A. Jahan Ovee - (Dhaka)
প্রকাশ ১৯/০১/২০২২ ০৩:৫৫পি এম

Actress Murder: শিমুর লাশ গাড়িতে নিয়ে দিনভর ঘুরেছিলেন নোবেল-ফরহাদ

Actress Murder: শিমুর লাশ গাড়িতে নিয়ে দিনভর ঘুরেছিলেন নোবেল-ফরহাদ
ad image
অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু হত্যার রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। লাশের বস্তার একটি সুতার যোগসূত্র ধরে হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়। এ ঘটনায় শিমুর স্বামী স্বামী সাখাওয়াত আলী নোবেল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছেন ঢাকা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সরদার।

শিমু হত্যায় তাঁর স্বামী ও তাঁর বাল্যবন্ধু গাড়িচালক এস এম ওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকে (৪৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত সূত্র জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে শিমুর পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে ও শিমুর বাসায় গিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে। এ সময় একটি প্লাস্টিকের দড়ির সূত্র ধরে উদঘাটিত হয় হত্যার মূল রহস্য।

সূত্র জানায়, লাশ গুম করতে বস্তা দুটি যে প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে সেলাই করা হয়েছিল, সেই দড়ির হুবহু এক বান্ডিল শিমুর স্বামী নোবেলের গাড়িতে পাওয়া যায়। দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে গাড়িটি ধোয়া হয়।তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোবেলকে আটক করে পুলিশ।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় জিজ্ঞাসাবাদের পর নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। শিমুর স্বামী জানান, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি শিমুকে গলাটিপে হত্যা করেছেন। ১৬ জানুয়ারি (রোববার) সকাল ৭টা-৮টার দিকে তিনি শিমুকে হত্যা করেন। এরপর ফরহাদকে মুঠোফোনে কল করে ডেকে নেন। পরে ফরহাদ ও নোবেল বাইরে থেকে বস্তা এনে শিমুর লাশ লম্বালম্বিভাবে দুটি পাটের বস্তায় ভরে প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে সেলাই করেন। এরপর বাড়ির দারোয়ানকে নাশতা আনতে বাইরে পাঠিয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির পেছনের আসনে শিমুর লাশ নিয়ে বেরিয়ে যান। প্রথমে নোবেল ও ফরহাদ লাশ নিয়ে মিরপুরের দিকে যান। কিন্তু সেখানে লাশ গুম করতে না পেরে আবার বাসায় ফেরেন। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় আবার তারা লাশ গুম করতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা ব্রিজ হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার হজরতপুর ইউনিয়নের দিকে যান। সেখানে রাত সাড়ে নয়টার দিকে কদমতলী এলাকার আলীপুর ব্রিজের ৩০০ গজ দূরে সড়কের পাশে ঝোপের ভেতর ফেলে দেন লাশটি।

পুলিশ জানায়, অভিনেত্রী শিমুর স্বামী নোবেল ও তার বন্ধু ফরহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা দুজনই মাদকাসক্ত ও বেকার।

এর আগে সোমবার শিমুর মরদেহ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে নোবেল ও ফরহাদকে আসামি করে মামলা করেন।

উল্লেখ্য, সিনেমার পাশাপাশি নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতেন শিমু। সাম্প্রতিক সময়ে 'ফ্যামিলি ক্রাইসিস' নামে একটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত 'বর্তমান' সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় তার অভিষেক হয়। এরপর ২৩টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ৫০টিরও বেশি নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাও করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ