজীপুরের মাইনুল, তানবির আহমেদ শুভ, নাবিদ, মুবারাত, আশরাফুল ইসলাম শুভ, শারিয়ার সিফাত, তন্ময়, তাসিনসহ আরো অনেক বন্ধু আছে এরা আজকের যুগেও যোগ করেছে একটু ভিন্নতা অর্থাৎ আগের যুগের কিছু সংমিশ্রণ। এই তরুণদের দলনেতা কলেজপড়ুয়া মাইনুল কিছু স্বপ্নবাজ তরুণদের সাথে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভিন্ন কিছু করার, অন্য কিছু গড়ার।


তারা ভাবলো, কিছু করতেই হবে, স্বপ্ন তাদের চোখজুড়ে ঢেউ খেলে। অথচ এদের কেউই উপার্জন করে না। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া এই তরুণদের সবাই নির্ভর করে তাদের পিত-মাতার দেয়া অর্থের যোগানের উপর। যেমন ভাবনা তেমন কাজ, হাতখরচের টাকা বাঁচিয়েই দুস্থ অসহায় মানুষদের পাশে এরা দাঁড়াবেই সম্মিলিতভাবে। হ্যাঁ এই তরুণরা তাদের মনের ইচ্ছা পূরণ করেছে। তারা গাজীপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায় কর্মহীন, অসহায়, দুস্থ পথের মানুষদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ৩৫ জন অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী, মাস্ক বিতরণ এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার এমনকি কিছু পরিবারকে আর্থিক ভাবে সহায়তা করা হয়েছে। এই কাজে তারা নিজেদের হাত খরচের অর্থের পাশাপাশি বড় ভাই বা অনেক অভিভাবকদের সহযোগিতা নিয়েছে।   


এদের সবাই গাজীপুরের সন্তান নাহলেও এরা আজ নিজেদের গাজীপুরের বাসিন্ধাই মনে করে। মির্জাপুর ক্যাডেট পড়ুয়া সদ্য এসএসসি পাশকরা তানবির এর বাড়ি পার্শবর্তী জেলা টাঙ্গাইলে। তার বাবার পেশার সুবাদেই সেই দুই বছর বয়স থেকে এই গাজীপুর সদর উপজেলার চান্দরা এলাকাতেই বসবাস করে আসছে। আজ সে নিজেকে মনে করে গাজীপুরের লোক। অন্য অনেকের ক্ষেত্রেই বলা যায় একই কথা তবে এদের কারো আদি পৈতৃক নিবাস এখানেই।  সংগঠনটির কো অর্ডিনেটর ক্যাডেট তানবির আহমেদ শুভ আলাপকালে আরো জানালো, মানুষের যে খাবারের কী চাহিদা! ঘরের বাহিরে পথের ধারে অবহেলায় বাসকরা মানুষদের কাছে না গেলে আসলেই বুঝা যায়না। হ্যাঁ প্রশান্তি লাগছে মনে।


অসহায় মুখের হাসি দেখাটাও অনেক সৌভাগ্যের! সকল যুবকদের মূল কথা হলো, আমরা মাঝে মধ্যেই জীবন থেকে হারিয়ে যাই, আমরা হারিয়ে ফেলি জীবনের উদ্দেশ্যে। তাই আমাদেরকে প্রতিনিয়ত জীবনকে খুঁজতে হয়, জীবনের আনন্দ, সুখ খুঁজতে হয়। কিন্তু আমরা জানি না ওই আনন্দ সুখ পাব কোথায়? এরকমই সুখের সন্ধানে একসময় একত্রিত হয়েছিলাম আমরা।  সকলের কাছে দোয়া চায়, তারা যেন সামনের পথে সকলের মাঝে ব্যাপক আকারে হাসি ফোটাতে, আনন্দ ছড়িয়ে দিতে এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে পারে।


নিজেদের হাতে জমানো টাকা দিয়ে নিজেদের মতো করে কিছু সামগ্রী কিনে নিজেদের হাতে শহরের গলি পথে বাস করা অসহায় মানুষদের মধ্যে বিতরণের মাঝে ঠিক যেন এই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা স্বর্গ সুখ খুঁজে বেড়ায়, এমনকি পেয়েছে। অথচ আজ আমরা কি দেখতেছি এই বৈশ্বিক করোনা দুর্যোগকালীন সময়েও একশ্রেণীর ক্ষমতাশালী, অসৎ ব্যবসায়ী বা জনপ্রতিনিধিদের কালো থাবার ছোবলে অতিষ্ট করে তুলছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। আমরা আরো প্রত্যাশা করি আমাদের এই ভিড়ে খুঁজে বেড়াই মাইনুল, তানবির আহমেদ শুভ, নাবিদ, মুবারাত, আশরাফুল, শারিয়ার, তন্ময়, তাসিনদের মুখ।   


হ্যাঁ এরা অসহায় মানুষদের মুখে খাবার তুলে দিয়ে যেমন প্রশান্তি খুঁজে বেড়ায় আমরাও প্রশান্তি খুঁজে পাবো যদি এদের মতো অসংখ্য তরুণ কাঁচা প্রাণের হাতেই ন্যাস্ত হয় আগামীর বাংলাদেশ। খুঁজে বেড়াই এই তরুণদের আর আমি প্রত্যাশা করি আর দুচোখ ভরে স্বপ্ন দেখি, এই বাংলাদেশ এদের হাতেই একদিন হবে নিরাপদ। অতএব মহোদয় সমীপে আমার আকুল আবেদন আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় লেখাটি প্রকাশে আপনার আজ্ঞা হয়।



শেয়ার করুন

সম্পর্কিত সংবাদ