Md.Rejoan ullah - (Satkhira)
প্রকাশ ২০/০১/২০২২ ০২:২২এ এম

ছয় মাসেই ৫ কোটি রাজস্ব আয় তবুও নেই ভবন

ছয় মাসেই ৫ কোটি রাজস্ব আয় তবুও  নেই ভবন
ad image
সাতক্ষীরার কলারোয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আঙ্গিনায় যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার স্তুপের দুর্গন্ধে নাভিশ্বাসে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জমি রেজিষ্ট্রেশন করতে আসা সাধারণ মানুষেরা৷ এমনকি অফিসের সামনের জায়গা দখল নিয়ে স্থানীয়রা হোটেল তৈরি করছেন বলে নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ জানিয়েছেন সাব রেজিস্ট্রার কর্মকতা মঞ্জরুল হাসান৷

বুধবার (১৯জানুয়ারি) দুপুরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে বেহাল দশার খবর শুনে সরোজমিনে পরিদর্শন করেন কলারোয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লালটু৷ সরোজমিনে পরিদর্শন করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের যে ইট এবং ময়লার স্তুপ রয়েছে তা আসলেই অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়৷ এমনকি উপজেলা পরিষদের জমি দখল নিয়ে যে হোটেল তৈরি হচ্ছে হোটেলের মালিক কতৃপক্ষকে পরিষদের জমি ছেড়ে হোটেল নির্মাণ করার জন্য বলা হয়েছে৷ রেজিস্ট্রি অফিসের আবর্জনার যে অংশ সামনে রয়েছে তা দুই দিনের মধ্যেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসার নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছেন বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখার জন্য আহ্বান করেন তিনি৷ তিনি আরো বলেন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মালিকানাধীন জমি ভবন নেই৷ নির্দিষ্ট জমি ও একটি ভবনের প্রস্তুতির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে৷

উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা মোঃ মঞ্জুরুল হাসান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নির্দিষ্ট কোন ভবন না থাকায় নকল নবিশ দলিল লেখক ও অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাজের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে৷ এজন্য অফিসের এমন দুঃখ দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা প্রশাসনসহ জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি৷ এ সময় তিনি আরো বলেন অফিসের সামনের স্থানীয়দের কিছু ইট ও যত্রতত্র ময়লা রাখায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে ময়লা ইট ও অবৈধ জায়গা দখল অপসারণ করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ জানানো হয়েছে৷ হোটেল মালিক কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিনের নিজেদের জমির উপরে হোটেল করা হচ্ছে তবুও যদি উপজেলা পরিষদের জমিতে এক হাতও নেওয়া হয়ে থাকে তবুও সেটা সরিয়ে নেয়া হবে৷

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও জুবায়ের হোসেন চৌধুরী জানান জানায়, বিষয়টির তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ সাবরেজিস্টার অফিস সূত্রে জানা যায়, গতবছর ইংরেজি জুলাই মাস থেকে ডিসেম্বর ছয় মাসে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রি অফিসে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ কোটি ২ লক্ষ ৫৪ হাজার ২ টাকা ৫০ পয়সা এবং ৩ হাজার ৭৭৭টি দলিল রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়েছে৷ এর মধ্যে কেবল স্থানীয় সরকারের কর আদায় হয়েছে ছয় মাসেই ২ কোটি ৭ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৫৩ টাকা ২৫ পয়সা৷

দলিল লেখক আব্দুল মালেক বলেন, ১৯৯২ সালের পূর্বে উপজেলাতে সহকারী জজ আদালতের কার্যক্রম যেখানে চলত সেখানেই এখন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম চলে ৷ কিন্তু আজও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোন ভবন বা মালিকানা স্বত্ব নেই যে কারণে অফিসের সকল কর্মচারীদের জন্য সুযোগ-সুবিধাও বন্ধ নেই ভবন ল্যাটিন সুপেয় পানির ব্যবস্থা বসন্তের ছোট্ট কক্ষে ৫ জনের বসার জায়গাতে অনেক কষ্ট করে ১২জন করে অতিরিক্ত মেহরার নকল নবিশ কাজ করেন ৷ সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও যেমন নেই তেমনি স্যানিটেশনের ভালো ব্যবস্থাও নেই তবে এ সকল জর্জরিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন কর্মরত কর্মচারী ও স্থানীয় নাগরিক৷

এ বিষয়ে উপজেলা সুজনের সহসভাপতি আজাদুর রহমান খান চৌধুরী পলাশ বলেন, উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সাব-রেজিস্ট্রি অফিস যেখান থেকেই সরকার প্রতি মাসেই কোটি টাকার মতো রাজস্ব আয় করে থাকে৷ ভবন না থাকায় ছোট্ট ছোট্ট কক্ষে একাধিক মানুষের ঠাসাঠাসি ভাবে বসে কাজ করতে হয় কর্মরত কর্মচারী দলিল নবিশদের৷ তবে একটি ভবন অতি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের নামে জায়গা বরাদ্দ পেলে যেমন আঙ্গিনা গুলো সুন্দর হবে তেমনি কাজের অগ্রগতির সাথে সাথে দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে৷

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ