HIMEL AHMED OPI - (Shariatpur)
প্রকাশ ৩১/০১/২০২২ ০৯:০২এ এম

৬৪ জেলা বাইকে ভ্রমণ করেন শরীয়তপুরের মাসুদ

৬৪ জেলা বাইকে ভ্রমণ করেন শরীয়তপুরের মাসুদ
ad image
শরীয়তপুর জেলার প্রথম বাইকার যিনি মোটরসাইকেলে চড়ে ঘুরেছেন দেশের ৬৪ জেলা।তিনি জাজিরার আহাদি মাদবর কান্দি গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের সহর আলী চৌকিদার ও নাসিমা বেগমের ছেলে মাসুদ রানা।বর্তমানে তিনি শরীয়তপুর সরকারি কলেজ প্রাণিবিজ্ঞান ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনা করছেন।

ভ্রমণ তৃষ্ণা থেকেই শুরু হয় তার ৬৪ জেলা ভ্রমণের গল্প।এই ভ্রমণ গল্পে ছিল তার অনেক ধরণের বাধা, ত্যাগ।সব প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হয়েও হার না মেনে অবশেষে পুরো করলো মাসুদের ৬৪ জেলা ঘুরার সপ্ন।

মাসুদ রানা জানায়, তার ভ্রমণের হাতেখড়ি বড় ভাই মামুন চৌকিদারের ব্যবহৃত মোটরসাইকেন দিয়ে।শুরুতে মাসুদ রানার মা নাসিমা বেগমকে নানা বাড়িতে দিয়ে আর নিয়ে আসার মধ্যেই ছিল তার মোটরসাইকেল চালানোর আগ্রহ ও চর্চা সূত্রপাত।

৬৪ জেলা এই ভ্রমণ গল্প শেয়ার করলেন মাসুদ রানা, তিনি জানান "আমি ক্লাস অষ্টম শ্রেণি পড়তাম তখন আমি ঠাকুরগাঁও পড়াশোনা করেছি ক্লাস নাইনের যখন আমি পড়াশোনা করি তখন খাগড়াছড়ি পড়াশোনা করেছি। বাংলাদেশে টা অনেক বড় আসলে যে অনেক ঘন্টার জার্নি করে যেতাম বাসে তারপর গিয়ে পৌঁছাইতাম। তখন ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যেতে প্রায় 11 ঘণ্টার মতো সময় লাগত বাসে। আর তখন থেকে মনে মনে ভাবতাম কোন একদিন বাইক নিয়ে আমি রাস্তা গুলো দিয়ে যাব একইভাবে মাথায় চিন্তা ভাবনা আসে, আমি বাইক নিয়ে এসব জায়গায় আসবো ঘুরতে এখনে তো পড়াশোনা করতাম একসময় বাইক নিয়ে ভ্রমণে আসবো পরিচিত এই শহরে।
ঠিক তখন থেকেই মনে মনে একটা সাহস জাগে যে একদিন আমি আসবো।


২০১৭ সালে নিজের বাইক হয়। মোটরসাইকেলের প্রতি দূর্বলতা বুঝতে পেরে পরিবার থেকে আম্মু একদিন হঠাৎ করে মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০১৭ শেষের দিকে আমার মাথায় ৬৪ জেলা ঘুরার ভূত চাপে। ২০১৭ শেষের দিকে আমি ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজ হাতে পেয়ে যাই। ২০১৮ তে স্মার্ট কার্ড পাই।

আমার ভ্রমণ গল্পের প্রথম ট্যুর ছিল শরীয়তপুর থেকে টাঙ্গাইল, যমুনা সেতু হয়ে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত। আমরা দুই বাইক চার বন্ধু মিলে যাই এই ট্যুরে ২০১৭ সালে শেষের দিকে।
আর আমি কখনোই ট্যুরের জন্য বাসা থেকে টাকা নিতাম না।
আম্মু যে হাত খরচের টাকা দিত ঐ টাকা বাচিয়ে দুই মাস তিন মাস পর পর একটা করে ট্যুর দিতাম।
২০১৮ তে প্রায় ১৫ জেলার কাছাকাছি ঘুরেছি । ২০১৯ এ আমরা সেই চার বন্ধু থেকে আবার তিন বন্ধু শুরু করলাম, প্রায় ২৫ টার মতো জেলা ঘুরলাম।

এভাবে দেখা গেল আমার প্রায় ২৮-৩০ টা জেলার ঘুরা শেষ । কিন্তু ঘুরে ফিরে আমি দেখচ্ছি এই ২৮ টা জেলার ভিতরে বারবার যাওয়া হচ্ছে নতুন কোন জেলায় যাওয়া হচ্ছে না ।
তারপর ২০২০ কক্সবাজার ট্যুর প্লানিং হয় তবে প্ল্যানিং করার পর যাওয়ার দিন রাত্রে পরিবারের সবাই অসম্মতি জানান,মন খারাপ হয়ে যায়। সকালে আমার এক ফ্রেন্ড ইমরান কে কল দেই ১টা বাইক নিয়ে চলে যাই দুই বন্ধু মিলে শরীয়তপুর থেকে কক্সবাজার-টেকনাফ পর্যন্ত।
২০২১ ডিসেম্বরে একসাথে বাকি ৩২ জেলার ঘুরতে বের হই। তখন তিনটা জেলা বাকি রয়ে যায়। বাকি তিনটা জেলা আমি ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শেষ করলাম।
এই ৬৪ জেলা ভ্রমণের ২৯ টা জেলা আমার ভাইয়ের ছেলে রফিকুলকে নিয়ে ভ্রমণ করি। শুধু ভ্রমণ না আমি প্রত্যেকটা জেলায় কিছু কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরেছি। বিখ্যাত খাবার খেতে মিস করি নাই। আর আমি বাইকিং কমিটির শুরু করে শরীয়তপুর বাইকার্স আর প্রতিটা জেলায় আমি বাইকিং গ্রুপ ভাই ব্রাদারের সাথে দেখা করছি এবং তাদের সাথে আমি ঘুরেছি। আমাকে ঘুরতে হেল্প করতো প্রত্যেক জেলার ভাই ব্রাদার্স।

সারা বাংলাদেশ ভ্রমণ করা এক অনুভূতি অতুলনীয় । প্রতিটা জেলার দর্শনীয় স্থান এবং বিখ্যাত খাবার খেয়েছি, এটা আমার সৌভাগ্য। অনেক পাহাড়-পর্বত, নদী, কাদামাটি, বালু সবকিছু সম্মুখীন হতে হয়েছে আমার বাইক নিয়ে।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ