সম্পাদনাঃ শামীম বখতিয়ার - (Dhaka)
প্রকাশ ২০/০১/২০২২ ০৮:৩১পি এম

Democracy: সামিট ফর ডেমোক্রেসি

Democracy: সামিট ফর ডেমোক্রেসি
ad image
গত ৯ ও ১০ ডিসেম্বর-২০২১ বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা জো বাইডেনের নেতৃত্বে একটি ভার্চুয়ালি গণতন্ত্র সম্মেলন আয়োজন করেছিলেন। এ সম্মেলনে ১১০টির বেশি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সম্মেলনে পাকিস্তান, ইরাকের মতো দেশ দাওয়াত পেলেও তালিকায় নেই বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে দেওয়া তালিকা থেকে এ তথ্য জানা যায়। খবর এনডিটিভির।

জব্দ হতে চলেছে দুর্নীতিবাজদের অর্থ সম্পদ ঘর বাড়ি। ভেঙ্গে পড়বে কি দুনীতিবাজদের অপরাধ জগত? শেষ হবে কি এই অপরাধের রাজত্ব? শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতির শেষ কোথায়?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর নেতৃত্বে এই প্রথম একটি গণতান্ত্রিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবারের গণতন্ত্র সম্মেলনে বিশ্বের 110 টির ও বেশি দেশ অংশগ্রহণ করে। যেখানে বাংলাদেশের নাম নেই যে কারণে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব কেউ করতে পারেনি। তারমানে আমরা কি বুঝতে পারছি বাংলাদেশে গণতন্ত্রের দেশ নয়?

এবারের গণতন্ত্র সম্মেলনে তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। (১) জোর করে ক্ষমতায় থাকা, 2মানবাধিকার লঙ্গন লংঘন 3 দেশের অর্থ সম্পদ আত্মসাৎ করার মাধ্যমে লুটপাটের জড়িয়ে পড়া।

এই তিনটি কার্যকর একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয় তখন সে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকারের যে একটা মর্যাদা থাকে সেগুলোকে হবির মধ্যে পড়ে যায় আর সেখানে গণতন্ত্রের আদেশ প্রত্যাদেশ নিয়মকানুন কোন কিছু তোয়াক্কা করা হয় না যে কারণে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয় ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত হয় জনগণ, নিজেদের স্বাধীনতা খর্ব হয়, এক্সট্রাজুদিশিয়াল কিল্লিং হয়।

দেশের অর্থ সম্পদ লুটপাট করে বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম তৈরি করে সুইস ব্যাংকে অর্থের পাহাড় গড়ে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থের পাহাড় গড়ে। ¹ (সামিট ফর ডেমোক্রেসি) এই দেশগুলো যারা শামে ফর ডেমোক্রেসিতে উপস্থিত হয়েছিলেন তাদের সঙ্গে সে দেশের গণতন্ত্রের যেসকল বস্তুনিষ্ঠ দিকনির্দেশনা রয়েছে সেগুলোকে নতুন করে তুলে ধরা এবং যারা এই গণতন্ত্রকামী দেশগুলোর ভিতরে অরাজকতা করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া।

আর যে সমস্ত দেশ গুলো সেই গণতন্ত্রের সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি তাদেরকে ধরে নেয়া হয়েছে একনায়কতন্ত্রের দেশ যার ভেতরে রয়েছে রাশিয়া উত্তর কোরিয়া চীন বাংলাদেশ এমন আরও বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে যারা সেই গণতন্ত্রের সম্মেলনে উপস্থিত ছিল না বা তাদেরকে কোনভাবেই নিমন্ত্রণ করা হয়নি। এখন কথা হচ্ছে এই সমস্ত দেশ গুলো যারা উপস্থিত হয়েছিল তাদের নির্দেশনা কি দিকনির্দেশনা কিভাবে দেয়া হলো।

যে সমস্ত দেশ দুর্নীতিতে শীর্ষে রয়েছে যে সমস্ত দেশে দেমোক্রেসি লংঘন হচ্ছে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে গণতন্ত্র লংঘন হচ্ছে কিংবা যে সমস্ত দেশের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা এ দেশের অর্থ সম্পদ লুটপাট করে অন্য দেশে ঘরবাড়ি বানাচ্ছে পাচার করছে তাদেরকে থামিয়ে দেয়া।

এই গণতন্ত্র সম্মেলনে যে আইনগুলো পাস হয়েছে সে আইনের বাইরে কেউ যেতে পারবেনা আমেরিকা যেভাবে তাদের কে পরিচালনা করবে ঠিক সেভাবেই তারা পরিচালিত হবে এটাই বাস্তবতা। যাদের উপরে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তারা কোনোভাবেই সেই দেশগুলোতে প্রবেশ করতে পারবে না যে দেশগুলো সেই গণতন্ত্র সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন।

এমনকি সেই সমস্ত পরিবারের মানুষেরা যারা দেশের বাইরে রয়েছে তারাও বেশ ভালোভাবেই বিপদের সম্মুখীন হবে কারণ তারা যদি সে দেশে থেকে থাকে তাহলে তাদের কোনভাবেই দেশ থেকে টাকা পাঠাতে পারবেনা।


দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সমতার রাজনীতিতে ফিরতে হবে। লুটপাটের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সেবা'র রাজনীতিতে ফিরতে হবে। প্রথম হোম এর পরে সেকেন্ড হোম ধোপে টিকবে না পেশিশক্তি ক্ষমতার জোর আর আইনের মাধ্যমে করা অপরাধ সাময়িক আপনাকে তৃপ্ত করলেও যখন আপনার হাতে আর কোন কিছু থাকবে না তখন আপনাকে নাঙ্গা করবে।

অপরাধ, অন্যায়, ঘুষ কেলেঙ্কারি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা জুলুম-নির্যাতন করে ক্ষমতার জোরে প্রভাব খাটিয়ে আইনের অসদ্ব্যবহার এর মাধ্যমে আপনি সাময়িক পার পেয়ে যেতে পারেন কিন্তু আইন যখন আপনার হাত থেকে ছুটে যাবে শক্তি যখন ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যাবে তখন আপনাকে তার সম্মুখীন হতেই হবে।

আজ আপনি আপনার ক্ষমতাবলে একেঅপরকে অপমান করছেন নাঙ্গা করছেন কাল আপনার ক্ষমতা যখন চলে যাবে তখন নাঙ্গা হতে সময় লাগবে না। আমাদের এই মহাজগতে যখন কোন কর্ম করবেন সেই কর্মের প্রত্যেকটির যদি জবাবদিহিতা থাকে তবে তার মানে ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া আছে আপনি যে কোন ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া থেকে বাঁচতে পারবেন না।

রাজনীতিবিদদের জন্য এখন ভাবার সময় এসেছে তারা কি চায় তাদের কি করতে হবে যারা অপরাধ অন্যায় জুলুম নির্যাতন দখলদারিত্ব আইনের অসদ্ব্যবহার শক্তির অসদ্ব্যবহার ক্ষমতার অপব্যবহার করতে করতে অনেক বেশি করে ফেলেছে তাদের তো কোন রক্ষা নেই সেকেন্ড হোম যখন বাজেয়াপ্ত হবে প্রথম হোম তখন বিষাক্রান্ত হবে আর এই বিষক্রিয়ার কারণে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়বে মরণব্যাধি যে মরণব্যাধি আইনের মারপ্যাঁচে কর্মের প্রতি ফল হিসেবে আপনার জীবনে দ্রুত পতন এর দ্বার উন্মোচন করবে। শুধু এটুকু মনে রাখবেন ক্ষমতা কারও জন্যই স্থায়ী নয় গদি কোন স্থায়ী ঠিকানা নয় এই লোভ নামের রোগটি যাকে পেয়ে বসে তার পতন ছাড়া আর গতি থাকে না।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ