Azizur Rahman babu - (Shariatpur)
প্রকাশ ১৯/০১/২০২২ ১২:৫০পি এম

দেলোয়ারের কান্না কেউ শোনে না ?

দেলোয়ারের কান্না কেউ শোনে না ?
ad image
নিজের এক ইঞ্চি জমিও নেই দেলোয়ার খলিফার। সংসারে স্বচ্ছলতার আশায় পটুয়াখালী কলাপাড়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ঢালে গত কয়েক বছর চাষ করেছিলেন তরমুজ। এবার একটু বড় উদ্যোগে তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছিলেন দুই লাখ টাকা। রোপন করেছিলেন ১৫ হাজার তরমুজ গাছ।

কতৃপক্ষের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতিও নিয়েছিলেন। তরমুজ গাছগুলো সবার নজর কেড়েছিল। মাসখানেক পরেই বিক্রি উপযোগী হবে তরমুজ। উচ্চফলন প্রত্যাশায় সময় ব্যয় করছিলেন স্বামী-স্ত্রী। গতবছর এই তরমুজ বিক্রি স্বচ্ছলতা আসে সংসারে। তরমুজ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের স্বপ্নও বড় করছিলেন দেলোয়ার খলিফা। গরীবের সুখ যে সহজে আসেনা।

রোববার হঠাৎ পাউবোর প্রকৌশলী মনির এবং তার সহযোগী সার্ভেয়ার হাসানসহ ৬-৭ জন এসে দেলোয়ার খলিফার প্রায় ১৫ হাজার গাছের ১০ হাজার তরমুজ গাছ একযোগে উপড়ে ফেলেন।কর্মকর্তাদের হাতে-পায়ে ধরে কেঁদেছেন দেলোয়ার খলিফা ও তার স্ত্রী সালমা বেগম। মাত্র একটা মাস, এরপরেই বিক্রি করা যেত তরমুজগুলো। কিন্তু মন গলেনি ওই কর্মকর্তার। এমন নির্মমতা স্হানীয়মহলকে বিস্মিত করেছে।

গ্রামের সাধারণ মানুষ অসহায় দেলোয়ারের এমন সর্বনাশ ঠেকাতে সবাই অনুরোধ করেছেন কর্মকর্তাদের। বিপুলসংখ্যক মানুষের অনুরোধও গ্রাহ্য করেননি তারা। সবার সামনেই গাছগুলো নিজের হাতেই উপরে ফেলেছেন। পাশে দাঁড়িয়েই অঝোরে চোখের জল ফেলেছেন দেলোয়ার খলিফা আর সালমা বেগম। নিজেদের শ্রম আর ঘামে ভেজা স্বপ্নগুলোর মৃত্যু দেখছিলেন নিজ চোখে। কিন্তু কিছুই করার ছিলনা। ক্ষমতার কাছে গরীবের কান্নার কোন মূল্য নেই।

সারা দেশে পাউবোর সাড়ে সাত হাজার একর জমি বেদখলে। যার আনুমানিক মূল্যে প্রায় বিশ হাজার কোটি টাকা। হোমরা-চোমরা আর প্রভাবশালীরা এসব জমি দখল করে রেখেছেন। যাদের একটা চুল ছেড়ার ক্ষমতা এসব তথাকথিত কর্মকর্তাদের নেই।

ভূমিহীন দেলোয়ার খলিফা পাউবোর জমি দখল করেননি। রাস্তার ঢালে তরমুজ চাষ করে স্বচ্ছলতা আনতে চেয়েছিলেন। এটাই তার অপরাধ।

সরকারের হাজার হাজার একর জমি পতিত হয়ে পড়ে আছে। সরকারী জমি সরকারী কর্মকর্তা চাষবাস করছেন। এমন নজীরও আছে।

একজন ভূমিহীন হতদরিদ্র যদি চাষ করে নিজের ভাগ্য ফেরাতে পারে তাহলে খুব কী অপরাধ হয়ে যাবে ?

প্রকৌশলী মনির এবং সার্ভেয়ার হাসান কোন আইনের ক্ষমতাবলে দেলোয়ারের ফলবান ১০ হাজার তরমুজ উপড়ে ফেল্লেন ?

আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পদস্হ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি । বর্গা চাষি হিসেবেও তার চাষাবাদের অর্ধেক ফসল ভূমিহীন দেলোয়ার পেতে পারতেন। বাস্তবতায় কী পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা নিজের করা আইনেই খবরদারি করেন ? প্রভাবশালী দখলদারের কাছ থেকে মাসিক মাসোয়ারা নিয়ে নিজের পকেট ভারি করছেন আর গরীবদের পেটে লাত্থি মেরে ভাগ্যটাকে রক্তাক্ত করেন ?

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ