MD. MAMUNUR RASID - (Lalmonirhat)
প্রকাশ ০৮/০১/২০২২ ০৮:৩৩পি এম

Lalmonirhat: পুলিশ হেফাজতে হিমাংশুর মৃত্যুতে ব্যাপক চাঞ্চল্য

Lalmonirhat: পুলিশ হেফাজতে হিমাংশুর মৃত্যুতে ব্যাপক চাঞ্চল্য
ad image
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্ত্রীর মৃত্যুর কারণ জানতে স্বামী হিমাংশু রায়কে আটক করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নারী ও শিশু হেল্পডেস্ক কক্ষে একা রেখে কর্তব্যরত কর্মকর্তাগণ খাবার খেতে গেলে কেউ না থাকায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।

শুক্রবার সকালে হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কাদমা মালদাপাড়া থেকে ছবিতা রানী (৩০) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার স্বামী হিমাংশু রায়কে মৃত্যুর কারণ জানতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ হেফাজতে তার স্বামী হিমাংশুর মৃত্যু হয়।

রাতে লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের বিশেষ শাখার দেওয়া এক প্রেস রিলিসের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানানো হয়, শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) রাত সারে ১২ টা (৭ জানুয়ারি) থেকে শনিবার (৭ জানুয়ারি) ভোর ৫ টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো সময় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কাদমা মালদা পাড়া গ্রামের মনোরঞ্জন রায়ের মেয়ে সাবিত্রী রানী (৩০) স্বামী হিমাংশু চন্দ্র রায়ের বাড়ির তুলসী গাছের সামনে তার মরোদেহ পাওয়া যায়। ভিকটিম সাবিত্রী রানী অজ্ঞাত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ভিকটিমের মৃত্যুর বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি হলে, হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনাস্থল থেকে সাবিত্রীর স্বামী হিমাংশু চন্দ্র বর্মণ (৩৫), পিতা বিশ্বেশ্বর বর্মণ, মেয়ে প্রিয়াঙ্কা বর্মণ (১৩) এবং ভিকটিমের ভাই শ্রী খগেন রায় গনের নিকট হতে এজাহার গ্রহন ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসেন। থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কের কক্ষের ভেতর রেখে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিছু সময় জিজ্ঞাসাবাদ করার পর অফিসারগণ খাবার গ্রহণ করার জন্য গেলে বিকেল ৩টা ১৫ মিনিট থেকে ৩টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে হিমাংশু নারী ও শিশু হেল্প ডেস্ক এর ভেতর থাকা ব্রডব্যান্ডের তার গলায় পেচিয়ে উত্তর দিকের জানালার গ্রিলের সাথে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছেন। অন্যান্য ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। গোপন নজরদারি অব্যাহত আছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াধীন।

আর এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ওসি এরশাদুল আলম বলেন, ওই এলাকার বিশেশ্বর রায়ের পুত্র হিমাংশু রায়ের বাড়িতে তার স্ত্রী ছবিতা রানীর মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধারসহ মৃত্যুর কারণ জানতে ওই নারীর স্বামী হিমাংশু রায়কে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানার একটি রুমে রাখা হয়। সেই রুমে হিমাংশু রায় আত্নহত্যার চেষ্টা করেন। টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে শুক্রবার রাতে হাতিবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মরোদেহ নিতে আসা হিমাংশুর বড় ভাই সুধীরচন্দ্র ও স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আর ঐ এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে নানা সমালোচনার ঝর।

শেয়ার করুন

ad image

সম্পর্কিত সংবাদ